কুমিল্লায় লেভেল ক্রসিংয়ে বাস-ট্রেন সংঘর্ষে নিহতদের পরিবারকে এক লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ প্রদান ঘোষণা

কুমিল্লায় লেভেল ক্রসিংয়ে বাস-ট্রেন সংঘর্ষে নিহতদের পরিবারকে এক লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ প্রদান ঘোষণা

জাতীয় ডেস্ক

কুমিল্লায় লেভেল ক্রসিংয়ে ট্রেনের সঙ্গে বাসের সংঘর্ষে নিহতদের পরিবারকে এক লাখ টাকা করে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন রেল প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ। রোববার (২২ মার্চ) দুপুরে কুমিল্লা সদর দক্ষিণ উপজেলার পদুয়ারবাজার বিশ্বরোড এলাকায় দুর্ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এই তথ্য জানান।

রেল প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ দুর্ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে সরকারের ইতোমধ্যেই তাৎক্ষণিক ও দীর্ঘমেয়াদি পদক্ষেপ গ্রহণের বিষয়েও কথা বলেন। তিনি বলেন, রেলওয়ের কোনো ধরনের গাফিলতি বা দায়িত্বে অবহেলা সহ্য করা হবে না। এ ধরনের দুর্ঘটনা প্রতিরোধে রেলওয়ে ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে কঠোরভাবে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

আহতদের চিকিৎসা সংক্রান্ত পদক্ষেপের বিষয়ে হাবিবুর রশিদ জানান, তিনি ইতিমধ্যেই স্বাস্থ্যমন্ত্রীর সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন এবং আহতদের মধ্যে যাদের উন্নত চিকিৎসার প্রয়োজন, তাদের ঢাকায় নেওয়া হবে। পাশাপাশি, আহতদের চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের জন্য স্বাস্থ্যমন্ত্রী খোঁজখবর রাখছেন।

দুর্ঘটনাস্থল পরিদর্শনে ছিলেন কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ, খাদ্য ও মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী, বাংলাদেশ রেলওয়ের মহাপরিচালক মো. আফজাল হোসেন, কুমিল্লা জেলা প্রশাসক রেজা হাসান, জেলা পরিষদের প্রশাসক মো. মোস্তাক মিয়া, কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের প্রশাসক ইউসুফ মোল্লা টিপু এবং জেলা ও রেল মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা।

ঘটনাস্থল পরিদর্শন ও পরিস্থিতি মূল্যায়নের সময় রেল প্রতিমন্ত্রী দুর্ঘটনার কারণ নিরূপণ ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশনা প্রদান করেন। তিনি বলেন, লেভেল ক্রসিং এলাকায় চলাচলরত যাত্রীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও উন্নত করতে হবে।

বাংলাদেশে লেভেল ক্রসিং সংক্রান্ত দুর্ঘটনা প্রতিবছর কয়েকটি ক্ষেত্রে ঘটে আসছে, যা রেল ও সড়ক নিরাপত্তা নীতিতে ত্রুটি এবং যানবাহন পরিচালনার ক্ষেত্রে সচেতনতার অভাবকে নির্দেশ করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, লেভেল ক্রসিংগুলোতে আধুনিক সংকেত ব্যবস্থা, সচেতনতা বৃদ্ধি ও নিয়মিত মনিটরিং-এর মাধ্যমে এ ধরনের দুর্ঘটনা কমানো সম্ভব।

সরকার ইতোমধ্যেই বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। এর মধ্যে রয়েছে স্বয়ংক্রিয় রেলগেট স্থাপন, রেলগেট এলাকায় আন্ডারপাস ও ফ্লাইওভার নির্মাণ, এবং সঠিক সিগনাল ব্যবস্থা নিশ্চিত করা। এছাড়া, দুর্ঘটনা ঘটার পর তাৎক্ষণিক চিকিৎসা এবং জরুরি সেবা পৌঁছে দেওয়া নিশ্চিত করার জন্য স্বাস্থ্য ও রেল মন্ত্রণালয় একযোগে কাজ করছে।

রেল প্রতিমন্ত্রীর এই ঘোষণা নিহতদের পরিবার ও আহতদের জন্য আর্থিক ও চিকিৎসাসেবা নিশ্চিতকরণের পাশাপাশি ভবিষ্যতে দুর্ঘটনা প্রতিরোধে সরকারের প্রতিশ্রুতির প্রতিফলন হিসেবে মূল্যায়িত হচ্ছে। কুমিল্লা জেলার পদুয়ারবাজার বিশ্বরোড এলাকা পুনরায় নিরাপদ করে তোলার জন্য স্থানীয় প্রশাসন এবং রেল কর্তৃপক্ষ নিয়মিত তদারকি অব্যাহত রাখবে।

জাতীয় শীর্ষ সংবাদ