জাতীয় ডেস্ক
শনিবার (১৪ মার্চ) সকাল ১০টায় রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে মসজিদের ইমাম, মুয়াজ্জিন, খাদেমসহ বিভিন্ন ধর্মের ধর্মীয় নেতাদের মাসিক সম্মানী প্রদান কার্যক্রমের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে তিনি বলেন, নাগরিকদের দুর্বল রেখে কোনো রাষ্ট্র কখনো শক্তিশালী হতে পারে না। তিনি আরও জানান, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে প্রতিটি নাগরিকের আর্থিক ও সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা চালাবে এবং নাগরিকদেরও রাষ্ট্র ও সমাজের প্রতি দায়িত্ব পালন করতে হবে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি মানুষের আর্থিক স্বাচ্ছন্দ্য নিশ্চিত করতে পারে, তবে ধৈর্য, সততা, কৃতজ্ঞতা, সহনশীলতা, উদারতা ও মানবিক মূল্যবোধ ছাড়া প্রকৃত মানবিক সমাজ গড়ে ওঠে না। তিনি মানবিক মূল্যবোধ গড়ে তোলায় ধর্মীয় ও নৈতিক শিক্ষার গুরুত্বের ওপর জোর দেন। পবিত্র হাদিসের উদ্ধৃতি দিয়ে তিনি বলেন, “যার আমানতদারি নেই, যার কাছে নিরাপত্তা নেই, সে প্রকৃত ইমানদার নয়। যার ওয়াদা ঠিক নেই, তার কোনো ধর্মই নেই।” প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে উল্লেখ থাকে যে প্রতিহিংসা ও সহিংসতামুক্ত সমাজ গঠনে ধর্মীয় মানবিক শিক্ষার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।
তিনি দেশের প্রায় সাড়ে তিন লাখ মসজিদকে ধর্মীয়, সামাজিক ও নৈতিক শিক্ষা কার্যক্রমের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত করার সম্ভাবনার দিকে ইঙ্গিত করেন। স্মরণ করেন, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের সময়ে ‘ইমাম প্রশিক্ষণ একাডেমি’ চালু হয়েছিল এবং পরে বেগম খালেদা জিয়ার সরকার ‘মসজিদভিত্তিক শিশু ও গণশিক্ষা’ কার্যক্রম পরিচালনা করেছিল। বর্তমান সরকারও ইমাম ও মুয়াজ্জিনদের সম্মানী প্রদানের পাশাপাশি তাদের দক্ষতাকে রাষ্ট্রীয় উন্নয়নে কাজে লাগানোর পরিকল্পনা করছে।
প্রধানমন্ত্রী জানান, এ কর্মসূচির প্রথম পর্যায়ে পাইলট প্রকল্প হিসেবে দেশের ৪,৯০৮টি মসজিদ, ৯৯০টি মন্দির এবং ১৪৪টি বৌদ্ধ বিহারের মোট ১৬,৯৯২ জন ধর্মীয় নেতা মাসিক সম্মানী পাচ্ছেন। তিনি বলেন, পর্যায়ক্রমে সারা দেশের ধর্মীয় নেতাদের এ কর্মসূচির আওতায় আনা হবে। এছাড়া প্রতিটি জেলার আইনশৃঙ্খলাবিষয়ক বৈঠকে একজন ইমাম, খতিব বা ধর্মীয় প্রতিনিধিকে অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে।
ধর্মীয় সম্প্রীতি বজায় রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিস্টান সবাই মিলে সমাজে মিলিতভাবে থাকা নিশ্চিত করতে হবে যাতে কেউ বিভেদ সৃষ্টি করতে না পারে। তিনি বলেন, সরকারের লক্ষ্য হলো সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় একটি নিরাপদ রাষ্ট্র ও সমাজ গড়ে তোলা।
তিনি আরও জোর দেন, নাগরিকদের আর্থিক ও সামাজিক দুর্বলতা রাষ্ট্রের শক্তিকে কমিয়ে দেয় এবং এটি প্রতিরোধ করতে সরকারের জন্য নীতিগত ও প্রাত্যহিক কর্মসূচি গ্রহণ অপরিহার্য। রাষ্ট্র ও নাগরিক উভয়ের দায়বোধের মধ্যে সমন্বয় প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে নিরাপদ, সমৃদ্ধ এবং মানবিক সমাজ গঠনের সম্ভাবনা রয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যে দেশের ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে সামাজিক ও নৈতিক শিক্ষার প্রসারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করার আহ্বান জানান এবং এ উদ্যোগ দেশের দীর্ঘমেয়াদী শান্তি ও সংহতি নিশ্চিত করতে সহায়ক হবে বলে আশা প্রকাশ করেন।


