অর্থ বাণিজ্য ডেস্ক
ঈদুল ফিতর উপলক্ষে চট্টগ্রামে নামাজ আদায়ের পর দেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিবেশ নিয়ে মন্তব্য করেছেন আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেছেন, চলমান গণতান্ত্রিক আবহে এবারের ঈদের আনন্দ ভিন্ন মাত্রা পেয়েছে এবং নির্বাচনের পর জনগণের মালিকানাবোধ অনেকাংশে ফিরে এসেছে বলে তিনি মনে করেন। শনিবার (২১ মার্চ) সকালে চট্টগ্রাম নগরের উত্তর কাট্টলী এলাকার নাজির বাড়ি মসজিদে ঈদের নামাজ আদায়ের পর সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।
নামাজ শেষে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় তিনি বলেন, ঈদ মুসলিম সম্প্রদায়ের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব হলেও এর সামাজিক ও মানসিক তাৎপর্যও গভীর। একটি দেশের সামগ্রিক রাজনৈতিক পরিবেশ, নাগরিক স্বাধীনতা এবং গণতান্ত্রিক চর্চার সঙ্গে মানুষের উৎসব উদযাপনের অনুভূতি নিবিড়ভাবে জড়িত। তার ভাষ্যমতে, বর্তমান পরিস্থিতিতে দেশের মানুষের মধ্যে একটি ভিন্ন ধরনের স্বস্তি ও প্রত্যাশা কাজ করছে, যা এবারের ঈদের আনন্দকে আরও গভীর করেছে।
তিনি উল্লেখ করেন, জনগণের অংশগ্রহণমূলক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে একটি নির্বাচনের পর মানুষের মধ্যে যে মালিকানাবোধ তৈরি হওয়ার কথা, সেটি অনেকাংশেই ফিরে এসেছে বলে তার ধারণা। এই প্রেক্ষাপটে নাগরিকরা নিজেদের মত প্রকাশ, চলাফেরা এবং রাজনৈতিক অধিকার প্রয়োগের ক্ষেত্রে আরও স্বাধীনতা অনুভব করছেন বলেও তিনি মন্তব্য করেন। তার মতে, একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থায় এসব বিষয় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং সেগুলোর প্রতিফলন সামাজিক জীবন ও উৎসব উদযাপনের মধ্যেও দেখা যায়।
আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী আরও বলেন, একটি দেশের নাগরিকদের জন্য মুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের অন্যতম দায়িত্ব। মানুষ যেন অবাধে কথা বলতে পারে, স্বাধীনভাবে চলাফেরা করতে পারে এবং সাংবিধানিক অধিকার ভোগ করতে পারে—এটি গণতন্ত্রের মৌলিক শর্ত। তিনি বলেন, এসব অধিকার বাস্তবে কার্যকর থাকলে মানুষের মধ্যে আত্মবিশ্বাস তৈরি হয় এবং সামাজিক সম্প্রীতিও জোরদার হয়।
ঈদুল ফিতরের সঙ্গে এই মূল্যবোধগুলোর সম্পর্ক তুলে ধরে তিনি বলেন, উৎসবের প্রকৃত আনন্দ তখনই অনুভব করা সম্ভব, যখন মানুষ নিজেকে নিরাপদ ও স্বাধীন মনে করে। অন্যথায়, উৎসবের আনন্দ সীমিত হয়ে পড়ে। তার মতে, ধর্মীয় উৎসবগুলো কেবল আনুষ্ঠানিকতা নয়, বরং সামাজিক সংহতি ও পারস্পরিক সহমর্মিতা জোরদারের একটি গুরুত্বপূর্ণ উপলক্ষ।
সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি দেশব্যাপী শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, সামগ্রিকভাবে এমন একটি পরিবেশ বজায় রাখা প্রয়োজন, যেখানে ভিন্নমত প্রকাশের সুযোগ থাকবে এবং রাজনৈতিক সহনশীলতা প্রতিষ্ঠিত হবে। এতে করে দেশের উন্নয়ন প্রক্রিয়াও আরও গতিশীল হবে বলে তিনি মত দেন।
এ সময় তিনি দেশবাসীর প্রতি শুভেচ্ছা জানিয়ে বলেন, ঈদ উপলক্ষে মানুষের মধ্যে যে ভালোবাসা, ভ্রাতৃত্ববোধ ও সম্প্রীতির চর্চা দেখা যায়, তা সারা বছর ধরে বজায় রাখা প্রয়োজন। জাতি, ধর্ম ও বর্ণ নির্বিশেষে সবার মধ্যে পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ ও সহমর্মিতা বজায় থাকলে সমাজে স্থিতিশীলতা ও শান্তি প্রতিষ্ঠা সহজতর হয়।
পরিশেষে তিনি আশা প্রকাশ করেন, দেশের বিদ্যমান ইতিবাচক পরিবেশ ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে এবং নাগরিকদের গণতান্ত্রিক অধিকার নিশ্চিত করার মাধ্যমে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ গড়ে উঠবে। তার মতে, এই ধারাবাহিকতা বজায় থাকলে দেশের সামাজিক ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা আরও সুসংহত হবে, যা সামগ্রিক উন্নয়নের জন্য সহায়ক ভূমিকা পালন করবে।


