শিক্ষা সংস্কার, কারিগরি দক্ষতা ও কৃষি সহায়তায় সরকারের পরিকল্পনা তুলে ধরলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

শিক্ষা সংস্কার, কারিগরি দক্ষতা ও কৃষি সহায়তায় সরকারের পরিকল্পনা তুলে ধরলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

জাতীয় ডেস্ক

দেশকে অর্থনৈতিকভাবে সমৃদ্ধ ও দক্ষ জনশক্তিনির্ভর রাষ্ট্রে পরিণত করতে শিক্ষা সংস্কার, কারিগরি প্রশিক্ষণ সম্প্রসারণ এবং প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করেছে সরকার—এমন মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। রোববার (২২ মার্চ) বিকেলে কক্সবাজারের পেকুয়া সরকারি মডেল জিএমসি ইনস্টিটিউশন অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের ঈদ পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।

অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, দেশের প্রচলিত শিক্ষা ব্যবস্থা দীর্ঘদিন ধরে ডিগ্রিধারী বেকার তৈরিতে ভূমিকা রেখেছে, যা পরিবর্তনের লক্ষ্যে সরকার কাজ করছে। কর্মমুখী ও দক্ষ নাগরিক গড়ে তুলতে শিক্ষা ব্যবস্থাকে নতুনভাবে সাজানোর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি। বিশেষ করে কারিগরি শিক্ষাকে গুরুত্ব দিয়ে দক্ষ জনশক্তি তৈরির ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে। তিনি উল্লেখ করেন, ভবিষ্যৎ শ্রমবাজারের চাহিদা পূরণে প্রযুক্তি ও ব্যবহারিক জ্ঞানের সমন্বয়ে শিক্ষাব্যবস্থাকে আধুনিকায়ন করা প্রয়োজন।

সরকারের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে বিভিন্ন সামাজিক ও অর্থনৈতিক কর্মসূচি হাতে নেওয়া হয়েছে বলেও জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। এর মধ্যে নারীর ক্ষমতায়নে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচির কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, এই উদ্যোগের মাধ্যমে পরিবারের অর্থনৈতিক কার্যক্রমে নারীদের অংশগ্রহণ বাড়ানো এবং তাদের আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার চেষ্টা করা হচ্ছে।

এছাড়া কৃষিখাতে সহায়তা জোরদারে সরকার শিগগিরই ‘কৃষি কার্ড’ চালু করার পরিকল্পনা করছে বলে জানান তিনি। এর মাধ্যমে কৃষকদের বিভিন্ন ভর্তুকি ও সহায়তা সহজে পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রথম মন্ত্রিসভা বৈঠকেই কৃষকদের জন্য ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত সুদসহ কৃষিঋণ মওকুফের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যা গ্রামীণ অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সহধর্মিণী এবং কক্সবাজার-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য হাসিনা আহমদসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা। অনুষ্ঠানে শিক্ষা, সামাজিক উন্নয়ন এবং স্থানীয় উদ্যোগ নিয়ে বিভিন্ন আলোচনা হয়।

একই দিন বিকেলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতের সুগন্ধা ও কলাতলী এলাকায় উচ্ছেদকৃত স্থান পরিদর্শন করেন। পরিদর্শনকালে তিনি সেখানে পরিচালিত উচ্ছেদ অভিযানের অগ্রগতি সম্পর্কে সংশ্লিষ্টদের কাছ থেকে অবহিত হন। ব্যবসায়ীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, সরকারি উন্নয়ন কর্মকাণ্ড বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্টদের সহযোগিতা প্রয়োজন এবং দেশের স্বার্থে সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, প্রশাসন শুধুমাত্র সরকারি জমিতে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের ক্ষেত্রে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করে এবং এ ধরনের কার্যক্রম পরিচালনায় প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়। ফলে কোনো ধরনের বিভ্রান্তি এড়াতে ব্যবসায়ী ও স্থানীয়দের প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় রেখে চলার আহ্বান জানান তিনি।

উল্লেখ্য, গত ৯ মার্চ কক্সবাজার জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় সমুদ্র সৈকতের বালুচরে গড়ে ওঠা ভাসমান অবৈধ স্থাপনা এক সপ্তাহের মধ্যে উচ্ছেদের নির্দেশনা দেওয়া হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে প্রশাসন সুগন্ধা ও কলাতলী এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে পাঁচ শতাধিক অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করে। এসব স্থাপনা দীর্ঘদিন ধরে সৈকতের স্বাভাবিক পরিবেশ ও সৌন্দর্য নষ্ট করছিল বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

সৈকত এলাকা পুনর্বিন্যাস ও পরিবেশ সংরক্ষণের লক্ষ্যে এই উচ্ছেদ অভিযান পরিচালিত হয়েছে বলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়। পর্যটননির্ভর অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতের পরিবেশ ও অবকাঠামো উন্নয়নে এই উদ্যোগ সহায়ক হবে বলে সংশ্লিষ্ট মহলের ধারণা।

জাতীয় শীর্ষ সংবাদ