জাতীয় ডেস্ক
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের কার্যক্রম নির্বিঘ্ন রাখতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের অনুপস্থিতিতে সংসদীয় দায়িত্ব পালনের জন্য বিকল্প মন্ত্রীদের নাম চূড়ান্ত করেছে সরকার। মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) রাতে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়। প্রজ্ঞাপনে প্রধানমন্ত্রীর পাশাপাশি অন্যান্য মন্ত্রীদের অনুপস্থিতিতেও সংসদীয় কার্যক্রম সচল রাখার জন্য দায়িত্ব বণ্টনের বিস্তারিত নির্দেশনা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সংসদীয় কার্যক্রম পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদকে। তারা প্রধানমন্ত্রীর অনুপস্থিতিতে সংশ্লিষ্ট কার্যক্রম তদারকি ও সংসদে প্রয়োজনীয় কার্যসম্পাদন করবেন। একই সঙ্গে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ এবং সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের সংসদীয় কার্যক্রমও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হবে বলে প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে।
সরকারি সূত্রে জানা যায়, সংসদের নিয়মিত কার্যক্রম যেমন প্রশ্নোত্তর পর্ব, বিল উপস্থাপন, আলোচনায় অংশগ্রহণ এবং অন্যান্য প্রক্রিয়া নিরবচ্ছিন্ন রাখতে এ ধরনের দায়িত্ব বণ্টন একটি প্রচলিত প্রশাসনিক ব্যবস্থা। এর মাধ্যমে নির্বাহী বিভাগের অনুপস্থিতিতেও সংসদীয় কার্যক্রমের ধারাবাহিকতা বজায় থাকে এবং সাংবিধানিক দায়িত্ব পালনে কোনো বিঘ্ন ঘটে না।
প্রজ্ঞাপনে আরও উল্লেখ করা হয়, প্রধানমন্ত্রীসহ মোট ২৫ জন মন্ত্রী এবং দুজন প্রতিমন্ত্রীর অনুপস্থিতিতে কারা কোন দায়িত্ব পালন করবেন তার একটি পূর্ণাঙ্গ তালিকা এতে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এতে প্রতিটি মন্ত্রণালয়ের জন্য বিকল্প দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তির নাম নির্ধারণ করা হয়েছে, যাতে সংশ্লিষ্ট কার্যক্রম কোনো অবস্থাতেই স্থবির হয়ে না পড়ে।
এছাড়া দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী এবং তাদের বিকল্প উভয়েই যদি কোনো কারণে অনুপস্থিত থাকেন, সেক্ষেত্রে অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী সংশ্লিষ্ট দায়িত্ব পালন করবেন বলে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। তার অনুপস্থিতিতে অতিরিক্ত দায়িত্ব হিসেবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ সংসদের প্রশ্নোত্তরসহ অন্যান্য কার্যক্রম সম্পন্ন করবেন।
বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, এ ধরনের পূর্বনির্ধারিত দায়িত্ব বণ্টন সংসদীয় গণতন্ত্রের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ, যা প্রশাসনিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সহায়ক। বিশেষ করে জাতীয় সংসদের অধিবেশন চলাকালে সরকারের উচ্চপর্যায়ের ব্যক্তিদের বিদেশ সফর বা অন্যান্য ব্যস্ততার কারণে অনুপস্থিতি দেখা দিলে এই ব্যবস্থা কার্যকর ভূমিকা পালন করে।
সংসদ সচিবালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সংসদীয় কার্যক্রমের ধারাবাহিকতা বজায় রাখা রাষ্ট্রীয় দায়িত্বের একটি অপরিহার্য অংশ। সে কারণে আগাম পরিকল্পনার মাধ্যমে দায়িত্ব নির্ধারণ করা হলে হঠাৎ কোনো পরিস্থিতিতেও কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার ঝুঁকি কমে যায়।
সাম্প্রতিক প্রজ্ঞাপনটি সেই ধারাবাহিকতারই অংশ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এর মাধ্যমে সরকারের বিভিন্ন স্তরে দায়িত্ব বণ্টনের একটি সুসংগঠিত কাঠামো নিশ্চিত করা হয়েছে, যা সংসদের কার্যক্রমকে নিরবচ্ছিন্নভাবে এগিয়ে নিতে সহায়তা করবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।


