মসলিন সংরক্ষণ ও জামদানি ভিলেজ প্রকল্পে ত্বরান্বিত পদক্ষেপ নিচ্ছে সরকার

মসলিন সংরক্ষণ ও জামদানি ভিলেজ প্রকল্পে ত্বরান্বিত পদক্ষেপ নিচ্ছে সরকার

অর্থ বাণিজ্য ডেস্ক

বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী শরিফুল আলম জানিয়েছেন, বাংলাদেশের প্রাচীন ঐতিহ্য মসলিন সংরক্ষণ ও প্রসারে সরকার বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। তিনি বলেন, ‘মসলিন বাংলাদেশের ঐতিহ্য। আমরা এই ঐতিহ্যকে অনুসন্ধান করতে ইংল্যান্ড পর্যন্ত গিয়েছি এবং সেখান থেকে সংগ্রহকৃত তথ্য ও নমুনা দেশে এনেছি। পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে থাকা বিশেষজ্ঞরা এর নমুনা সংগ্রহ করে ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে প্রকৃত অবস্থান নির্ধারণ করেছেন। এই ঐতিহ্য সংরক্ষণের জন্য সরকার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।’

মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) সকালে নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলার তারাব এলাকায় বাংলাদেশ তাঁত বোর্ড পরিচালিত ঢাকাই মসলিন হাউজ ও জামদানি ভিলেজ পরিদর্শনের সময় প্রতিমন্ত্রী সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান। তিনি বলেন, ‘গবেষণা কার্যক্রম, বাজার সম্প্রসারণ, বীজের বিভিন্ন বৈচিত্র্য ও উন্নত জাত উদ্ভাবনসহ সংশ্লিষ্ট কার্যক্রম এখান থেকে পরিচালিত হবে। প্রয়োজনীয় সকল পদক্ষেপ মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে নেওয়া হবে।’

জামদানি ভিলেজ প্রকল্পের অগ্রগতি সম্পর্কেও প্রতিমন্ত্রী জানান, ‘প্রকল্পটি সম্পন্ন করতে সরকার গুরুত্বারোপ করছে। প্রকল্পের মেয়াদ এই বছর শেষ হওয়ার কথা থাকলেও সুচারুভাবে কাজ সম্পন্ন করার জন্য মেয়াদ বৃদ্ধি করার প্রক্রিয়া চলছে। প্রাথমিক কাজ যেমন মাটি ভরাট, সীমানা দেয়াল নির্মাণ ও ড্রেনেজ ব্যবস্থা ইতিমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। এখানে ছয়তলা ও তিনতলা দুটি ভবন নির্মাণ করা হবে। দরপত্রের প্রক্রিয়া শেষ হয়েছে এবং চলতি অর্থবছরে মসলিন প্রযুক্তি আগ্রহী ব্যক্তিদের কাছে হস্তান্তর করা হবে।’

বন্ধ থাকা পাটকল পুনরায় চালু করার বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘নির্বাচনী ইশতেহারে এই প্রতিশ্রুতি ছিল। ইতিমধ্যে বন্ধ পাটকল চালু করার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে এবং তা পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়ন করা হবে।’

পরিদর্শনকালে বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের সচিব বিলকিস জাহান রিমি, যুগ্ম সচিব জাহিদ হোসেন, জেলা প্রশাসক মো. রায়হান কবির, পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান মুন্সী, রূপগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাইফুল ইসলামসহ অন্যান্য কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন।

প্রতিমন্ত্রীর এই মন্তব্য ও পরিকল্পনা দেশের ঐতিহ্যবাহী বস্ত্র শিল্পের উন্নয়ন এবং পাটকল পুনরায় সচল করার মাধ্যমে শিল্পীদের কর্মসংস্থান বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মসলিন ও জামদানি সংরক্ষণ কার্যক্রম দেশের বস্ত্র খাতের আন্তর্জাতিক অবস্থান শক্তিশালী করতে সাহায্য করবে।

অর্থ বাণিজ্য শীর্ষ সংবাদ