কৃষক কার্ড প্রণয়ন বিষয়ে বৈঠক করেছেন তারেক রহমান

কৃষক কার্ড প্রণয়ন বিষয়ে বৈঠক করেছেন তারেক রহমান

জাতীয় ডেস্ক

মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) বেলা সাড়ে ১২টায় সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের নিজ কক্ষে কৃষক কার্ড প্রণয়ন সংক্রান্ত সেলের সঙ্গে বৈঠক করেছেন তারেক রহমান। বৈঠকে মূলত দেশের কৃষকদের জন্য কার্যকর এবং স্বচ্ছভাবে কৃষক কার্ড প্রণয়নের পরিকল্পনা ও প্রক্রিয়া নিয়ে আলোচনা হয়েছে।

বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ এবং খাদ্য মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী আমিন-উর-রশীদ ইয়াসিন, প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, অর্থ ও পরিকল্পনা বিষয়ক উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের অন্যান্য উর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ।

সূত্র অনুযায়ী, বৈঠকে কৃষি খাতের ডিজিটাল রূপান্তর, তথ্যভিত্তিক কৃষক সেবা প্রদান, এবং সঠিক কৃষক শনাক্তকরণের মাধ্যমে কৃষক কার্ড কার্যক্রমের স্বচ্ছতা ও দক্ষতা বৃদ্ধি করার উপায়গুলো নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। বিশেষভাবে লক্ষ্য করা হয়েছে যে, এই কার্ড কৃষকদের সরকারি অনুদান, ঋণ সুবিধা এবং কৃষি সহায়ক অন্যান্য পরিষেবা গ্রহণে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে।

অর্থ ও পরিকল্পনা বিষয়ক উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বৈঠকের পর জানান, “কৃষক কার্ড প্রণয়ন কর্মসূচি দেশের কৃষকদের জন্য একটি যুগান্তকারী উদ্যোগ, যা কৃষি খাতের তথ্যভিত্তিক ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে সেবা পৌঁছানোর ক্ষেত্রে নতুন মাত্রা যোগ করবে।”

সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোর কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, কার্ড প্রণয়নের সময় কৃষক পরিচয় যাচাই, জমির তথ্য, উৎপাদন পরিমাণ এবং অন্যান্য প্রাসঙ্গিক তথ্য ডিজিটালভাবে সংরক্ষণের মাধ্যমে প্রক্রিয়াটি কার্যকর এবং সুনির্দিষ্ট করা হবে। তারা আশা প্রকাশ করেছেন যে, আগামী ছয় মাসের মধ্যে এই প্রক্রিয়া দেশের অধিকাংশ অঞ্চলে কার্যকরভাবে চালু হবে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, কৃষক কার্ড কার্যক্রমের মাধ্যমে শুধু সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করা নয়, বরং কৃষি খাতের পরিকল্পনা ও নীতি নির্ধারণে তথ্যভিত্তিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের সুযোগও বৃদ্ধি পাবে। এর ফলে, কৃষকদের উৎপাদনশীলতা ও আয়ের মান বৃদ্ধির পাশাপাশি খাদ্য নিরাপত্তা ও দেশের অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।

বৈঠক শেষে প্রণীত সিদ্ধান্তগুলোর মধ্যে রয়েছে: কৃষক কার্ডের জন্য আবেদন ও যাচাই প্রক্রিয়ার ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম তৈরি, বিভিন্ন সরকারি সেবা সঙ্গে সংযুক্তকরণ, এবং জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে সচেতনতা বৃদ্ধি ও প্রশিক্ষণ কার্যক্রম।

সূত্রের বরাত দিয়ে জানা যায়, সরকারের লক্ষ্য হচ্ছে কৃষক কার্ডকে একটি মানসম্মত, স্বচ্ছ এবং দীর্ঘমেয়াদী সহায়তা ব্যবস্থা হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা, যা দেশের কৃষি খাতের উন্নয়ন এবং কৃষকের জীবিকা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

জাতীয় শীর্ষ সংবাদ