আন্তর্জাতিক ডেস্ক
ইরান যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সঙ্গে চলমান উত্তেজনা ও সম্ভাব্য সংঘাত নিরসনে ছয় দফা শর্ত উত্থাপন করেছে এবং জানিয়েছে, এসব শর্ত পূরণ না হলে কোনো ধরনের সমঝোতা বা যুদ্ধবিরতি সম্ভব নয়। দেশটির এক জ্যেষ্ঠ রাজনীতিক ও নিরাপত্তা কর্মকর্তা এ তথ্য জানিয়েছেন।
রোববার (২২ মার্চ) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে ওই কর্মকর্তা বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের বিরুদ্ধে প্রতিরক্ষামূলক অবস্থানকে কেন্দ্র করে ইরান পূর্বপরিকল্পিত একটি বহু-ধাপের কৌশল বাস্তবায়ন করছে। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, কয়েক মাস আগে প্রণীত এই পরিকল্পনা বর্তমানে ধাপে ধাপে কার্যকর করা হচ্ছে এবং এতে দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত প্রস্তুতি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
লেবাননের একটি গণমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি দাবি করেন, আঞ্চলিক বিভিন্ন স্থানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের বিমান প্রতিরক্ষা ও রাডার ব্যবস্থার ওপর হামলার পর ইরান এখন ইসরাইলের আকাশসীমায় কার্যত প্রভাব বিস্তার করেছে। তবে এ দাবির বিষয়ে স্বাধীন কোনো আন্তর্জাতিক সূত্র থেকে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
ওই কর্মকর্তা আরও বলেন, আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতিতে ইরানের নীতিগত অবস্থান হচ্ছে প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ অব্যাহত রাখা। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, ইরান এই অবস্থান থেকে সরে আসবে না, যতক্ষণ না তাদের দৃষ্টিতে আঞ্চলিক শক্তির ভারসাম্যে পরিবর্তন আসে এবং প্রতিপক্ষের নীতির জবাব দেওয়া সম্ভব হয়।
এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে বিভিন্ন আঞ্চলিক অংশীদার ও মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব তেহরানে পাঠানো হয়েছে বলে জানা গেছে। তবে ইরান স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছে, তাদের নির্ধারিত শর্তগুলো পূরণ না হলে কোনো ধরনের আলোচনায় অগ্রগতি সম্ভব নয়।
ইরানের প্রস্তাবিত ছয়টি শর্তের মধ্যে রয়েছে: ভবিষ্যতে কোনো সংঘাত এড়াতে কার্যকর নিরাপত্তা নিশ্চয়তা প্রদান, মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সব সামরিক ঘাঁটি বন্ধ করা, ইরানের ক্ষয়ক্ষতির জন্য ক্ষতিপূরণ দেওয়া, পুরো অঞ্চলে সব ধরনের সামরিক সংঘাত বন্ধ করা, হরমুজ প্রণালী নিয়ে নতুন আন্তর্জাতিক আইনি কাঠামো প্রণয়ন এবং ইরানবিরোধী হিসেবে বিবেচিত কিছু গণমাধ্যম ব্যক্তিকে বিচারের আওতায় আনা ও প্রত্যর্পণ।
বিশ্লেষকদের মতে, এসব শর্ত বাস্তবায়ন করা অত্যন্ত জটিল এবং আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক পরিসরে ব্যাপক আলোচনার প্রয়োজন হতে পারে। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি এবং হরমুজ প্রণালীর মতো কৌশলগত জলপথ নিয়ে নতুন আইনি কাঠামো তৈরির বিষয়টি বহুপাক্ষিক সমঝোতার ওপর নির্ভরশীল।
হরমুজ প্রণালী বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ রুট হিসেবে বিবেচিত, যেখানে দিয়ে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ তেল পরিবাহিত হয়। ফলে এ অঞ্চলে যেকোনো উত্তেজনা বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার ও অর্থনীতিতে প্রভাব ফেলতে পারে।
বর্তমান পরিস্থিতিতে ইরানের এই ছয় দফা প্রস্তাব আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নতুন করে কূটনৈতিক তৎপরতা বাড়াতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া ও পরবর্তী পদক্ষেপের ওপরই নির্ভর করবে সম্ভাব্য সমঝোতার ভবিষ্যৎ।


