জাতীয় ডেস্ক
ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) ঈদুল ফিতর উপলক্ষে যান চলাচল নিয়ন্ত্রণের জন্য নগরবাসী ও সংশ্লিষ্টদের জন্য বিশেষ নির্দেশনা জারি করেছে। ডিএমপি বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) এক গণবিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে আসন্ন ঈদযাত্রায় ঘরমুখী মানুষের যাত্রা সহজ ও নিরাপদ করার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছে।
বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, আগামী ১৭ থেকে ২৩ মার্চ পর্যন্ত মহাসড়কে ট্রাক, কাভার্ড ভ্যান ও লরীর চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ থাকবে। তবে নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যদ্রব্য, পচনশীল দ্রব্য, গার্মেন্টস সামগ্রী, ঔষধ, সার ও জ্বালানি বহনকারী যানবাহন এ নিয়মের আওতামুক্ত থাকবে।
ডিএমপি আরও জানিয়েছে, ১৬ মার্চ থেকে মহানগরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক জুড়ে ঈদ যাত্রা সংক্রান্ত যানবাহনের চলাচল নির্বিঘ্ন করতে অন্যান্য যানবাহনকে বিকল্প সড়ক ব্যবহার করার জন্য অনুরোধ করা হয়েছে। উল্লেখযোগ্য সড়কসমূহ হলো: ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক (কুড়িল থেকে আব্দুল্লাহপুর), ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক (গুলিস্তান থেকে সাইনবোর্ড), ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক/মিরপুর রোড (আড়ং ক্রসিং থেকে আমিনবাজার), ঢাকা-কেরানীগঞ্জ সড়ক (ফুলবাড়িয়া থেকে তাতিবাজার ও বাবুবাজার ব্রিজ), ঢাকা-মাওয়া মহাসড়ক (গুলিস্তান থেকে বুড়িগঙ্গা ব্রিজ), মোহাম্মদপুর বসিলা ক্রসিং থেকে বসিলা ব্রিজ, আব্দুল্লাহপুর থেকে ধউর ব্রিজ এবং ফুলবাড়িয়া থেকে সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনাল সড়ক।
গণপরিবহন মালিক ও শ্রমিকদের জন্য ডিএমপি নির্দেশনা দিয়েছে যে, আন্তঃজেলা বাসসমূহকে টার্মিনালের ভিতরে যাত্রী তুলে সরাসরি গন্তব্যে যাত্রা করতে হবে। অনুমোদিত বাস কাউন্টার ও স্টপেজ ব্যতীত রাস্তায় দাঁড়িয়ে যাত্রী উঠানো বা নামানো যাবে না। এছাড়া, ঢাকায় প্রবেশ ও বহির্গমনকারী রাস্তায় বাস পার্কিং নিষিদ্ধ। বিআরটিসির বাস নির্দিষ্ট ডিপো থেকে সংশ্লিষ্ট জেলায় যাবে, কোনোভাবেই মহানগর ক্রস করবে না। বাস শিডিউল অনুযায়ী সময়মতো টার্মিনাল ত্যাগ করবে।
ডিএমপি নির্দেশনা অনুযায়ী, বাসে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়, যাত্রীদের সাথে দুর্ব্যবহার, একই সিটে একাধিক টিকেট বিক্রি, ছাদে অতিরিক্ত যাত্রী বহন, বেপরোয়া গতি, ওভারটেকিং নিষিদ্ধ এলাকা ও সরু ব্রিজে ওভারটেকিং, মাদকসেবন বা অসুস্থ অবস্থায় গাড়ি চালানো, অযাচিত মোবাইল ব্যবহার, উচ্চস্বরে গান, উল্টো রাস্তা ব্যবহার, এবং অননুমোদিত গাড়ি ব্যবহার সম্পূর্ণরূপে নিষিদ্ধ। চালককে বৈধ লাইসেন্স ও কাগজপত্র যাচাইয়ের পরে নিয়োগ করতে হবে এবং দিনে সর্বোচ্চ ৮ ঘণ্টা ও একটানা ৫ ঘণ্টার বেশি চালানো যাবে না।
যাত্রী ও পথচারীদের জন্যও কিছু সতর্কতা জানানো হয়েছে। বাসে উঠার জন্য নির্দিষ্ট টার্মিনাল ব্যবহার, অপরিচিত ব্যক্তির খাবার গ্রহণ না করা, মালামাল নিজের দায়িত্বে রাখা, নির্ধারিত সময়ের আগে টার্মিনাল পৌঁছানো, রাস্তা পারাপারে ফুটওভারব্রিজ, আন্ডারপাস ও জেব্রা ক্রসিং ব্যবহার করা, চলন্ত গাড়িতে ওঠানামা না করা, মোবাইলে কথা বলতে বলতে বা দৌড়ে রাস্তা পারাপার না করা, ফুটপাত ব্যবহার করা—এসব নিয়ম মেনে চলতে হবে।
ডিএমপি জরুরি প্রয়োজনে টার্মিনালের পুলিশ কন্ট্রোল রুম বা ৯৯৯ নম্বরে যোগাযোগ করার নির্দেশ দিয়েছে। পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে ঢাকা মহানগর হতে দেশব্যাপী ঘরমুখী মানুষের সংখ্যা প্রায় দেড় কোটি, এবং প্রায় ৪০ লাখ মানুষ অন্যান্য জেলা থেকে ঢাকায় প্রবেশ করেন। ডিএমপি নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন ঈদযাত্রার জন্য বিভিন্ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করছে।


