রাজনীতি ডেস্ক
আসন্ন ঈদুল ফিতরকে কেন্দ্র করে ঘরমুখো মানুষের যাতায়াতে অব্যবস্থাপনা ও অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। এ প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে এবারের ঈদযাত্রা ব্যবস্থাপনাকে ‘ইতিহাসের জঘন্যতম অব্যবস্থাপনা’ হিসেবে উল্লেখ করে সরকারের জবাবদিহিতা দাবি করেছেন।
শুক্রবার (২০ মার্চ) দেওয়া ওই পোস্টে তিনি অভিযোগ করেন, ঈদ উপলক্ষে রাজধানীসহ বিভিন্ন শহর থেকে গ্রামে ফেরা সাধারণ মানুষ চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। প্রতিবছরের মতো এবারও বিপুলসংখ্যক মানুষ পরিবারের সঙ্গে ঈদ উদযাপনের উদ্দেশ্যে যাত্রা করছেন। তবে সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার অভাব, পরিবহন সংকট এবং অতিরিক্ত ভাড়ার কারণে যাত্রীরা দুর্ভোগে পড়েছেন বলে তিনি উল্লেখ করেন।
ডা. শফিকুর রহমান তার বক্তব্যে বলেন, সরকার গঠনের পর সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রীর কিছু বক্তব্য ও সিদ্ধান্তের কারণে বর্তমান পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে বলে তার ধারণা। তিনি দাবি করেন, এ পরিস্থিতির দায়ভার সরকারকেই নিতে হবে। একই সঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, সরকারিভাবে যাত্রীদের আশ্বস্ত করতে বলা হলেও বাস্তবে পরিবহন খাতে ভাড়া কমার পরিবর্তে বৃদ্ধি পেয়েছে, যা জনগণের সঙ্গে ‘মিথ্যাচার’ হিসেবে প্রতীয়মান হচ্ছে।
ঈদযাত্রাকে কেন্দ্র করে প্রতি বছরই সড়ক, রেল ও নৌপথে যাত্রীচাপ বৃদ্ধি পায়। বিশেষ করে রাজধানী ঢাকা থেকে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে যাত্রী পরিবহনে বাস, ট্রেন ও লঞ্চে অতিরিক্ত চাপ দেখা যায়। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ প্রতিবছরই বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণের কথা জানালেও বাস্তবে যাত্রীদের ভোগান্তি পুরোপুরি কমানো সম্ভব হয় না। অতিরিক্ত যাত্রীচাপ, যানজট, টিকিট সংকট এবং ভাড়া বৃদ্ধি—এসব সমস্যা দীর্ঘদিন ধরেই বিদ্যমান।
পরিবহন খাত সংশ্লিষ্টরা প্রায়ই দাবি করেন, ঈদ মৌসুমে যানবাহনের চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় স্বাভাবিকভাবেই চাপ সৃষ্টি হয়। তবে যাত্রীদের অভিযোগ, অনেক ক্ষেত্রে নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে বেশি টাকা আদায় করা হয় এবং যাত্রাপথে নানা ধরনের অনিয়ম ঘটে। বিশেষ করে দূরপাল্লার বাসে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ প্রতি বছরই সামনে আসে।
ডা. শফিকুর রহমান তার বক্তব্যে দেশের সামগ্রিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি ইঙ্গিত দেন, যদি জনদুর্ভোগ অব্যাহত থাকে এবং সুশাসনের অভাব দেখা দেয়, তবে তা বৃহত্তর রাজনৈতিক অস্থিরতার দিকে নিয়ে যেতে পারে। একই সঙ্গে তিনি যুবসমাজ ও সাধারণ জনগণের সচেতনতা বৃদ্ধির কথাও উল্লেখ করেন।
বিশ্লেষকরা মনে করেন, ঈদযাত্রা ব্যবস্থাপনা একটি বহুমাত্রিক চ্যালেঞ্জ, যা কেবল পরিবহন খাতের সীমাবদ্ধতা নয়, বরং অবকাঠামো, পরিকল্পনা এবং তদারকির সঙ্গে সম্পৃক্ত। এ ক্ষেত্রে সরকারের পাশাপাশি বেসরকারি পরিবহন মালিক, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।
এদিকে, যাত্রীদের নিরাপদ ও স্বস্তিদায়ক যাত্রা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন বিভিন্ন মহল। ঈদযাত্রাকে কেন্দ্র করে সড়ক ও নৌপথে শৃঙ্খলা বজায় রাখা, নির্ধারিত ভাড়া নিশ্চিত করা এবং যাত্রীসেবার মান উন্নয়নের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।
সামগ্রিকভাবে, এবারের ঈদযাত্রা ঘিরে যাত্রীদের ভোগান্তি এবং এ নিয়ে রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া দেশের পরিবহন ব্যবস্থাপনা ও সুশাসন প্রশ্নে নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে।


