শিক্ষা ডেস্ক
রমজান মাসজুড়ে বিদ্যালয় বন্ধ থাকার কারণে সৃষ্ট শিখন ঘাটতি পূরণে দেশের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে অতিরিক্ত ১০টি শনিবার পাঠদান কার্যক্রম চালু রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। মঙ্গলবার শিক্ষা অধিদপ্তরের এক পরিপত্রে এ নির্দেশনা জারি করা হয়েছে।
শিক্ষা অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. জয়নাল আবেদীন স্বাক্ষরিত পরিপত্রে জানানো হয়, রমজান মাসে টানা ছুটির কারণে শিক্ষার্থীদের পাঠদানে যে বিরতি তৈরি হয়েছে, তা কাটিয়ে উঠতে রমজানের ছুটি শেষে বিদ্যালয়ে নিয়মিত শ্রেণি কার্যক্রম শুরুর পরবর্তী ১০টি শনিবার পাঠদান চালু রাখতে হবে। এ সিদ্ধান্ত দেশের সব সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের জন্য প্রযোজ্য হবে।
পরিপত্রে আরও উল্লেখ করা হয়, এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি গ্রহণ এবং কার্যকর বাস্তবায়নের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। জেলা পর্যায়ে বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে ইতোমধ্যে সব জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে চিঠি পাঠানো হয়েছে, যাতে তারা নিজ নিজ অধিক্ষেত্রে বিদ্যালয়গুলোতে নির্দেশনাটি যথাযথভাবে কার্যকর করতে পারেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘ ছুটির ফলে শিক্ষার্থীদের নিয়মিত পাঠাভ্যাসে বিঘ্ন ঘটে এবং নির্ধারিত পাঠ্যসূচি সম্পন্ন করতেও বিলম্ব হয়। এ অবস্থায় শিক্ষার্থীদের শেখার ধারাবাহিকতা বজায় রাখা এবং পাঠ্যসূচি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শেষ করতে অতিরিক্ত পাঠদানের এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
শিক্ষা সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, অতিরিক্ত শ্রেণি কার্যক্রমের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা পূর্বে শেখা বিষয়গুলো পুনরাবৃত্তি করার সুযোগ পাবে এবং নতুন পাঠও দ্রুত এগিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে। এতে বার্ষিক মূল্যায়ন ও পরীক্ষার প্রস্তুতিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এদিকে, বিদ্যালয় খোলা রাখার এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের সমন্বিত অংশগ্রহণ প্রয়োজন হবে বলে সংশ্লিষ্টরা উল্লেখ করেছেন। বিশেষ করে সাপ্তাহিক ছুটির দিনে শ্রেণি কার্যক্রম পরিচালনা করতে হলে বিদ্যালয় ব্যবস্থাপনা কমিটি এবং স্থানীয় প্রশাসনের সহযোগিতাও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এ পদক্ষেপকে শিক্ষা কার্যক্রমের ধারাবাহিকতা রক্ষার একটি প্রশাসনিক উদ্যোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে, যা শিক্ষার্থীদের সামগ্রিক শিক্ষাগত অগ্রগতি নিশ্চিত করতে সহায়ক হতে পারে।


