আন্তর্জাতিক ডেস্ক
ইরান সতর্ক করেছে, নিজেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজন হলে দেশটি সব ধরনের সামরিক সক্ষমতা ব্যবহার করতে পিছপা হবে না। দেশটির সশস্ত্র বাহিনীর মুখপাত্র ইব্রাহিম যুলফাগারি এই মন্তব্য করেছেন।
ইরানের খাতাম আল-আনবিয়া কেন্দ্রীয় সদর দপ্তরের মুখপাত্র রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে বলেন, “ইরান অত্যন্ত দক্ষতা ও শক্তির সঙ্গে হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ করছে এবং এ বিষয়ে বাইরের কোনো দেশের হস্তক্ষেপের অধিকার নেই।” তিনি আরও দাবি করেন, ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) সম্প্রতি ইরাকের এরবিলে বিস্তৃত সামরিক অভিযান চালিয়েছে।
ইব্রাহিম যুলফাগারি ফার্স নিউজ এজেন্সির বরাতে জানান, একই সঙ্গে সংযুক্ত আরব আমিরাতের আল ধাফরা বিমানঘাঁটি, সৌদি আরবের প্রিন্স সুলতান বিমানঘাঁটি এবং মার্কিন নৌবাহিনীর পঞ্চম নৌবহরকে লক্ষ্য করে বিভিন্ন ধরনের সামরিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। এছাড়া ইসরাইলের আশকেলন, তেল আবিব, হাইফা এবং গুশ দান এলাকায় ক্ষেপণাস্ত্র হামলার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।
আইআরজিসি জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নীতি বা “প্রতারণামূলক আচরণ” ইরানকে যুদ্ধক্ষেত্র থেকে বিচ্যুত করতে পারবে না। মুখপাত্র যুলফাগারি বলেন, শত্রুপক্ষের মনস্তাত্ত্বিক কার্যক্রম স্পষ্ট হয়ে গেছে এবং যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল শেষ পর্যন্ত পিছু হটতে বাধ্য হবে।
বিশ্লেষকরা মনে করেন, ইরানের এই ঘোষণা মধ্যপ্রাচ্যে শক্তির ভারসাম্যকে প্রভাবিত করতে পারে এবং সামরিক উত্তেজনার সম্ভাবনা বৃদ্ধি করতে পারে। হরমুজ প্রণালি আন্তর্জাতিক জলপথ হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ, যা বিশ্বের কাঁচামাল ও জ্বালানি সরবরাহে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তাই ইরানের কড়া অবস্থান আন্তর্জাতিক অর্থনীতি ও নৌপথ নিরাপত্তার ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলতে পারে।
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সাম্প্রতিক কালে রাজনৈতিক ও সামরিক উত্তেজনা তীব্রভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। আইআরজিসির হুমকি এবং সামরিক কর্মকাণ্ডের উল্লেখ এই উত্তেজনাকে আরও জোরদার করেছে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এই পরিস্থিতি নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করছে এবং মধ্যপ্রাচ্যে স্থায়ী শান্তি ও নিরাপত্তা রক্ষার জন্য কূটনৈতিক প্রচেষ্টা বাড়ানো হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, কোনো অতর্কিত সংঘাত হরমুজ প্রণালির মাধ্যমে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে বিঘ্ন ঘটাতে পারে। এ কারণে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা অবিলম্বে দুইপক্ষের মধ্যে উত্তেজনা কমানোর জন্য সংলাপ শুরু করার পরামর্শ দিচ্ছেন।


