তেল সরবরাহ স্বাভাবিক, প্রয়োজন হলে পাম্পে বাড়ানো হবে নিরাপত্তা: প্রতিমন্ত্রী

তেল সরবরাহ স্বাভাবিক, প্রয়োজন হলে পাম্পে বাড়ানো হবে নিরাপত্তা: প্রতিমন্ত্রী

বাংলাদেশ ডেস্ক

দেশে জ্বালানি তেলের সরবরাহ বর্তমানে স্বাভাবিক রয়েছে এবং পরিস্থিতি বিবেচনায় প্রয়োজনে পেট্রল পাম্পকেন্দ্রিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হবে বলে জানিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও রেলপথ প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ হাবিব। সোমবার (২৩ মার্চ) গণমাধ্যমে দেওয়া বক্তব্যে তিনি এসব তথ্য জানান।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে দেশে জ্বালানি তেলের সরবরাহ নিয়ে যে আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল, সরকার তা সফলভাবে মোকাবিলা করতে সক্ষম হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, তেলের সংকটকে কেন্দ্র করে বাজারে মূল্যবৃদ্ধির যে প্রবণতা তৈরি হতে পারত, তা-ও নিয়ন্ত্রণে রাখা হয়েছে। সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের ফলে ঈদযাত্রায় জ্বালানি সরবরাহে কোনো বিঘ্ন ঘটেনি এবং চাহিদা অনুযায়ী তেল সরবরাহ নিশ্চিত করা সম্ভব হয়েছে।

তিনি আরও জানান, ঈদের আগে দেশের বিভিন্ন পেট্রল পাম্পে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছিল। পরিস্থিতি বিবেচনায় ভবিষ্যতেও এ ধরনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা চালু রাখা হবে। বিশেষ করে পাম্পকেন্দ্রিক বিশৃঙ্খলা বা অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার আশঙ্কা থাকলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

অন্যদিকে, বাংলাদেশ পেট্রল পাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন জানিয়েছে, দেশের অধিকাংশ স্থানে জ্বালানি তেল সরবরাহ স্বাভাবিক রয়েছে। যেসব পাম্পে তেল মজুত রয়েছে, সেগুলো খোলা রাখা হয়েছে এবং যেখানে সরবরাহ সাময়িকভাবে নেই, সেখানে পাম্প বন্ধ রাখা হয়েছে। তবে কোনো পাম্প স্থায়ীভাবে বন্ধ হয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই বলে সংগঠনটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

সংগঠনটি আরও জানায়, সাম্প্রতিক সময়ে কিছু এলাকায় পেট্রল পাম্পে কর্মরত স্টাফদের ওপর হামলা ও ফিলিং স্টেশন ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। এ ধরনের ঘটনা প্রতিরোধে সংশ্লিষ্ট পাম্প মালিকদের সতর্ক করা হয়েছে। সোমবার (২৩ মার্চ) বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম ডিলার্স, ডিস্ট্রিবিউটর্স অ্যান্ড এজেন্টস অ্যাসোসিয়েশন এবং বাংলাদেশ পেট্রল পাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের কেন্দ্রীয় কমিটির আহ্বায়ক সৈয়দ সাজ্জাদুল করিম কাবুল স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

চিঠিতে পাম্প মালিকদের নিজ নিজ এলাকায় সতর্কতা জোরদার, কর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি মোকাবিলায় স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় বজায় রাখার আহ্বান জানানো হয়েছে। পাশাপাশি, জ্বালানি সরবরাহ কার্যক্রম নির্বিঘ্ন রাখতে সংশ্লিষ্ট সকলকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের ওপর গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, জ্বালানি তেলের সরবরাহ পরিস্থিতি স্থিতিশীল থাকলেও চাহিদা বৃদ্ধি বা সরবরাহে সাময়িক বিঘ্নের কারণে স্থানীয়ভাবে কিছু সমস্যা দেখা দিতে পারে। এ ধরনের পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকারি তদারকি এবং সংশ্লিষ্ট সংগঠনগুলোর সমন্বিত উদ্যোগ অব্যাহত রাখা প্রয়োজন।

জাতীয় শীর্ষ সংবাদ