আন্তর্জাতিক ডেস্ক
মোজতবা খামেনি, যিনি ইরানের সর্বশেষ সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন, সম্ভবত এখনও জীবিত আছেন, তবে তিনি আহত অবস্থায় থাকতে পারেন। যুক্তরাষ্ট্রের প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এক সাক্ষাৎকারে এই বিষয়টি উল্লেখ করেছেন। আলজাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ফক্স নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, “যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরানে হামলার প্রথম দিনেই মোজতবা খামেনি আহত হওয়ার খবর আমাদের কাছে পৌঁছেছে। তিনি হয়তো দুর্বল বা আহত, তবে বেঁচে আছেন।”
ইরানের রাষ্ট্রায়ত্ত টেলিভিশনে বৃহস্পতিবার প্রকাশিত একটি বিবৃতি মোজতবা খামেনির সর্বোচ্চ নেতা হওয়ার পর প্রথম বার্তা হিসেবে পাঠ করা হয়েছে। তবে বিবৃতিতে তার সুনির্দিষ্ট স্বাস্থ্য পরিস্থিতি উল্লেখ করা হয়নি।
এর আগে সাইপ্রাসে নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ‘দ্য গার্ডিয়ান’-কে জানিয়েছেন, ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের উপর হামলার সময় মোজতবা খামেনি আহত হন। একই ঘটনার সময় তার বাবা, ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আলী খামেনি এবং পরিবারের কয়েকজন সদস্য নিহত হয়েছেন।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য মিরর ইউএসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মোজতবা খামেনি গুরুতর আহত হয়ে কোমায় থাকতে পারেন। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, হামলার ফলে তার অন্তত একটি পায় কেটে ফেলা হয়েছে এবং পেট বা লিভারেও গুরুতর আঘাত লেগেছে। তবে তার আহত হওয়ার সুনির্দিষ্ট দিনটি নিশ্চিত নয়।
বর্তমানে তার চিকিৎসা নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে দেওয়া হচ্ছে। তবে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা এবং বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম এই তথ্যগুলোকে যাচাই করতে পারেনি। ইরানের রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান থেকে কোনও স্বতন্ত্র বা আনুষ্ঠানিক তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এমন সংবাদের কারণে ইরানের রাজনৈতিক অঙ্গন এবং মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলের স্থিতিশীলতার উপর প্রভাব পড়তে পারে। এর ফলে আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক সম্পর্ক এবং যুক্তরাষ্ট্র-ইরান, ইসরায়েল-ইরান সম্পর্কের উপর অস্থিরতা সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
সম্প্রতি ছড়ানো বিভিন্ন রিপোর্ট এবং ট্রাম্পের মন্তব্যের মধ্যে মিল বা বৈপরীত্য নির্ণয় করা এখনো কঠিন। তাই মোজতবা খামেনির স্বাস্থ্য এবং নিরাপত্তা সম্পর্কে নিশ্চিত তথ্যের জন্য আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা সতর্কভাবে অপেক্ষা করছেন।


