রাজধানী ডেস্ক
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে নিরাপত্তা ঝুঁকির প্রেক্ষিতে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে সাতটি দেশ তাদের আকাশসীমা সাময়িকভাবে বন্ধ করে দিয়েছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়েছে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে। বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক) জানিয়েছে, আকাশপথ বন্ধের কারণে ঢাকা থেকে এ পর্যন্ত মোট ৪৭৫টি ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। এর মধ্যে আজ শনিবার ২৪টি ফ্লাইট বাতিল হয়েছে।
বেবিচকের তথ্য অনুযায়ী, বাতিল হওয়া ফ্লাইটের সংখ্যা দিন অনুযায়ী হলো— ২৮ ফেব্রুয়ারি ২৩টি, ১ মার্চ ৪০টি, ২ মার্চ ৪৬টি, ৩ মার্চ ৩৯টি, ৪ মার্চ ২৮টি, ৫ মার্চ ৩৬টি, ৬ মার্চ ৩৪টি, ৭ মার্চ ২৮টি, ৮ মার্চ ২৮টি, ৯ মার্চ ৩৩টি, ১০ মার্চ ৩২টি, ১১ মার্চ ২৭টি, ১২ মার্চ ২৮টি, ১৩ মার্চ ২৫টি এবং ১৪ মার্চ শনিবার ২৪টি।
আজ শনিবার বাতিল হওয়া ফ্লাইটগুলোর মধ্যে রয়েছে— কুয়েতের দুইটি ফ্লাইট, এয়ার অ্যারাবিয়া (শারজাহ, সংযুক্ত আরব আমিরাত) দুইটি, গালফ এয়ার (বাহরাইন) চারটি, কাতার এয়ারওয়েজ (কাতার) চারটি, এমিরেটস এয়ারলাইনস (সংযুক্ত আরব আমিরাত) চারটি, জাজিরা (কুয়েত) চারটি এবং ফ্লাইদুবাই (সংযুক্ত আরব আমিরাত) চারটি।
বেবিচক সূত্রে জানা গেছে, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘর্ষ ও নিরাপত্তাজনিত কারণে আন্তর্জাতিক আকাশপথের কিছু অংশ সাময়িকভাবে বন্ধ থাকায় বিমান যোগাযোগে বড় ধরনের ব্যাঘাত দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে এই সময়ে ঢাকা থেকে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন গন্তব্যে বিমান পরিষেবা ব্যাহত হওয়ায় যাত্রী ও বিমান সংস্থাগুলোকে বিকল্প ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আকাশপথের এ ধরনের সাময়িক বন্ধ দেশগুলোতে বিমান নিরাপত্তা ঝুঁকির সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কযুক্ত। আন্তর্জাতিক নিয়ম অনুযায়ী সংঘর্ষপূর্ণ এলাকায় বিমান চলাচল সীমিত বা স্থগিত করা হয়, যাতে যাত্রী এবং বিমানকর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যায়।
ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বাতিলকৃত ফ্লাইটের কারণে যাত্রীদের জন্য বিকল্প ব্যবস্থা হিসেবে অন্যান্য দিনের ফ্লাইট বা ভিন্ন এয়ারলাইন্স ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। এছাড়া, যাত্রীদের তথ্যপ্রযুক্তি মাধ্যমে অবহিত করার ব্যবস্থা করা হয়েছে, যাতে তারা সময়মতো যাত্রা পরিকল্পনা পরিবর্তন করতে পারেন।
ফ্লাইট বাতিলের ফলে শুধু যাত্রীসংখ্যা নয়, বাণিজ্যিক এবং বাণিজ্যিক ভাড়া সংগ্রহেও প্রভাব পড়তে পারে। বেবিচক কর্মকর্তারা জানান, বিমান সংস্থাগুলোর অর্থনৈতিক ক্ষতি এ সময় উল্লেখযোগ্য হতে পারে, তবে নিরাপত্তা বিষয়ক সিদ্ধান্তগুলো অগ্রাধিকার ভিত্তিতে গ্রহণ করা হয়েছে।
এদিকে, আন্তর্জাতিক বিমান পরিবহন সংস্থাগুলোও এই পরিস্থিতি মনিটর করছে এবং যাত্রীদের নিরাপত্তা ও নিয়মিত ফ্লাইট পরিচালনা নিশ্চিত করতে অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা করছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত আকাশপথে পর্যাপ্ত সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে এবং সম্ভাব্য ঝুঁকির বিষয়ে যাত্রী ও বিমান সংস্থাগুলোকে অবহিত করতে হবে।
এভাবে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতি ও আকাশসীমা সাময়িক নিষেধাজ্ঞার কারণে ঢাকা থেকে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন গন্তব্যে বিমান চলাচলে বিরূপ প্রভাব পড়তে থাকে, যা আন্তর্জাতিক বিমান পরিবহন খাতে এক ধরনের অস্থিরতা তৈরি করছে।


