শামিমা সাত্তার মিমুর মৃত্যু: বাংলাদেশ অ্যাথলেটিকসে শূন্যতার সৃষ্টি

শামিমা সাত্তার মিমুর মৃত্যু: বাংলাদেশ অ্যাথলেটিকসে শূন্যতার সৃষ্টি

খেলাধূলা ডেস্ক

জাতীয় ক্রীড়া পুরস্কারপ্রাপ্ত অ্যাথলেট ও সাবেক ক্রীড়া প্রশাসক শামিমা সাত্তার মিমু শুক্রবার (১৩ মার্চ) রাত ১১টার দিকে ঢাকায় নিজ বাসভবনে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেন। দীর্ঘদিন ধরে বাত ও হৃদরোগজনিত সমস্যায় ভুগছিলেন তিনি। তাঁর শেষ ইচ্ছা অনুযায়ী দিনাজপুরে বাবার কবরের পাশেই তাকে দাফন করা হবে।

শামিমা সাত্তার মিমু ক্রীড়াজগতে একাধারে প্রতিভাবান অ্যাথলেট, দক্ষ প্রশিক্ষক, বিচক্ষণ সংগঠক ও সচেতন প্রশাসক হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন। তার দীর্ঘ কর্মজীবনে তিনি দেশের অ্যাথলেটিক্স খাতের উন্নয়নে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রেখেছেন। মাঠে নিজের খেলা ও প্রশিক্ষক হিসেবে তিনি অ্যাথলেটদের প্রেরণা জুগিয়েছেন, তেমনি প্রশাসনিক দায়িত্বেও সক্রিয় ও আন্তরিকভাবে কাজ করেছেন।

১৯৯৯–২০০০ সালের পরিসরে তার অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ শামিমা সাত্তার মিমু ২০০০ সালে জাতীয় ক্রীড়া পুরস্কার লাভ করেন। এছাড়া তিনি বাংলাদেশ ক্রীড়া লেখক সমিতি ও বাংলাদেশ স্পোর্টস জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশন থেকে সেরা অ্যাথলেটের সম্মাননা অর্জন করেন। ক্রীড়াবিদ ও সংগঠক হিসেবে তার কাছে ‘অনন্যা শীর্ষ দশ’ সম্মাননা, কবি নূরল আমিন স্বর্ণপদক এবং বাংলাদেশ নারী উদ্যোগ কেন্দ্রের স্বর্ণপদক রয়েছে।

শামিমা সাত্তার মিমু বাংলাদেশ অ্যাথলেটিকস ফেডারেশনের সাবেক কার্যনির্বাহী সদস্য ও বিকেএসপির সাবেক উপ-পরিচালক (প্রশিক্ষণ) হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। তার নেতৃত্ব ও উদ্যোগের মাধ্যমে দেশের অ্যাথলেটিক্স সম্প্রদায়ের দক্ষতা বৃদ্ধিতে অবদান রেখেছেন।

তার মৃত্যুতে বাংলাদেশ অ্যাথলেটিকস ফেডারেশনের সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক, কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য, কর্মকর্তা, কোচ ও অ্যাথলেটসহ সংশ্লিষ্ট সবাই গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও সংগঠন শোকবার্তায় তার অবদান স্মরণ করে ক্রীড়াজগতের শূন্যতার প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে।

শামিমা সাত্তার মিমুর অবদান শুধু ক্রীড়াজগতে সীমাবদ্ধ থাকেনি; তিনি প্রশিক্ষণ ও প্রশাসনিক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে নতুন প্রজন্মের অ্যাথলেটদের পথপ্রদর্শক হিসেবে কাজ করেছেন। তার মৃত্যু বাংলাদেশের অ্যাথলেটিক্স সম্প্রদায়ের জন্য বড় এক ক্ষতি হিসেবে গণ্য হচ্ছে।

তার জীবন ও কর্মকীর্তি দেশের ক্রীড়া উন্নয়নে একটি দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে, যা আগামী প্রজন্মের ক্রীড়াবিদ ও প্রশাসকদের জন্য প্রেরণার উৎস হিসেবে কাজ করবে।

খেলাধূলা শীর্ষ সংবাদ