অর্থ বাণিজ্য ডেস্ক
চলতি মার্চ মাসের প্রথম ২৩ দিনে প্রবাসী বাংলাদেশিরা দেশে প্রায় ২ দশমিক ৮৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন, যা দেশীয় মুদ্রায় (প্রতি ডলার ১২২ টাকা হিসাবে) প্রায় ৩৪ হাজার ৫০২ কোটি টাকার সমপরিমাণ। মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান এ তথ্য জানিয়েছেন।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, মার্চের প্রথম ২৩ দিনে মোট ২৮২ কোটি ৮০ লাখ ডলার রেমিট্যান্স দেশে এসেছে। গত বছরের একই সময়ে এ পরিমাণ ছিল ২৬৩ কোটি ৩০ লাখ ডলার। সে হিসাবে এক বছরের ব্যবধানে রেমিট্যান্স বেড়েছে ১৯ কোটি ৫০ লাখ ডলার, যা দেশীয় মুদ্রায় প্রায় ২ হাজার ৩৭৯ কোটি টাকার সমান।
রেমিট্যান্স প্রবাহের এই ঊর্ধ্বমুখী ধারা দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ স্থিতিশীল রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। বৈদেশিক আয়ের অন্যতম প্রধান উৎস হিসেবে রেমিট্যান্স দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে আসছে। বিশেষ করে আমদানি ব্যয় মেটানো, বৈদেশিক লেনদেনের ভারসাম্য রক্ষা এবং মুদ্রার বিনিময় হার স্থিতিশীল রাখতে এ খাতের ভূমিকা উল্লেখযোগ্য।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসেও রেমিট্যান্স প্রবাহে উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি লক্ষ্য করা গেছে। ওই মাসে দেশে মোট ৩ দশমিক ২ বিলিয়ন ডলার বা ৩০২ কোটি ডলার রেমিট্যান্স এসেছে, যা দেশীয় মুদ্রায় প্রায় ৩৭ হাজার কোটি টাকার সমান। আগের বছরের একই মাসে রেমিট্যান্সের পরিমাণ ছিল ২৫২ কোটি ডলার। সে হিসাবে ফেব্রুয়ারিতে রেমিট্যান্স প্রবৃদ্ধি হয়েছে প্রায় ১৯ দশমিক ৫ শতাংশ।
বিশ্লেষকদের মতে, প্রবাসী আয়ের ধারাবাহিক প্রবৃদ্ধির পেছনে বিভিন্ন কারণ কাজ করছে। বৈধ চ্যানেলে অর্থ প্রেরণে সরকারের প্রণোদনা, ব্যাংকিং ব্যবস্থার সহজলভ্যতা বৃদ্ধি এবং হুন্ডির বিরুদ্ধে নজরদারি জোরদার হওয়ায় প্রবাসীরা এখন অধিক হারে আনুষ্ঠানিক মাধ্যমে অর্থ পাঠাতে আগ্রহী হচ্ছেন। এছাড়া মধ্যপ্রাচ্যসহ বিভিন্ন শ্রমবাজারে বাংলাদেশি কর্মীদের সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়াও রেমিট্যান্স প্রবাহ বৃদ্ধিতে সহায়ক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের সার্বিক চিত্রেও রেমিট্যান্স প্রবাহে ইতিবাচক প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। অর্থবছরের শুরু থেকে ২৩ মার্চ পর্যন্ত মোট রেমিট্যান্স এসেছে ২ হাজার ৫২৮ কোটি ১০ লাখ মার্কিন ডলার। গত অর্থবছরের একই সময়ে এ পরিমাণ ছিল ২ হাজার ১১২ কোটি ৩০ লাখ ডলার। সে হিসাবে এক বছরের ব্যবধানে রেমিট্যান্স বেড়েছে প্রায় ১৯ দশমিক ৭০ শতাংশ।
অর্থনীতিবিদরা মনে করছেন, এই প্রবৃদ্ধি অব্যাহত থাকলে চলতি অর্থবছরের শেষে মোট রেমিট্যান্স আয়ের পরিমাণ আরও বৃদ্ধি পেতে পারে, যা সামগ্রিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সহায়ক হবে। একই সঙ্গে বৈদেশিক মুদ্রার সংকট মোকাবিলা এবং আমদানি ব্যয় নির্বাহে এ প্রবাহ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।


