অর্থ বাণিজ্য ডেস্ক
দেশের বাজারে আবারও কমানো হয়েছে স্বর্ণ ও রুপার দাম। বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) ঘোষিত সর্বশেষ সমন্বয়ের ভিত্তিতে রোববার (১৫ মার্চ) থেকে মূল্যবান এই ধাতু দুটির বিক্রি শুরু হয়েছে নতুন নির্ধারিত দামে।
বাজুসের শনিবারের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণ ও রুপার (পিওর গোল্ড ও সিলভার) দর কমায় নতুন মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, শনিবার সকাল ১০টা থেকে নতুন দাম কার্যকর হয়েছে। এই সমন্বয়ের আগে শুক্রবার দেশের বাজারে স্বর্ণ ও রুপার দাম যথাক্রমে ২ হাজার ৬৮৩ টাকা ও ২৯২ টাকা কমানো হয়।
নতুন সমন্বয়ের পরে প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) ২২ ক্যারেটের স্বর্ণের দাম নির্ধারিত হয়েছে ২ লাখ ৬২ হাজার ২৬৫ টাকা। ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ২ লাখ ৫০ হাজার ৩৬৮ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১৪ হাজার ৬১৮ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণ ১ লাখ ৭৪ হাজার ৭৮৫ টাকায় বেচাকেনা হচ্ছে।
এর আগে ১৩ মার্চ দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল। তখন ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম ২ লাখ ৬৪ হাজার ৯৪৮ টাকা নির্ধারণ করা হয়, যা পূর্বের দর থেকে ২ হাজার ১৫৮ টাকা কম ছিল। একই সঙ্গে ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৫২ হাজার ৮৭৬ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১৬ হাজার ৭৭৫ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি ১ লাখ ৭৬ হাজার ৯৪৩ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছিল।
চলতি বছর এখন পর্যন্ত দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম ৪৩ বার সমন্বয় করা হয়েছে। এর মধ্যে দাম বৃদ্ধি করা হয়েছে ২৬ দফা এবং কমানো হয়েছে ১৭ দফা। তুলনামূলকভাবে, ২০২৫ সালে বাজারে স্বর্ণের দাম ৯৩ বার সমন্বয় করা হয়েছিল; যেখানে ৬৪ বার দাম বৃদ্ধি এবং ২৯ বার দাম কমানো হয়েছিল।
রুপার বাজারেও সাম্প্রতিক দাম কমানো হয়েছে। ২২ ক্যারেটের এক ভরি রুপার দাম কমে হয়েছে ৬ হাজার ৬৫ টাকা। এছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ৫ হাজার ৭৭৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ৪ হাজার ৯৫৭ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি রুপার দাম ৩ হাজার ৭৩২ টাকা নির্ধারিত হয়েছে।
চলতি বছর রুপার দাম ২৭ দফা সমন্বয় করা হয়েছে। এর মধ্যে দাম বৃদ্ধি হয়েছে ১৬ দফা এবং কমানো হয়েছে ১১ দফা। ২০২৫ সালে রুপার বাজারে ১৩ বার সমন্বয় হয়েছিল; যার মধ্যে ১০ বার দাম বৃদ্ধি এবং ৩ বার দাম কমানো হয়েছিল।
বাজুসের এ ধরনের নিয়মিত সমন্বয় দেশের বাজারে স্বর্ণ ও রুপার সরবরাহ এবং চাহিদার সাথে সঙ্গতি রেখে মূল্য নির্ধারণের একটি অংশ হিসেবে বিবেচিত হয়। এই সমন্বয় গ্রাহক ও ব্যবসায়ীদের জন্য বর্তমান বাজারের বাস্তব চাহিদা এবং ক্রয়ক্ষমতার প্রতিফলন হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।


