ইরান-যুক্তরাষ্ট্র আলোচনার দাবিতে বিভ্রান্তি, তেহরানের অস্বীকৃতি

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র আলোচনার দাবিতে বিভ্রান্তি, তেহরানের অস্বীকৃতি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইরানের কোনো আনুষ্ঠানিক আলোচনা হয়নি বলে স্পষ্টভাবে অস্বীকার করেছে তেহরান। দেশটির পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাগের গালিবাফ এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় পৃথকভাবে এ দাবি করেছেন। তবে একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে উচ্চপর্যায়ের আলোচনার দাবি তোলা হয়েছে, যা দুই দেশের অবস্থানের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি করেছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাগের গালিবাফ বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো ধরনের আলোচনা হয়নি। তিনি অভিযোগ করেন, আন্তর্জাতিক আর্থিক ও জ্বালানি বাজার নিয়ন্ত্রণ এবং যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বর্তমান পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসার কৌশল হিসেবে মিথ্যা তথ্য ছড়ানো হচ্ছে।

এর আগে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাগাই এক বিবৃতিতে একই ধরনের অবস্থান তুলে ধরেন। তিনি জানান, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সরাসরি আলোচনার খবর সঠিক নয় এবং হরমুজ প্রণালি ও চলমান সংঘাত বন্ধের শর্ত নিয়ে তেহরানের অবস্থানে কোনো পরিবর্তন আসেনি।

ইরানের রাষ্ট্রায়ত্ত বার্তা সংস্থা ইরনার বরাতে বাগাই বলেন, কিছু মিত্র দেশের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে যুদ্ধবিরতির লক্ষ্যে আলোচনার অনুরোধসংক্রান্ত বার্তা পাওয়া গেছে। তবে তিনি ইঙ্গিত দেন, এই যোগাযোগ সরাসরি নয় এবং আনুষ্ঠানিক আলোচনার পর্যায়ে পৌঁছেনি। একই সঙ্গে তিনি সতর্ক করে বলেন, ইরানের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর ওপর যেকোনো হামলার ক্ষেত্রে কঠোর প্রতিক্রিয়া জানানো হবে।

অন্যদিকে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের এক প্রতিবেদনে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের উদ্ধৃত করে বলা হয়েছে, মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে কিছু বার্তা তেহরান পেয়েছে এবং সেগুলো পর্যালোচনা করা হচ্ছে। এতে বোঝা যায়, আনুষ্ঠানিক আলোচনা না হলেও কূটনৈতিক যোগাযোগ সম্পূর্ণ বন্ধ নয়।

এর বিপরীতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, ইরানের জ্যেষ্ঠ নেতাদের সঙ্গে তাদের আলোচনা হয়েছে এবং এতে অগ্রগতি অর্জিত হয়েছে। তিনি বলেন, আলোচনায় উভয় পক্ষ বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে একমত হতে পেরেছে।

ফ্লোরিডার একটি বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প জানান, আলোচনাটি শক্তিশালী ও ফলপ্রসূ ছিল এবং তা পরবর্তী দিনগুলোতেও অব্যাহত থাকতে পারে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, উভয় পক্ষ একটি চুক্তিতে পৌঁছাতে আগ্রহী এবং ভবিষ্যতে ফোনালাপের মাধ্যমেও আলোচনা চলতে পারে।

যদিও ট্রাম্প ইরানের কোন প্রতিনিধির সঙ্গে এই আলোচনা হয়েছে, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট করে কিছু জানাননি, তবে তিনি দাবি করেন, এতে ইরানের একজন শীর্ষ পর্যায়ের নেতা অংশ নিয়েছেন।

বিশ্লেষকদের মতে, উভয় দেশের পরস্পরবিরোধী বক্তব্য মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে কূটনৈতিক অবস্থানকে জটিল করে তুলছে। একদিকে যুক্তরাষ্ট্র সম্ভাব্য সমঝোতার ইঙ্গিত দিচ্ছে, অন্যদিকে ইরান আনুষ্ঠানিক আলোচনার বিষয়টি অস্বীকার করছে। এতে বোঝা যায়, কূটনৈতিক যোগাযোগ আড়ালে চললেও তা প্রকাশ্যে স্বীকৃতি দেওয়ার ক্ষেত্রে উভয় পক্ষ সতর্ক অবস্থান গ্রহণ করছে।

বর্তমান পরিস্থিতিতে হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা, জ্বালানি সরবরাহ এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা আন্তর্জাতিক পর্যায়ে গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। ফলে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার যেকোনো যোগাযোগ বা সমঝোতা এই অঞ্চলের নিরাপত্তা পরিস্থিতি এবং বৈশ্বিক অর্থনীতির ওপর উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলতে পারে।

আন্তর্জাতিক শীর্ষ সংবাদ