জেলা প্রতিনিধি
মাদারীপুরের সদর উপজেলায় ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের তাঁতিবাড়ি এলাকায় বৃহস্পতিবার ভোরে যাত্রীবাহী বাস ও তরমুজবোঝাই একটি ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষে অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন। দুর্ঘটনাটি ঘটেছে সকাল সাড়ে ৬টার দিকে, যার ফলে মহাসড়কে যান চলাচল অস্থায়ীভাবে বন্ধ হয়ে যায় এবং যাত্রীরা দুর্ভোগের সম্মুখীন হন।
পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা যায়, ঢাকা থেকে বরিশালের উদ্দেশে ছেড়ে আসা বোগদাদ পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাস বিপরীত দিক থেকে আসা তরমুজবোঝাই ট্রাকের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এতে বাস ও ট্রাকের চালকসহ কমপক্ষে ১৫ জন আহত হন।
দুর্ঘটনার খবর পেয়ে মাদারীপুর ফায়ার সার্ভিস ও হাইওয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে আহতদের উদ্ধার করে মাদারীপুর ২৫০ শয্যা জেলা হাসপাতালে ভর্তি করেন। ফায়ার সার্ভিসের পরিদর্শক শেখ আহাদুজ্জামান জানান, “সড়ক দুর্ঘটনায় বেশ কয়েকজনকে ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, বেপরোয়া গতির কারণে দুর্ঘটনাটি ঘটেছে।”
মাদারীপুরের মোস্তফাপুর হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মামুন আল রশিদ বলেন, “বাস ও ট্রাকের সংঘর্ষের কারণে মহাসড়কে কিছু সময় যান চলাচল বন্ধ ছিল। হাইওয়ে পুলিশ খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। আহতদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।”
দুপুরের আগেই দুর্ঘটনাকবলিত যানবাহন দুটি সরিয়ে নেয়ার পর সকাল ৮টার দিকে ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়। এই ধরনের সড়ক দুর্ঘটনার প্রভাব কেবল যাত্রীদের ওপর সীমাবদ্ধ না থেকে দীর্ঘসময় মহাসড়কের যানবাহন চলাচল ব্যাহত করার মাধ্যমে স্থানীয় জনজীবনকে প্রভাবিত করে।
স্থানীয়রা জানান, মহাসড়কের ওই অংশটি বেশ ব্যস্ত এবং বাস ও ট্রাকের উচ্চ গতির কারণে সময়ের পর সময় বিভিন্ন ধরনের দুর্ঘটনা ঘটছে। বিশেষ করে ভোর ও সকালভোরে ঢাকা ও বরিশালের উদ্দেশ্যে যাত্রীবাহী এবং পণ্যবাহী যানবাহনের চাপ বাড়ায় দুর্ঘটনার সম্ভাবনা ত্বরান্বিত হয়।
মাদারীপুর জেলা পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস ভবিষ্যতে সড়কে নিয়মিত তল্লাশি ও ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ জোরদার করার মাধ্যমে দুর্ঘটনা কমানোর পরিকল্পনা গ্রহণের কথা জানিয়েছে।


