খেলাধূলা ডেস্ক
উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগের শেষ ষোলো পর্বে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স প্রদর্শন করে স্পেনের ক্লাব বার্সেলোনা কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা নিশ্চিত করেছে। দ্বিতীয় লেগে নিজেদের মাঠে অনুষ্ঠিত ম্যাচে ইংল্যান্ডের নিউক্যাসল ইউনাইটেডকে ৭-২ গোলের বড় ব্যবধানে পরাজিত করে দুই লেগ মিলিয়ে ৮-৩ গোলের জয় নিশ্চিত করে কাতালানরা। ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হয় বার্সেলোনার ঘরের মাঠে, যেখানে শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল প্রদর্শন করে স্বাগতিক দল।
ম্যাচের শুরুতেই বার্সেলোনা নিজেদের আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করে। ষষ্ঠ মিনিটে ফের্মিন লোপেজের সঙ্গে সমন্বয়ে রাফিনহার গোলের মাধ্যমে এগিয়ে যায় তারা। দ্রুত গতির আক্রমণ ও বল দখলের কৌশলে প্রতিপক্ষকে চাপে রাখে বার্সেলোনা। তবে পিছিয়ে পড়ার পরও লড়াই চালিয়ে যায় নিউক্যাসল ইউনাইটেড। প্রথমার্ধেই লুইস হলের ক্রস থেকে অ্যান্থনি এলাঙ্গা গোল করে সমতা ফেরান।
সমতায় ফেরার পর ম্যাচে উত্তেজনা আরও বাড়ে। রাফিনহার নেওয়া ফ্রি-কিক থেকে মার্ক বার্নাল গোল করে আবারও বার্সেলোনাকে এগিয়ে দেন। তবে অল্প সময়ের মধ্যেই নিউক্যাসল আবার ঘুরে দাঁড়ায়। হার্ভে বার্নসের পাস থেকে এলাঙ্গা নিজের দ্বিতীয় গোলটি করে ম্যাচে ২-২ সমতা ফিরিয়ে আনেন। প্রথমার্ধের শেষ মুহূর্তে ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারির (ভিএআর) সহায়তায় পাওয়া পেনাল্টি থেকে লামিনে ইয়ামাল গোল করলে বিরতিতে ৩-২ ব্যবধানে এগিয়ে যায় বার্সেলোনা।
দ্বিতীয়ার্ধে ম্যাচের চিত্র পুরোপুরি বদলে যায়। বল দখল, পাসিং এবং আক্রমণের ধারাবাহিকতায় নিউক্যাসলের রক্ষণভাগকে চাপে ফেলে বার্সেলোনা। রাফিনহার নিখুঁত পাস থেকে ফের্মিন লোপেজ গোল করে ব্যবধান বাড়ান। এরপর কর্নার কিক থেকে রবার্ট লেভানদোস্কি হেডে গোল করে দলের পক্ষে পঞ্চম গোলটি করেন। কিছু সময় পর তিনি আরেকটি গোল করে ব্যবধান আরও বাড়িয়ে দেন।
ম্যাচের শেষদিকে নিউক্যাসলের রক্ষণভাগের দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে নিজের দ্বিতীয় গোলটি করেন রাফিনহা। এতে ব্যবধান দাঁড়ায় ৭-২। দ্বিতীয়ার্ধে নিউক্যাসল ইউনাইটেড কার্যত ছন্দ হারিয়ে ফেলে এবং প্রতিপক্ষের ধারাবাহিক আক্রমণ সামাল দিতে ব্যর্থ হয়। রক্ষণভাগের সমন্বয়হীনতা এবং মাঝমাঠে বল নিয়ন্ত্রণে দুর্বলতা তাদের বড় পরাজয়ের অন্যতম কারণ হিসেবে প্রতীয়মান হয়।
এই জয়ের মাধ্যমে বার্সেলোনা কেবল কোয়ার্টার ফাইনালে উত্তীর্ণ হয়নি, বরং প্রতিযোগিতায় নিজেদের শক্ত অবস্থানেরও ইঙ্গিত দিয়েছে। দুই লেগ মিলিয়ে তাদের আক্রমণভাগের কার্যকারিতা এবং গোল করার দক্ষতা দলের আত্মবিশ্বাস বাড়িয়েছে। একই সঙ্গে তরুণ ও অভিজ্ঞ খেলোয়াড়দের সমন্বয়ে গড়া দলটি প্রতিপক্ষের বিপক্ষে ধারাবাহিক পারফরম্যান্স প্রদর্শনে সক্ষম হয়েছে।
অন্যদিকে নিউক্যাসল ইউনাইটেডের জন্য এই পরাজয় একটি বড় ধাক্কা হিসেবে দেখা যাচ্ছে। প্রথমার্ধে প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়ে তুললেও দ্বিতীয়ার্ধে তারা পুরোপুরি ভেঙে পড়ে। বিশেষ করে রক্ষণভাগের দুর্বলতা এবং প্রতিপক্ষের দ্রুত আক্রমণ প্রতিহত করতে না পারা তাদের বিদায়ের প্রধান কারণ হয়ে দাঁড়ায়। ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় ভালো ফল করতে হলে দলটির কৌশলগত পরিবর্তন এবং রক্ষণভাগে উন্নতির প্রয়োজন রয়েছে।
চ্যাম্পিয়নস লিগের কোয়ার্টার ফাইনালে বার্সেলোনার প্রতিপক্ষ হিসেবে অপেক্ষা করছে অ্যাতলেতিকো মাদ্রিদ। শক্তিশালী এই প্রতিপক্ষের বিপক্ষে ম্যাচটি প্রতিযোগিতার পরবর্তী ধাপ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বর্তমান পারফরম্যান্সের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে পারলে বার্সেলোনা শিরোপার দৌড়ে আরও এগিয়ে যেতে পারবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।


