জাতীয় ডেস্ক
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের বিভিন্ন লেভেলক্রসিং এলাকায় অটোমেটিক গেট স্থাপন ও আধুনিকায়নের পরিকল্পনা করা হবে বলে জানিয়েছেন কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ। তিনি বলেন, এই উদ্যোগের মাধ্যমে দুর্ঘটনার ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব হবে।
মন্ত্রী রোববার বেলা এগারোটায় কুমিল্লার পদুয়ারবাজার বিশ্বরোড এলাকায় বাস ও ট্রেনের সংঘর্ষের পরিদর্শনকালে এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, “বিশ্বের অন্যান্য দেশে লেভেলক্রসিংগুলো আধুনিকীকৃত। নির্দিষ্ট স্থানে ট্রেন পৌঁছালে স্বয়ংক্রিয়ভাবে গেট বন্ধ হয়ে যায়। আজকের মতো দুর্ঘটনা তখন ঘটত না।”
মন্ত্রী আরও জানান, দুর্ঘটনার বিষয়টি গভীরভাবে তদন্ত করা হবে। ইতিমধ্যেই একাধিক তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। মৃতদের লাশ শনাক্তকরণের পর আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে। আহতদের জন্য প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে এবং গুরুতর আহতদের উন্নত চিকিৎসার জন্য প্রয়োজনে ঢাকায় বা বিদেশে পাঠানো হবে।
তিনি দুর্ঘটনার পরপরই কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে গিয়ে আহতদের খোঁজখবর নেন এবং চিকিৎসার অগ্রগতি সম্পর্কে হাসপাতালের চিকিৎসকদের সঙ্গে আলোচনা করেন। মন্ত্রী ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের প্রতি সহমর্মিতা প্রকাশ করে জানান, নিহত প্রত্যেক পরিবারের মরদেহ বাড়িতে নেওয়ার খরচ হিসেবে তাৎক্ষণিকভাবে ২৫ হাজার টাকা করে অনুদান দেওয়া হবে।
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের লেভেলক্রসিংগুলোতে দীর্ঘদিন ধরে নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়ে আসছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গেট ম্যানের অনুপস্থিতি এবং প্রাচীন সিগন্যাল ব্যবস্থা দুর্ঘটনার একটি বড় কারণ। অটোমেটিক সিগন্যাল এবং গেট স্থাপনের মাধ্যমে যানবাহন ও ট্রেনের চলাচল সমন্বয় আরও কার্যকর করা সম্ভব হবে, যা সামগ্রিক সড়ক নিরাপত্তা বৃদ্ধিতে সহায়ক হবে।
কৃষিমন্ত্রীর ঘোষণা অনুযায়ী, আগামী বৈঠকগুলোতে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে এ বিষয়ে আলোচনা হবে এবং দেশের প্রধান সড়কগুলোর লেভেলক্রসিংগুলো আধুনিক করার প্রকল্প দ্রুত বাস্তবায়নের দিকে অগ্রসর হবে। এতে যাত্রী ও ট্রাকচালকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত হওয়া ছাড়াও যানজট নিয়ন্ত্রণে সহায়ক ভূমিকা রাখবে।
প্রশাসনিক সূত্রে জানা গেছে, পরিকল্পিত অটোমেটিক গেট স্থাপনের সঙ্গে সঙ্গে স্থানীয় ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা ও জরুরি সিগন্যাল ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করার দিকেও মনোযোগ দেওয়া হবে। এটি কেবল দুর্ঘটনা কমাতে সাহায্য করবে না, বরং দেশের গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক ধারের ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের সরবরাহ চেইনও সুরক্ষিত থাকবে।
সূত্র মতে, চলতি বছর এ প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে দেশের প্রধান সড়কগুলোর নিরাপত্তা ব্যবস্থায় যুগান্তকারী পরিবর্তন আসবে এবং ভবিষ্যতে মহাসড়ক দুর্ঘটনা হ্রাসে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখবে।


