জাতীয় ডেস্ক
আগামীকাল সোমবার (১৬ মার্চ) প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান খাল খনন কর্মসূচি উদ্বোধনের জন্য দিনাজপুর সফর করবেন। রোববার (১৫ মার্চ) নীলফামারীর সৈয়দপুর রাজনৈতিক জেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুর গফুর সরকার বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
আব্দুর গফুর সরকার জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রীর সফর শুরু হবে সকাল ৯টায়, যখন তিনি বিমানযোগে সৈয়দপুর বিমানবন্দরে পৌঁছাবেন। সেখানে থেকে বিশেষ বুলেটপ্রুফ বাসে যাত্রা করে তিনি সৈয়দপুর শহর হয়ে দিনাজপুরের কাহারোল উপজেলার বলরামপুর সাহাপাড়া এলাকায় পৌঁছবেন। এ স্থানে ১২ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের খাল পুনঃখনন কাজের মাধ্যমে দেশের খাল খনন কর্মসূচির উদ্বোধন কার্যক্রম শুরু হবে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের পাশাপাশি তিনি ভার্চুয়ালি দেশের ৫৩টি জেলার খাল খনন কর্মসূচির উদ্বোধনও করবেন। এর মাধ্যমে খাল খননের পরিকল্পনা একযোগে দেশব্যাপী কার্যকর করা হবে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানাচ্ছেন, এই খাল খনন প্রকল্প দেশের কৃষি ও পানি ব্যবস্থাপনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে এবং বন্যা প্রবণ এলাকা থেকে পানির সুষ্ঠু নিষ্কাশন নিশ্চিত করবে।
সফরের পরে প্রধানমন্ত্রী দিনাজপুর শহরের ফরিদপুর গোরস্তানে নিকট আত্মীয়দের কবর জিয়ারত করবেন। এতে তার নানা মরহুম মো. ইস্কান্দার মজুমদার, নানি মরহুমা তৈয়বা মজুমদার এবং খালা খুরশীদ জাহান হক অন্তর্ভুক্ত থাকবেন।
স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীদের মধ্যে সফর ও খাল খনন কর্মসূচি নিয়ে ব্যাপক উৎসাহ লক্ষ্য করা গেছে। ইতোমধ্যে সকল প্রকার প্রস্তুতি সম্পূর্ণ করা হয়েছে, এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা শক্তিশালী করা হয়েছে। প্রশাসনিক সূত্র জানাচ্ছে, স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশ সংস্থাগুলো অনুষ্ঠান চলাকালীন জনসাধারণের নিরাপত্তা এবং যান চলাচলের সুষ্ঠু ব্যবস্থার জন্য বিশেষ পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, এই খাল খনন প্রকল্প কেবল স্থানীয় পানি নিষ্কাশন ও কৃষি উপযোগিতা বৃদ্ধি করাই নয়, বরং বন্যা নিয়ন্ত্রণ এবং পরিবেশ সংরক্ষণের ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে। দেশব্যাপী সমন্বিতভাবে কার্যকর হলে এটি বিভিন্ন অঞ্চলের কৃষি উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধিতে সহায়ক হবে এবং জলসম্পদ ব্যবস্থাপনাকে আরও কার্যকর ও টেকসই করবে।
উল্লেখ্য, দেশের বিভিন্ন জেলায় এই ধরনের খাল খনন ও পুনঃখনন কর্মসূচি পূর্বেও নেওয়া হয়েছে, কিন্তু এইবারের উদ্যোগে একযোগে ৫৩টি জেলা অন্তর্ভুক্ত হওয়ায় এটি জাতীয় পর্যায়ে প্রকল্পের গুরুত্ব বহুগুণ বৃদ্ধি পাচ্ছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়নে স্থানীয় সরকার, পানি সম্পদ ও পরিবেশ সংক্রান্ত বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।
খাল খননের মাধ্যমে সৃষ্ট জলস্রোত নিয়ন্ত্রণ এবং পানির সুষ্ঠু প্রবাহ নিশ্চিতকরণ বাংলাদেশের বিভিন্ন নদী ও খালপালার তলদেশে পানি কমিয়ে বন্যা ঝুঁকি হ্রাস করবে। এতে কৃষিজমি ও বসতভিটা বন্যার ক্ষতি থেকে রক্ষা পাবে এবং স্থানীয় কৃষক ও জনসাধারণের জীবনমান উন্নয়নে সহায়ক ভূমিকা রাখবে।
সমগ্র কার্যক্রমে স্থানীয় প্রশাসন, নিরাপত্তা সংস্থা ও রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে সমন্বয় থাকায় খাল খনন উদ্বোধন অনুষ্ঠানটি শান্তিপূর্ণ ও সুচারুভাবে সম্পন্ন হবে বলে আশা করা হচ্ছে।


