জাতীয় ডেস্ক
যাত্রী কল্যাণ সমিতি জানিয়েছে, এবারের ঈদযাত্রায় বাস ও মিনিবাসে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের পরিমাণ গত ২০ বছরের রেকর্ড ভঙ্গ করতে পারে। সমিতির প্রতিবেদন অনুযায়ী, শুধুমাত্র অতিরিক্ত ভাড়া হিসেবেই যাত্রীদের কাছ থেকে প্রায় ১৪৮ কোটি টাকা অতিরিক্ত সংগ্রহ হতে পারে।
তবে সড়ক পরিবহন ও রেলপথ প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ হাবিব এই অভিযোগকে ভিত্তিহীন উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেছেন, “এখন পর্যন্ত ভাড়া-সংক্রান্ত কোনো সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পাওয়া যায়নি।” বৃহস্পতিবার সকালে কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন পরিদর্শন শেষে প্রতিমন্ত্রী সাংবাদিকদের সঙ্গে এ বিষয়ে কথা বলেন এবং স্টেশনে উপস্থিত যাত্রীদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলার মাধ্যমে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেন।
প্রতিমন্ত্রী জানান, বর্তমানে দুটি ট্রেন ছাড়া বাকি সব ট্রেন স্বাভাবিকভাবে চলাচল করছে। তিনি আরও বলেন, “ঈদযাত্রার সামগ্রিক অবস্থা নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং ঈদের পর পুরো ব্যবস্থার মূল্যায়ন করা হবে।”
যাত্রী কল্যাণ সমিতি তাদের পর্যবেক্ষণে উল্লেখ করেছে, এবারের ঈদে ঢাকা ও দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে দূরপাল্লার বাস ও মিনিবাসে প্রায় ৪০ লাখ ট্রিপ এবং সিটি সার্ভিসে প্রায় ৬০ লাখ ট্রিপ যাত্রী যাতায়াত করতে পারে। সমিতি ১৪ মার্চ থেকে ১৮ মার্চ পর্যন্ত মাঠ পর্যায়ে তথ্য সংগ্রহ ও বিশ্লেষণ করে দেখেছে, ৮৭ শতাংশ বাস ও মিনিবাসে সরকারি ভাড়া চার্ট অমান্য করে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করা হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ঈদে গণপরিবহন ব্যবস্থার উপর চাপ বাড়ার কারণে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের ঘটনা প্রায়শই ঘটে থাকে। তবে সরকারি পর্যবেক্ষণ ও মাঠ পর্যায়ে নিয়মিত মনিটরিং ব্যবস্থা থাকায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করা হচ্ছে। এমন পরিস্থিতি থেকে রক্ষা পেতে প্রতিটি ট্রিপের জন্য নির্ধারিত ভাড়া তালিকা যথাযথভাবে মানা এবং অভিযোগ দাতাদের জন্য কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের প্রয়োজন রয়েছে।
রাজধানীর বিভিন্ন ট্রাফিক ও পরিবহন কর্মকর্তারা জানান, ঈদযাত্রার সময় যাত্রীদের সুষ্ঠু যাতায়াত নিশ্চিত করতে এবং অতিরিক্ত ভাড়া প্রতিরোধে পর্যাপ্ত মনিটরিং টিম মোতায়েন করা হয়েছে। বিশেষ করে দূরপাল্লার বাস ও মিনিবাসে অতি ভাড়া আদায়ের অভিযোগ থাকলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
সমিতি ও সরকারি সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, এবারের ঈদযাত্রার চাপ অনেক বেশি এবং যাত্রীদের স্বাচ্ছন্দ্য ও নিরাপত্তা বজায় রাখতে যথাযথ পদক্ষেপ নেওয়া অপরিহার্য। সরকারের পর্যবেক্ষণ এবং ক্ষেত্র পর্যায়ে নিয়মিত তদারকি ব্যবস্থা থাকায় আশা করা হচ্ছে, অতিরিক্ত ভাড়া ও অন্যান্য যাত্রী সমস্যার সংখ্যা সীমিত থাকবে।


