সংযুক্ত আরব আমিরাতে আকাশসীমা খুলে বিমান চলাচল স্বাভাবিক

সংযুক্ত আরব আমিরাতে আকাশসীমা খুলে বিমান চলাচল স্বাভাবিক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতির কারণে সাময়িকভাবে বন্ধ থাকার পর সংযুক্ত আরব আমিরাতে বিমান চলাচল পুনরায় স্বাভাবিক হয়েছে। মঙ্গলবার দিনের শুরুতে আকাশসীমা বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হলেও পরবর্তীতে পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে দেশটির কর্তৃপক্ষ পুনরায় ফ্লাইট চলাচল শুরু করার ঘোষণা দেয়।

দেশটির জেনারেল সিভিল এভিয়েশন অথরিটি (জিসিএএ) জানায়, আঞ্চলিক নিরাপত্তা ঝুঁকি বিবেচনায় নিয়ে অস্থায়ীভাবে আকাশসীমা বন্ধ রাখা হয়েছিল। পরবর্তীতে নিরাপত্তা পরিস্থিতির উন্নতি হওয়ায় সংযুক্ত আরব আমিরাতের পুরো আকাশসীমায় বিমান চলাচল পুনরায় চালু করা হয়েছে। সংস্থাটি আরও জানায়, বিমান চলাচলের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সার্বক্ষণিক রিয়েল-টাইম পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা সক্রিয় রয়েছে।

সম্প্রতি অঞ্চলে চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে ইরানের পক্ষ থেকে একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার ঘটনা ঘটেছে বলে জানা গেছে। এসব হামলার লক্ষ্যবস্তু হিসেবে সংযুক্ত আরব আমিরাতের গুরুত্বপূর্ণ পরিবহন ও জ্বালানি অবকাঠামো চিহ্নিত করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর তথ্যমতে, সংঘাত শুরুর পর থেকে দেশটির দিকে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়েছে।

একটি ড্রোন হামলার পর দুবাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নিকটবর্তী এলাকায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনার পর নিরাপত্তাজনিত কারণে সোমবার সাময়িকভাবে ফ্লাইট চলাচল স্থগিত রাখা হয়। পরবর্তীতে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলে এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত হওয়ার পর পুনরায় বিমান চলাচল শুরু করা হয়।

এছাড়া ড্রোন হামলায় ফুজাইরাহ বন্দরের নিকটবর্তী একটি গুরুত্বপূর্ণ তেল সংরক্ষণাগারে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনাও ঘটে। ফুজাইরাহ বন্দরটি আঞ্চলিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হওয়ায় এ ধরনের হামলা অর্থনৈতিক ও সরবরাহ ব্যবস্থায় প্রভাব ফেলতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট বিশ্লেষকদের ধারণা।

রাজধানী আবুধাবির উপকণ্ঠে পৃথক এক হামলায় একটি গাড়িতে রকেট আঘাত হানলে একজন ফিলিস্তিনি নাগরিক নিহত হওয়ার তথ্য নিশ্চিত করেছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ। এ ঘটনাগুলো দেশটির অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে।

একাধিক হামলার কারণে দুবাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ফ্লাইট পরিচালনায় বিঘ্ন ঘটেছে এবং যাত্রীদের ভোগান্তি বেড়েছে। বিভিন্ন সময়ে ফ্লাইট বিলম্ব, বাতিল ও পুনঃনির্ধারণের ঘটনা ঘটেছে। ফেব্রুয়ারির শেষের দিকে দুবাইয়ের একটি উচ্চমানের হোটেলেও হামলার ঘটনা ঘটে, যা বেসামরিক স্থাপনাগুলোর নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।

বর্তমান পরিস্থিতি আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার ওপর সম্ভাব্য প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। সংযুক্ত আরব আমিরাত আন্তর্জাতিক বাণিজ্য, পর্যটন ও বিমান চলাচলের একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হওয়ায় এ ধরনের নিরাপত্তা ঝুঁকি বৈশ্বিক যোগাযোগ ব্যবস্থাতেও প্রভাব ফেলতে পারে।

সরকারি পর্যায়ে জানানো হয়েছে, পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং বেসামরিক অবকাঠামোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। একই সঙ্গে বিমান চলাচল নিরাপদ রাখতে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসরণ করে কার্যক্রম পরিচালনা অব্যাহত রয়েছে।

আন্তর্জাতিক শীর্ষ সংবাদ