অর্থ বাণিজ্য ডেস্ক
বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) দেশের বাজারে রুপার দাম আরেক দফা কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। শনিবার (১৪ মার্চ) সকালে প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে সংগঠনটি জানিয়েছে, ২২ ক্যারেটের এক ভরি রুপার দাম ২৯২ টাকা কমিয়ে নতুনভাবে ৬ হাজার ৬৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। নতুন এই দাম সকাল ১০টা থেকে কার্যকর হবে।
বাজুসের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, স্থানীয় বাজারে তেজাবি রুপার (পিওর সিলভার) মূল্য হ্রাস পাওয়ায় সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে। নতুন হারের হিসাব অনুযায়ী, প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) ২২ ক্যারেটের রুপার দাম ৬ হাজার ৬৫ টাকা, ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ৫ হাজার ৭৭৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ৪ হাজার ৯৫৭ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি রুপার দাম ৩ হাজার ৭৩২ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
এর আগে সর্বশেষ রুপার দাম সমন্বয় করা হয়েছিল ১২ মার্চ। সে সময় ২২ ক্যারেটের এক ভরি রুপার দাম ৩৫০ টাকা কমিয়ে ৬ হাজার ৩৫৭ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছিল। একই সঙ্গে ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ৬ হাজার ৬৫ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ৫ হাজার ১৯০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি রুপার দাম ৩ হাজার ৯০৭ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছিল, যা সেইদিন সকাল ১০টা থেকে কার্যকর হয়েছিল।
অপরদিকে, বাজুসের সমন্বয় অনুযায়ী স্বর্ণের দামও হ্রাস করা হয়েছে। ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম ২ হাজার ৬৮৩ টাকা কমিয়ে ২ লাখ ৬২ হাজার ২৬৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৫০ হাজার ৩৬৮ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১৪ হাজার ৬১৮ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ১ লাখ ৭৪ হাজার ৭৮৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
বাজুসের এই সমন্বয় মূলত স্থানীয় বাজারে রুপা ও স্বর্ণের সরবরাহ, আন্তর্জাতিক বাজারে দাম ওঠানামা এবং ভোক্তাদের ক্রয় ক্ষমতা বিবেচনায় নিয়েই করা হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, রুপা ও স্বর্ণের দাম বাজারে সরাসরি প্রভাব ফেলে গহনার খাত এবং বিনিয়োগকারী ক্রেতাদের ওপর। তাই বাজারে সাময়িক ওঠানামার সঙ্গে দ্রুত সমন্বয় করা প্রয়োজন।
দেশের জুয়েলারি খাতের ব্যবসায়ীরা জানান, রুপার দাম কমায় সরাসরি ভোক্তা পর্যায়ে ক্রয়ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়। বিশেষ করে ছোট ও মাঝারি আকারের ক্রেতারা কম মূল্যে রুপা কিনতে পারবে, যা খুচরা ও খাতের বিক্রিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। একই সঙ্গে, স্বর্ণের দাম হ্রাস করায় বিনিয়োগমূলক ক্রেতাদের জন্যও সুযোগ সৃষ্টি হয়।
অর্থনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, বাজারে দাম সমন্বয় নিয়মিত হওয়ায় মুদ্রা এবং মূল্যস্ফীতি সম্পর্কিত তথ্য সঠিকভাবে প্রতিফলিত হয়। বাংলাদেশে রুপা ও স্বর্ণের বাজার স্থানীয় চাহিদা ও আন্তর্জাতিক বাজারের ওঠানামার সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত। তাই বাজুসের এই ধরনের প্রাত্যহিক বা সাপ্তাহিক মূল্য সমন্বয় বাজার স্থিতিশীল রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
বাজুস প্রতি সপ্তাহে রুপা ও স্বর্ণের দাম নির্ধারণের পাশাপাশি স্থানীয় এবং আন্তর্জাতিক বাজারে ওঠানামা পর্যবেক্ষণ করে। সংগঠনটির বক্তব্য, বর্তমান বাজার পরিস্থিতি অনুযায়ী ক্রেতা ও ব্যবসায়ী উভয়ের স্বার্থ রক্ষা করার জন্য নিয়মিত সমন্বয় অব্যাহত থাকবে।
এই সমন্বয় দেশের জুয়েলারি খাতের স্বচ্ছতা ও বাজারের স্থিতিশীলতার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে গণ্য করা হচ্ছে, যা ক্রেতা ও ব্যবসায়ীর উভয়ের জন্য সহায়ক।


