ঈদের পর জ্বালানি ও অর্থনীতি–রাজনীতি চ্যালেঞ্জের মুখে নতুন সরকার

ঈদের পর জ্বালানি ও অর্থনীতি–রাজনীতি চ্যালেঞ্জের মুখে নতুন সরকার

জাতীয় ডেস্ক

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতি এবং বিশ্ববাজারে জ্বালানি সংকটের প্রভাব বাংলাদেশের অর্থনীতি ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার ওপর সরাসরি পড়তে পারে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দেশের কৃষি, শিল্প-কলকারখানা এবং সার্বিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে জ্বালানি নিরাপত্তা এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। পাশাপাশি নতুন সরকার দেশের স্থিতিশীলতা বজায় রাখা, বিনিয়োগ আকর্ষণ ও কর্মসংস্থান নিশ্চিত করা—এই তিনটিই প্রধান চ্যালেঞ্জ হিসেবে সামনে রেখেছে।

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ জানিয়েছেন, মধ্যপ্রাচ্যে ইরান ও ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাতের ফলে উপসাগরীয় অঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি স্থাপনায় হামলার ঘটনা ঘটেছে। ফলস্বরূপ, হরমুজ প্রণালী এক মাস ধরে বন্ধ রয়েছে, যা বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সরবরাহে প্রভাব ফেলেছে। তিনি বলেন, ‘জ্বালানি তেলের সঙ্গে সব কিছু সম্পর্কযুক্ত—অর্থনীতি, খাদ্য নিরাপত্তা, শিল্প উন্নয়ন।’ মন্ত্রী আরও জানিয়েছেন, সরকার ইতোমধ্যেই বিকল্প উৎস অনুসন্ধান, সাশ্রয়ী ব্যবহার এবং স্পট মার্কেট থেকে জ্বালানি সংগ্রহের মতো পদক্ষেপ নিয়েছে।

জ্বালানি বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক তামিম বলেন, ঈদের পর অফিস, আদালত এবং শিল্প-কারখানা পূর্ণ শক্তিতে চালু হলে বিদ্যুতের চাহিদা কয়েকগুণ বৃদ্ধি পাবে। কৃষিতে সার ও সেচের জন্য জ্বালানি তেলের চাহিদাও বাড়বে। বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি)-এর সম্মাননীয় ফেলো মোস্তাফিজুর রহমান জানিয়েছেন, জ্বালানি এখনই চড়া দামে কেনা হচ্ছে। এজন্য রাজস্ব আয়ের ঘাটতি থাকা অবস্থায় বাজেট সামঞ্জস্য রাখা সরকারের জন্য চ্যালেঞ্জ হতে পারে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, নতুন সরকার স্থানীয় সরকার নির্বাচন, জুলাই সনদ বাস্তবায়ন, সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন ও বিরোধী দলের দাবিদাওয়া মোকাবেলা করতে হবে। রাজনৈতিক বিশ্লেষক মহিউদ্দিন আহমদ মনে করেন, সরকারি পদে নিয়োগ ও দলীয়করণ কিছু ক্ষেত্রে বিরোধী দলের চাপ বাড়াতে পারে। তবে বিএনপি সরকারের মন্ত্রীদের মতে, বর্তমান অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জের চেয়ে প্রাধান্য পাচ্ছে।

অর্থনীতিবিদরা আরও বলেন, জ্বালানি দামের ওঠা-নামা অন্যান্য পণ্যের মূল্যকে প্রভাবিত করে। এই পরিস্থিতিতে নতুন সরকারের জন্য বাজেট প্রণয়ন ও সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি সম্প্রসারণ, কৃষি উৎপাদনের জন্য সার এবং সেচের জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করা গুরুত্বপূর্ণ হবে। মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘সরকার ইতোমধ্যেই বাজেট তৈরির কাজ শুরু করেছে। ব্যয় ও রাজস্ব সামঞ্জস্য বজায় রাখা চ্যালেঞ্জ হবে।’

জ্বালানি নিরাপত্তা, অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা, বিনিয়োগ আকর্ষণ, কর্মসংস্থান এবং রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা—এসব মিলিয়ে ঈদের পর নতুন সরকারের সামনে একটি জটিল ও বহুস্তরীয় চ্যালেঞ্জ অপেক্ষা করছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, বৈশ্বিক যুদ্ধ পরিস্থিতি, ঘাটতি থাকা রাজস্ব আয় ও জ্বালানি সংকট মিলিয়ে সামনের মাসগুলোতে সরকারের প্রতিটি পদক্ষেপ দেশের অর্থনীতি এবং রাজনৈতিক পরিস্থিতির ওপর গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলবে।

জাতীয় শীর্ষ সংবাদ