ভিনিসিয়ুসের জোড়ায় ম্যানচেস্টার সিটিকে হারিয়ে কোয়ার্টার-ফাইনালে রিয়াল মাদ্রিদ

ভিনিসিয়ুসের জোড়ায় ম্যানচেস্টার সিটিকে হারিয়ে কোয়ার্টার-ফাইনালে রিয়াল মাদ্রিদ

খেলাধূলা ডেস্ক

ইউরোপীয় ক্লাব ফুটবলের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ প্রতিযোগিতা উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগ-এ ঘুরে দাঁড়ানোর লক্ষ্য নিয়ে মাঠে নামলেও শেষ পর্যন্ত তা সম্ভব হয়নি ম্যানচেস্টার সিটি-এর। ইতিহাদ স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় লেগের ম্যাচে রিয়াল মাদ্রিদ-এর কাছে ২-১ গোলে পরাজিত হয়ে দুই লেগ মিলিয়ে ৫-১ ব্যবধানে টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নেয় ইংলিশ ক্লাবটি। ম্যাচে ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড ভিনিসিয়ুস জুনিয়র জোড়া গোল করে দলের জয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।

মঙ্গলবার রাতে অনুষ্ঠিত ম্যাচের শুরু থেকেই দুই দলের মধ্যে আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণের লড়াই দেখা যায়। খেলার প্রথম মিনিট পূর্ণ হওয়ার আগেই এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ তৈরি করে রিয়াল মাদ্রিদ। মাঝমাঠ থেকে বল পেয়ে গোলের চেষ্টা করেন ফেদে ভালভার্দে, তবে তার নেওয়া লব শটটি সহজেই রুখে দেন সিটির গোলরক্ষক জিয়ানলুইজি দোন্নারুম্মা।

এরপর ম্যাচে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন রিয়ালের গোলরক্ষক থিবো কোর্তোয়া। তিনি পরপর দুটি শট ঠেকিয়ে দলকে সম্ভাব্য বিপদ থেকে রক্ষা করেন। তবে ১৭তম মিনিটে ম্যাচে বড় মোড় আসে। সিটির মিডফিল্ডার বার্নার্দো সিলভা বক্সের ভেতরে বল হাতে লাগালে প্রথমে অফসাইডের সিদ্ধান্ত দিলেও পরে ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি (ভিএআর)-এর সহায়তায় তা পরিবর্তন করা হয়। রেফারি পেনাল্টির পাশাপাশি সিলভাকে সরাসরি লাল কার্ড দেখান, ফলে দশজনের দলে পরিণত হয় ম্যানচেস্টার সিটি।

পেনাল্টি থেকে সুযোগ কাজে লাগাতে ভুল করেননি ভিনিসিয়ুস জুনিয়র। প্রথম লেগে ব্যর্থ হলেও এই ম্যাচে তিনি গোল করে দলকে এগিয়ে দেন। গোল হজমের পর প্রতিক্রিয়া দেখাতে গিয়ে সিটির কোচ পেপ গার্দিওলা হলুদ কার্ড দেখেন।

একজন কম নিয়ে খেললেও ম্যাচে লড়াই চালিয়ে যায় ম্যানচেস্টার সিটি। ধারাবাহিক আক্রমণের মাধ্যমে প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগে চাপ সৃষ্টি করে তারা। এর ফল আসে প্রথমার্ধের শেষদিকে। ৪১তম মিনিটে জটলার মধ্যে বল পেয়ে গোল করেন আর্লিং হলান্ড, যা দলকে সমতায় ফেরায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, এটি ছিল গত ফেব্রুয়ারির পর তার প্রথম গোল।

দ্বিতীয়ার্ধে সিটির খেলার ধার কিছুটা কমে যায়। বিরতির পর আর মাঠে নামেননি থিবো কোর্তোয়া; তার পরিবর্তে খেলেন আন্দ্রে লুনিন। মাঠে নেমেই তিনি হলান্ডের একটি শট ঠেকিয়ে দেন। তবে স্বাগতিক দলের আক্রমণে আগের মতো ধার দেখা যায়নি।

৬৩তম মিনিটে জেরেমি ডোকু বল জালে পাঠালেও অফসাইডের কারণে গোলটি বাতিল হয়। একইভাবে ডিফেন্ডার রায়ান আইত-নুরি-র হেড থেকেও গোলের সম্ভাবনা নষ্ট হয় অফসাইডের কারণে।

ম্যাচের অতিরিক্ত সময়ে ভিনিসিয়ুস জুনিয়র একবার গোল করেও অফসাইডের কারণে বঞ্চিত হন। তবে শেষ মুহূর্তে আর ভুল করেননি তিনি। নিজের দ্বিতীয় গোলটি করে দলের জয় নিশ্চিত করেন এই ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড।

পরিসংখ্যানের দিক থেকে ম্যাচে সিটির বল দখল ছিল ৪৭ শতাংশ। তারা মোট ২২টি শট নেয়, যার মধ্যে ৮টি লক্ষ্যে ছিল। অন্যদিকে রিয়াল মাদ্রিদ ১৪টি শট নিয়ে ৭টি লক্ষ্যে রাখতে সক্ষম হয়, যা তাদের আক্রমণের কার্যকারিতা নির্দেশ করে।

এই জয়ের ফলে গত পাঁচ মৌসুমে চতুর্থবারের মতো চ্যাম্পিয়নস লিগ থেকে ম্যানচেস্টার সিটিকে বিদায় করে রিয়াল মাদ্রিদ। ইউরোপীয় প্রতিযোগিতায় স্প্যানিশ ক্লাবটির ধারাবাহিক সাফল্যের আরেকটি উদাহরণ হিসেবে এই ম্যাচটি বিবেচিত হচ্ছে। পাশাপাশি নকআউট পর্বে গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তগুলো কাজে লাগানোর দক্ষতাও আবারও প্রমাণ করেছে দলটি।

খেলাধূলা শীর্ষ সংবাদ