দিনাজপুরে ‘খাল খনন কর্মসূচি–২০২৬’ উদ্বোধনে প্রধানমন্ত্রীর সফর

দিনাজপুরে ‘খাল খনন কর্মসূচি–২০২৬’ উদ্বোধনে প্রধানমন্ত্রীর সফর

বাংলাদেশ ডেস্ক

দেশব্যাপী পানি ব্যবস্থাপনা উন্নয়ন ও জলাবদ্ধতা নিরসনের লক্ষ্যে ঘোষিত ‘খাল খনন কর্মসূচি–২০২৬’-এর উদ্বোধন করতে দিনাজপুরের উদ্দেশে ঢাকা ত্যাগ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সোমবার সকালে রাজধানীর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে একটি অভ্যন্তরীণ ফ্লাইটে তিনি সৈয়দপুরের উদ্দেশে রওনা হন। পরে সেখান থেকে সড়কপথে দিনাজপুরের কাহারোল উপজেলার বলরামপুর এলাকায় গিয়ে ‘সাহাপাড়া খাল’ খননের মাধ্যমে এই কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করার কথা রয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে পানিনিষ্কাশন ব্যবস্থার উন্নয়ন, কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধিতে সহায়তা এবং জলাবদ্ধতা নিরসনের লক্ষ্যে সরকার এই খাল খনন কর্মসূচি হাতে নিয়েছে। এর অংশ হিসেবে প্রথম ধাপে কয়েকটি জেলায় খাল পুনঃখনন ও নতুন খাল খননের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। দিনাজপুরের কাহারোল উপজেলার সাহাপাড়া খাল খননের মাধ্যমে জাতীয় পর্যায়ে কর্মসূচিটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হবে।

সরকারি সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে দেশের অনেক এলাকায় খাল ও প্রাকৃতিক জলপথ ভরাট হয়ে যাওয়ায় বর্ষা মৌসুমে পানি জমে থাকা, কৃষিজমিতে সেচের ঘাটতি এবং স্থানীয় পরিবেশের ওপর বিরূপ প্রভাব দেখা দিয়েছে। এসব সমস্যা সমাধানের লক্ষ্যেই সরকার পরিকল্পিতভাবে খাল পুনঃখনন ও সংরক্ষণ কার্যক্রম শুরু করেছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মতে, খাল পুনরুদ্ধার করা গেলে বর্ষার অতিরিক্ত পানি দ্রুত নিষ্কাশন সম্ভব হবে এবং শুকনো মৌসুমে সেচ সুবিধা বাড়বে, যা কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধিতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।

সফরসূচি অনুযায়ী, উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষে দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে দিনাজপুরে আয়োজিত এক জনসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেওয়ার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর। ওই সভায় স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, প্রশাসনের কর্মকর্তা, কৃষক প্রতিনিধি এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত থাকবেন বলে জানা গেছে। সেখানে সরকার ঘোষিত খাল খনন কর্মসূচির উদ্দেশ্য, বাস্তবায়ন পরিকল্পনা এবং সম্ভাব্য সুফল সম্পর্কে বক্তব্য দেওয়ার কথা রয়েছে।

পানি সম্পদ ব্যবস্থাপনা বিশেষজ্ঞদের মতে, বাংলাদেশে নদী ও খালভিত্তিক প্রাকৃতিক জলপ্রবাহের ঐতিহ্য দীর্ঘদিনের। তবে নগরায়ন, অবৈধ দখল এবং রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে অনেক খাল নাব্যতা হারিয়েছে বা সম্পূর্ণভাবে বিলুপ্ত হয়ে গেছে। ফলে বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতা এবং শুষ্ক মৌসুমে পানির ঘাটতি—দুই ধরনের সমস্যাই দেখা দেয়। পরিকল্পিত খাল খনন ও পুনঃখননের মাধ্যমে এসব সমস্যা মোকাবিলা করা সম্ভব বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।

সরকারি পরিকল্পনা অনুযায়ী, খাল খনন কর্মসূচির আওতায় পর্যায়ক্রমে দেশের বিভিন্ন জেলায় গুরুত্বপূর্ণ খালগুলো পুনরুদ্ধার করা হবে। এ ক্ষেত্রে স্থানীয় প্রশাসন, পানি উন্নয়ন বোর্ড এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো সমন্বিতভাবে কাজ করবে। পাশাপাশি খাল দখলমুক্ত রাখা এবং নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর দিনাজপুর সফরকে কেন্দ্র করে স্থানীয় প্রশাসন নিরাপত্তা ও সার্বিক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানস্থল এবং জনসভা এলাকায় প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে বলে প্রশাসন জানিয়েছে।

সফরের অংশ হিসেবে বিকেলে দিনাজপুর শহরের শেখ ফরিদ মডেল কবরস্থানে যাওয়ার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর। সেখানে তিনি পরিবারের সদস্যদের কবর জিয়ারত করবেন। পরে দিনাজপুর সার্কিট হাউস চত্বরে আয়োজিত সুধী সমাবেশ ও ইফতার মাহফিলে অংশ নেবেন তিনি।

সংশ্লিষ্টদের মতে, খাল খনন কর্মসূচির সফল বাস্তবায়ন হলে দেশের পানি ব্যবস্থাপনা উন্নয়ন, কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি এবং পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। এ কর্মসূচির মাধ্যমে দীর্ঘদিন অবহেলিত অনেক প্রাকৃতিক জলপথ পুনরুদ্ধার হওয়ার সম্ভাবনাও তৈরি হবে।

জাতীয় শীর্ষ সংবাদ