অর্থ বাণিজ্য ডেস্ক
ইরানের খার্গ দ্বীপে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক হামলা আন্তর্জাতিক তেল বাজারে নতুন চাপ সৃষ্টি করতে পারে বলে জানিয়েছেন জ্বালানি বিশ্লেষকরা। গত সপ্তাহে হামলার পর তেলের দাম ইতিমধ্যেই উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, হামলার সময় দ্বীপটির তেল অবকাঠামো লক্ষ্য করা হয়নি। তবে হিউস্টন বিশ্ববিদ্যালয়ের জ্বালানি অর্থনীতি বিশেষজ্ঞ এড হির্স মনে করেন, খার্গ দ্বীপের আকার এবং অবকাঠামো বিবেচনায় তেল রপ্তানিতে উল্লেখযোগ্য ক্ষতি হয়নি বলাটা কঠিন। আল জাজিরার সঙ্গে সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, “খার্গ দ্বীপ খুব ছোট। সেখানে যদি সামরিক স্থাপনা সীমিত থাকে, তেল রপ্তানি ব্যবস্থার ক্ষতি হয়নি—এটা কল্পনা করা কঠিন।”
বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, যদি হামলায় ইরানের তেল রপ্তানি দীর্ঘমেয়াদে প্রভাবিত হয় এবং একই সময়ে ইরাক ও কুয়েতের উৎপাদন বা রপ্তানি বাধাগ্রস্ত হয়, তবে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম আরও বৃদ্ধি পেতে পারে। হির্সের মতে, এ ধরনের পরিস্থিতিতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে এশিয়ার দেশগুলো, যেগুলো অপরিশোধিত তেল ও পরিশোধিত জ্বালানির প্রধান আমদানিকারক।
তেলের বাজারে ইতিমধ্যেই প্রভাব লক্ষ্য করা গেছে। ২৭ ফেব্রুয়ারি ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ৭২.৪৮ ডলার থেকে বেড়ে ১৪ মার্চ ১০৩.১৪ ডলার পৌঁছেছে। এক সপ্তাহের মধ্যে এ মূল্য প্রায় ১১ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। অন্যদিকে, ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (WTI) তেলের দাম সংঘাত শুরু হওয়ার পর ৪৭ শতাংশের বেশি বেড়ে ৯৮.৭১ ডলারে পৌঁছেছে।
ট্রাম্প সামাজিক মাধ্যমে জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী মধ্যপ্রাচ্যের ইতিহাসে সবচেয়ে শক্তিশালী হামলাগুলোর মধ্যে একটি পরিচালনা করেছে এবং খার্গ দ্বীপের সব সামরিক লক্ষ্য ধ্বংস করা হয়েছে। তিনি আরও উল্লেখ করেছেন, “আমি এখনো দ্বীপটির তেল অবকাঠামো ধ্বংস করার সিদ্ধান্ত নিইনি। তবে ইরান বা অন্য কেউ যদি হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচলে বাধা দেয়, তখন আমি দ্রুত সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করব।”
খার্গ দ্বীপ মূল ইরানি ভূখণ্ড থেকে প্রায় ৩০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত এবং দেশের অপরিশোধিত তেল রপ্তানির প্রায় ৯০ শতাংশ এই দ্বীপের মাধ্যমে পরিচালিত হয়, এমন তথ্য প্রকাশ করেছে জেপি মরগান। দ্বীপটির আয়তন ম্যানহাটনের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ এবং এখানে কোনো সামরিক পদক্ষেপ নিলে দ্রুত বড় ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা দিতে পারে বলে সতর্ক করেছেন বিশ্লেষকরা।
বিশেষজ্ঞরা আরও জানিয়েছেন, মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক উত্তেজনা এবং তেলের সরবরাহে সম্ভাব্য বিঘ্ন বিশ্ববাজারে দামের অস্থিরতা বাড়াতে পারে। এ কারণে আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীরা এবং তেল আমদানিকারক দেশগুলো পরিস্থিতি ঘনিষ্ঠভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। খার্গ দ্বীপে সামরিক সংঘাত দীর্ঘমেয়াদে বাজারে প্রভাব ফেলতে পারে, যা তেল মূল্যের ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলবে এবং বৈশ্বিক জ্বালানি নিরাপত্তার জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে।


