শিক্ষা ডেস্ক
দেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় সম্ভাব্য বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। সোমবার (১৬ মার্চ) বিকেলে শিক্ষা মন্ত্রণালয় এক বিশেষ সংবাদ সম্মেলন ডেকেছে, যেখানে স্কুল পর্যায়ে দীর্ঘদিন ধরে প্রযোজ্য ‘লটারি প্রথা’ বাতিল করে পুনরায় ভর্তি পরীক্ষা চালু করার বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ঘোষণা করার সম্ভাবনা রয়েছে। একই সঙ্গে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের তিনটি প্রধান পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে নতুন উপাচার্য নিয়োগের বিষয়ও সমাধান হবে।
শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে জানানো হয়েছে, বিকেল ৪টায় মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে এই প্রেস ব্রিফিং অনুষ্ঠিত হবে। এতে শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন উপস্থিত থাকবেন। মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা খালিদ মাহমুদ স্বাক্ষরিত বার্তায় গণমাধ্যমকর্মীদের এই ব্রিফিং কভার করার জন্য অনুরোধ করা হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে স্কুলে প্রযোজ্য লটারি পদ্ধতিতে শিক্ষার্থীদের মেধার সঠিক মূল্যায়ন করা সম্ভব হচ্ছে না। এ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষাব্যবস্থায় সংশোধনের দাবি উঠেছে। বিশেষ করে মেধার ভিত্তিতে ভর্তি নিশ্চিত করার জন্য এবং শিক্ষার্থীদের প্রতি ন্যায্য সুযোগ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে স্কুল পর্যায়ে ভর্তি পরীক্ষা পুনরায় চালু করার প্রক্রিয়া নিয়ে মন্ত্রণালয়ের অভ্যন্তরীণ আলোচনা দীর্ঘদিন ধরে চলছে। আজকের ব্রিফিংয়ে এই প্রক্রিয়ার রূপরেখা এবং তার সময়সূচি সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য জানানো হতে পারে।
একই সঙ্গে দেশে উচ্চশিক্ষা ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণের বিষয়েও আজ সংবাদ সম্মেলনে ঘোষণা আসতে পারে। সূত্র অনুযায়ী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে শীর্ষ প্রশাসনিক পদে দীর্ঘদিন শূন্য থাকা উপাচার্য (ভিসি) নিয়োগের বিষয়টি চূড়ান্ত হয়েছে। শিক্ষামন্ত্রীর আজকের বক্তব্যের মাধ্যমে এই নিয়োগ আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হবে।
এর আগে, সোমবার সকালে শারীরিক অসুস্থতার কারণে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. এস. এম. এ. ফায়েজ তার পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন। এ পদত্যাগের প্রেক্ষিতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের শীর্ষ স্তরে প্রয়োজনীয় নিয়োগের পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, স্কুলে ভর্তি পরীক্ষার পুনরায় চালু হওয়া শিক্ষাব্যবস্থায় মেধার ভিত্তিতে শিক্ষার্থী নির্বাচনকে কার্যকর করবে এবং শিক্ষার মানোন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এছাড়া তিনটি প্রধান বিশ্ববিদ্যালয়ে নতুন উপাচার্য নিয়োগ উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থায় প্রশাসনিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে সহায়ক হবে।
এই পরিবর্তনগুলো শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও শিক্ষক সম্প্রদায়ের মধ্যে গভীর প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে ঢাকা, চট্টগ্রাম ও সারা দেশের অন্যান্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এই সিদ্ধান্তের ফলপ্রভাব এবং কার্যকর বাস্তবায়নের জন্য প্রস্তুতি নেবে। মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, আজকের সংবাদ সম্মেলনে উভয় বিষয়ে বিস্তারিত নির্দেশনা এবং বাস্তবায়নের সময়সীমা সম্পর্কেও তথ্য জানানো হবে।
উল্লেখ্য, বর্তমান সরকারের শিক্ষানীতি এবং উচ্চশিক্ষা ক্ষেত্রে প্রশাসনিক পদক্ষেপগুলো দেশের শিক্ষাব্যবস্থার দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার অংশ হিসেবে গণ্য করা হচ্ছে। স্কুলে ভর্তি পরীক্ষার পুনর্বহাল এবং বিশ্ববিদ্যালয় উপাচার্য নিয়োগের সিদ্ধান্ত শিক্ষা মানোন্নয়ন, ন্যায্য সুযোগ এবং প্রশাসনিক কার্যকারিতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে বিবেচিত হবে।


