কাতারে আটকে পড়া ৪৩০ বাংলাদেশি বিশেষ ফ্লাইটে দেশে ফিরেছেন

কাতারে আটকে পড়া ৪৩০ বাংলাদেশি বিশেষ ফ্লাইটে দেশে ফিরেছেন

জাতীয় ডেস্ক

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে কাতারে আটকে পড়া ৪৩০ জন বাংলাদেশি বিশেষ ব্যবস্থায় দেশে ফিরেছেন। শুক্রবার সন্ধ্যা ৭টা ১০ মিনিটে তাদের বহনকারী কাতার এয়ারওয়েজের একটি বিশেষ ফ্লাইট ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে।

বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন এস এম রাগীব সামাদ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে বিভিন্ন ফ্লাইট বাতিল হওয়ায় কাতারে অবস্থানরত অনেক বাংলাদেশি দেশে ফিরতে পারছিলেন না। তাদের মধ্যে ট্রানজিটে থাকা যাত্রী এবং বাংলাদেশ দূতাবাসের কিছু কর্মীও ছিলেন। পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে বাংলাদেশ সরকার কাতার কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে বিশেষ ফ্লাইটের মাধ্যমে এসব যাত্রীকে নিরাপদে দেশে ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা করে।

বিমানবন্দর সূত্রে জানা যায়, ফ্লাইটটি অবতরণের পর যাত্রীদের প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করে দ্রুত বেরিয়ে যাওয়ার ব্যবস্থা করা হয়। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তত্ত্বাবধানে স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা সংক্রান্ত প্রাথমিক প্রক্রিয়াও সম্পন্ন করা হয়েছে। যাত্রীদের অনেকেই দীর্ঘ সময় ধরে কাতারে অবস্থান করছিলেন এবং অনিশ্চয়তার মধ্যে ছিলেন বলে জানা গেছে।

মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে সাম্প্রতিক সময়ে সংঘাত ও নিরাপত্তা পরিস্থিতি অবনতির কারণে আন্তর্জাতিক বিমান চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি হয়েছে। এর ফলে আঞ্চলিক কিছু রুটে ফ্লাইট বাতিল বা স্থগিত করা হয়েছে, যার প্রভাব পড়েছে ট্রানজিট যাত্রীদের ওপরও। কাতার হয়ে বিভিন্ন দেশে যাতায়াতকারী অনেক বাংলাদেশি যাত্রীও এর কারণে আটকে পড়েন।

এ পরিস্থিতিতে প্রবাসী বাংলাদেশিদের সহায়তা দিতে কাতারে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস জরুরি উদ্যোগ গ্রহণ করে। দূতাবাস সূত্রে জানা যায়, আটকে পড়া যাত্রীদের তথ্য সংগ্রহ এবং তাদের দেশে ফেরার প্রক্রিয়া সহজ করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত রাখা হয়।

এর আগে ১১ মার্চ জারি করা এক জরুরি বার্তায় দূতাবাস জানায়, ক্ষতিগ্রস্ত বাংলাদেশি নাগরিকদের সহায়তার জন্য কাতার সরকার এবং কাতার এয়ারওয়েজের সঙ্গে নিবিড় সমন্বয় করা হচ্ছে। একই সঙ্গে দেশে ফেরার আগ্রহী যাত্রীদের একটি তালিকা প্রস্তুত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়।

দূতাবাসের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বিশেষ ফ্লাইটে যাত্রী নির্বাচনের ক্ষেত্রে পরিবার, নারী, শিশু এবং বয়স্কদের অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। এছাড়া যারা দীর্ঘ সময় ধরে ট্রানজিটে আটকে ছিলেন বা জরুরি কারণে দেশে ফেরার প্রয়োজন রয়েছে, তাদের বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হয়।

এ উদ্দেশ্যে আগ্রহী যাত্রীদের তথ্য সংগ্রহ করতে দূতাবাসের সরকারি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্ল্যাটফর্মে একটি অনলাইন ফরমের লিংক প্রকাশ করা হয়। সংশ্লিষ্ট ফরমের মাধ্যমে আটকে পড়া বাংলাদেশিদের ব্যক্তিগত তথ্য ও ভ্রমণ সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় তথ্য জমা দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছিল।

কূটনৈতিক সূত্রে জানা গেছে, প্রবাসী বাংলাদেশিদের নিরাপত্তা ও সহায়তা নিশ্চিত করতে বিদেশে অবস্থিত বাংলাদেশ মিশনগুলো পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। ভবিষ্যতেও যদি অনুরূপ পরিস্থিতিতে বাংলাদেশি নাগরিকরা সমস্যার মুখে পড়েন, তবে তাদের সহায়তায় প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

এদিকে দেশে ফিরে আসা যাত্রীদের অনেকেই দীর্ঘ অনিশ্চয়তার পর নিরাপদে দেশে ফিরতে পেরে স্বস্তি প্রকাশ করেছেন। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, পরিস্থিতি অনুযায়ী প্রয়োজন হলে ভবিষ্যতেও এ ধরনের বিশেষ ফ্লাইট পরিচালনার বিষয়টি বিবেচনা করা হতে পারে।

জাতীয় শীর্ষ সংবাদ