জেলা প্রতিনিধি
বগুড়ার শেরপুর উপজেলায় ঢাকা-বগুড়া মহাসড়কে যাত্রীবাহী একটি মাইক্রোবাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের আইল্যান্ডে ধাক্কা দিলে তিনজন নিহত এবং অন্তত নয়জন আহত হয়েছেন। বুধবার (১৮ মার্চ) সকাল সাড়ে সাতটার দিকে ভবানীপুর ইউনিয়নের ছোনকা এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। আহতদের উদ্ধার করে বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। আহতদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মাইক্রোবাসটি ঢাকা থেকে রংপুরের কাউনিয়ার উদ্দেশ্যে যাত্রা করছিল। সকাল সাড়ে সাতটার দিকে ছোনকা এলাকায় পৌঁছালে দ্রুতগতির ওই যানবাহনের গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরিত হয় বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। এতে চালক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেললে মাইক্রোবাসটি সড়কের আইল্যান্ডে সজোরে ধাক্কা খায়। দুর্ঘটনার তীব্রতায় ঘটনাস্থলেই একজন নিহত হন। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়ার পথে এবং চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও দুজনের মৃত্যু হয়।
এ ঘটনায় আহতদের মধ্যে রয়েছেন—ফাতেমা (১০), শহিদুল (৪০), তৌছিব (৩০), তাসমিয়া (২০), হেলেনা (৬০), তারিকুল (৩৬), ফাতেমা (১), আরহাম (৭) ও হামিম (৩০)। আহতদের মধ্যে শিশু ও বয়স্ক যাত্রীও রয়েছেন, যা দুর্ঘটনার মানবিক ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা আরও বাড়িয়েছে। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, আহতদের মধ্যে কয়েকজনের শারীরিক অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।
দুর্ঘটনার পরপরই স্থানীয় বাসিন্দারা উদ্ধারকাজে এগিয়ে আসেন। পরে খবর পেয়ে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে আহতদের উদ্ধার করে দ্রুত হাসপাতালে পাঠান। দুর্ঘটনায় নিহতদের মরদেহ বর্তমানে শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। তাদের পরিচয় শনাক্তের কাজ চলছে বলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।
শেরপুর হাইওয়ে পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ পুলিশ পরিদর্শক মো. রইছ উদ্দিন জানান, দুর্ঘটনার খবর পাওয়ার পরপরই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনা করে। তিনি বলেন, এখন পর্যন্ত তিনজনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে এবং নিহতদের পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। দুর্ঘটনার কারণ নির্ধারণে তদন্ত চলছে।
পুলিশ আরও জানায়, দুর্ঘটনাকবলিত মাইক্রোবাসটি জব্দ করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণকে দুর্ঘটনার কারণ হিসেবে সন্দেহ করা হলেও বিষয়টি নিশ্চিত হতে যান্ত্রিক ত্রুটি ও অন্যান্য সম্ভাব্য কারণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।
দুর্ঘটনার পর কিছু সময়ের জন্য মহাসড়কে যান চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি হলেও দ্রুত পরিস্থিতি স্বাভাবিক করা হয়। বর্তমানে ওই সড়কে যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।
সড়ক দুর্ঘটনার এই ঘটনা আবারও মহাসড়কে যানবাহনের গতি নিয়ন্ত্রণ, নিরাপত্তা মানদণ্ড মেনে চলা এবং বিকল্প জ্বালানি ব্যবস্থার নিরাপদ ব্যবহার নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তা সামনে এনেছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, নিয়মিত যানবাহনের যান্ত্রিক পরীক্ষা এবং চালকদের সচেতনতা বৃদ্ধি এ ধরনের দুর্ঘটনা প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।


