সারাদেশ ডেস্ক
পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে সাতক্ষীরার ভোমরা স্থলবন্দরে টানা ১০ দিনের জন্য বাণিজ্যিক কার্যক্রম বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আগামী ১৮ মার্চ থেকে ২৭ মার্চ পর্যন্ত বন্দর সংশ্লিষ্ট সিএন্ডএফ এজেন্টদের সব ধরনের কার্যক্রম স্থগিত থাকবে, ফলে এই সময়ের মধ্যে দুই দেশের মধ্যে পণ্য আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রমও বন্ধ থাকবে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ছুটি শেষে ২৮ মার্চ থেকে বন্দর কার্যক্রম পুনরায় স্বাভাবিক নিয়মে শুরু হবে।
ভোমরা সিএন্ডএফ এজেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক আবু মুছা বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, ঈদুল ফিতর উপলক্ষে সরকারি ছুটির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কোনো ধরনের কাগজপত্র প্রক্রিয়াকরণ বা পণ্য ছাড় কার্যক্রম পরিচালিত হবে না। ফলে বন্দর ব্যবহারকারী ব্যবসায়ীদের আগাম প্রস্তুতি গ্রহণের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
ভোমরা স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষের উপ-পরিচালক মামুন কবির তরফদার জানান, ঈদের ছুটির কারণে এই সময় পণ্যবাহী ট্রাকের চলাচল সম্পূর্ণভাবে বন্ধ থাকবে। এর ফলে বন্দর দিয়ে আমদানি ও রপ্তানি কার্যক্রম সাময়িকভাবে স্থগিত থাকবে। তিনি বলেন, সাধারণত ঈদের মতো বড় ধর্মীয় উৎসবকে কেন্দ্র করে শ্রমিক, পরিবহন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও বিভিন্ন সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রমে স্বাভাবিকভাবেই বিরতি আসে। সেই বাস্তবতা বিবেচনায় রেখেই বন্দর কার্যক্রম বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হয়।
তবে বাণিজ্যিক কার্যক্রম বন্ধ থাকলেও সীমান্ত দিয়ে যাত্রী পারাপার স্বাভাবিক থাকবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। ভোমরা ইমিগ্রেশন পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রাশেদুজ্জামান বলেন, পাসপোর্টধারী যাত্রীরা নিয়মিত প্রক্রিয়ায় সীমান্ত অতিক্রম করতে পারবেন। যাত্রীসেবার ক্ষেত্রে কোনো ধরনের বিঘ্ন ঘটবে না এবং প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা বজায় রাখা হবে।
অন্যদিকে, বন্দর ও কাস্টমস হাউসের কিছু প্রশাসনিক কার্যক্রম সীমিত পরিসরে চালু থাকবে বলে জানিয়েছে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ। কাস্টমস কমিশনার মুশফিকুর রহমান বলেন, জরুরি প্রশাসনিক কাজগুলো নির্দিষ্ট জনবল দিয়ে সীমিত আকারে পরিচালিত হবে, যাতে প্রয়োজনীয় সরকারি কার্যক্রম সম্পূর্ণভাবে বন্ধ না থাকে। তবে নিয়মিত বাণিজ্যিক কার্যক্রম এই সময়ের মধ্যে পুনরায় চালু হবে না।
ভোমরা স্থলবন্দর বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের একটি গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক প্রবেশদ্বার, যার মাধ্যমে ভারতসহ প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে পণ্য আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম পরিচালিত হয়। এই বন্দর দিয়ে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ পণ্য পরিবহন হয়ে থাকে, যা দেশের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। ফলে দীর্ঘ সময় বাণিজ্যিক কার্যক্রম বন্ধ থাকলে এর প্রভাব স্থানীয় ব্যবসা-বাণিজ্য এবং সরবরাহ ব্যবস্থার ওপর পড়তে পারে।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, ঈদের ছুটি শেষে দ্রুত বন্দর কার্যক্রম স্বাভাবিক করতে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি গ্রহণ করা জরুরি। বিশেষ করে পণ্যজট এড়াতে এবং আমদানি-রপ্তানি প্রক্রিয়া সচল রাখতে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন হবে। এছাড়া ছুটির আগে ও পরে অতিরিক্ত চাপ সামাল দিতে বন্দর ব্যবস্থাপনায় বিশেষ নজরদারির প্রয়োজনীয়তার কথাও উল্লেখ করেছেন সংশ্লিষ্টরা।
সব মিলিয়ে, ধর্মীয় উৎসব উপলক্ষে বন্দর কার্যক্রমে এই সাময়িক বিরতি নেওয়া হলেও যাত্রীসেবা সচল রাখা এবং সীমিত প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনার মাধ্যমে প্রয়োজনীয় ভারসাম্য বজায় রাখার চেষ্টা করছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।


