অন্তর্জাতিক ডেস্ক
ইরানকে কেন্দ্র করে চলমান উত্তেজনার মধ্যবর্তী সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের দুটি সামরিক ওভার ফ্লাইট অনুরোধ সুইজারল্যান্ডের সরকার প্রত্যাখ্যান করেছে। শনিবার (১৪ মার্চ) দেশটির ফেডারেল কাউন্সিলের একটি বিবৃতিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
ফেডারেল কাউন্সিলের বরাতে বলা হয়েছে, সুইজারল্যান্ডের নিরপেক্ষতার আইন (law of neutrality) অনুসরণ করে যুক্তরাষ্ট্রের দুটি সামরিক উড্ডয়ন অনুরোধ নাকচ করা হয়েছে। তবে একই সময়ে একটি রক্ষণাবেক্ষণ ফ্লাইট এবং দুটি পরিবহন বিমানের ওভার ফ্লাইট অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
সুইজারল্যান্ডের সরকার আরও জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক আইন এবং দেশের দীর্ঘদিনের নিরপেক্ষতা নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ফেডারেল কাউন্সিলের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “সুইজারল্যান্ড সবসময় আন্তর্জাতিক সংঘাতের ক্ষেত্রে নিরপেক্ষ অবস্থান বজায় রাখে এবং এ নীতি দেশের নীতি নির্ধারণে প্রধান ভূমিকা রাখে।”
বিশ্লেষকদের মতে, এই সিদ্ধান্ত সুইজারল্যান্ডের ঐতিহ্যবাহী নিরপেক্ষ নীতি এবং আন্তর্জাতিক দ্বন্দ্বের ক্ষেত্রে তার সমন্বিত ভূমিকার প্রতিফলন। যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ওভার ফ্লাইট অনুমোদনের বিষয়টি সাধারণত কূটনৈতিক সম্পর্ক এবং আন্তর্জাতিক নিরাপত্তার বিষয়গুলোর সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে সম্পর্কিত।
সুইজারল্যান্ড বহু বছর ধরে মধ্যস্থতাকারী এবং নিরপেক্ষ রাষ্ট্র হিসেবে আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে পরিচিত। বিশেষ করে ইরান, মধ্যপ্রাচ্য বা অন্যান্য সংকটপূর্ণ অঞ্চলের বিষয়ে সুইজারল্যান্ডের অবস্থান আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে প্রভাবশালী হিসেবে বিবেচিত হয়ে থাকে। এ ধরনের ওভার ফ্লাইট অনুমোদন বা প্রত্যাখ্যান কূটনৈতিক এবং নিরাপত্তা-সংক্রান্ত বার্তা বহন করে।
ফেডারেল কাউন্সিলের সিদ্ধান্তের ফলে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বিমানগুলোর নির্ধারিত রুট পরিবর্তন করতে হতে পারে এবং এ ধরনের পদক্ষেপ সাধারণত আন্তর্জাতিক সমঝোতার আলোকে গ্রহণ করা হয়। এমন পরিস্থিতিতে সুইজারল্যান্ডের নিরপেক্ষতা নীতি দেশটির কূটনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
এছাড়া, সুইজারল্যান্ডের সরকার আন্তর্জাতিক আইন মেনে চলার পাশাপাশি দেশটির নিরাপত্তা ও স্বার্থের সুরক্ষার দিকেও গুরুত্ব আরোপ করছে। আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন, দেশের এই সিদ্ধান্ত কূটনৈতিক বার্তা হিসেবে কার্যকর হবে এবং অন্যান্য দেশগুলোর সঙ্গে সুইজারল্যান্ডের সম্পর্কের ওপর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলতে পারে।
সুইজারল্যান্ডের এ ধরনের নীতি ও পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে তার নিরপেক্ষতা এবং আইনগত অঙ্গীকারের একটি প্রমাণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।


