জাতীয় ডেস্ক
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী ওয়াশিংটন ডিসিতে আয়োজিত এক বৈশ্বিক সম্মেলনের ফাঁকে মার্কিন বিশেষ দূত চার্লস জে হার্ডার-এর সঙ্গে বৈঠক করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সহধর্মিণী, চিকিৎসক ও সমাজসেবী ডা. জুবাইদা রহমান। মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরে অনুষ্ঠিত ‘ফস্টারিং দ্য ফিউচার টুগেদার গ্লোবাল কোয়ালিশন সামিট’-এর কার্যক্রমের বিরতিতে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, বৈঠকে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের সামগ্রিক উন্নয়ন নিশ্চিত করতে বহুমাত্রিক সহযোগিতার বিষয়গুলো গুরুত্ব পায়। বিশেষ করে শিশুদের জন্য নিরাপদ, স্বাস্থ্যসম্মত ও সহায়ক পরিবেশ গড়ে তোলা, মানসম্মত শিক্ষা সম্প্রসারণ এবং জনস্বাস্থ্য খাতে টেকসই অগ্রগতি অর্জনের কৌশল নিয়ে আলোচনা হয়। উভয় পক্ষই এসব ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক অংশীদারিত্ব জোরদারের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
আলোচনায় পরিবারভিত্তিক সহায়তা কর্মসূচির সম্প্রসারণ, শিশুদের পুষ্টি নিশ্চিতকরণ এবং মানসিক বিকাশে সহায়ক উদ্যোগ গ্রহণের বিষয়ও উঠে আসে। পাশাপাশি অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ গঠনে নীতিগত সমন্বয় ও অভিজ্ঞতা বিনিময়ের মাধ্যমে যৌথভাবে কাজ করার সম্ভাবনা নিয়ে মতবিনিময় হয়।
দুই দিনব্যাপী ‘ফস্টারিং দ্য ফিউচার টুগেদার গ্লোবাল কোয়ালিশন সামিট’ আয়োজন করে হোয়াইট হাউস। সম্মেলনের উদ্বোধন করেন মার্কিন ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্প। এতে বিশ্বের ৪৫টি দেশের সরকারপ্রধানদের স্ত্রী, ফার্স্ট লেডি, ফার্স্ট জেন্টেলম্যান এবং সমমর্যাদার প্রতিনিধিরা অংশ নেন। বৈশ্বিক পর্যায়ে শিশু ও পরিবারের কল্যাণে নীতিগত দিকনির্দেশনা এবং সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণই সম্মেলনের প্রধান উদ্দেশ্য হিসেবে নির্ধারিত ছিল।
সম্মেলনের বিভিন্ন অধিবেশনে অংশগ্রহণের পাশাপাশি ডা. জুবাইদা রহমান বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিদের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক মতবিনিময় করেন। এতে বাংলাদেশে শিশুস্বাস্থ্য, শিক্ষা ও সামাজিক সুরক্ষা খাতে চলমান কার্যক্রম এবং সম্ভাব্য আন্তর্জাতিক সহযোগিতার ক্ষেত্রগুলো তুলে ধরা হয় বলে জানা গেছে।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ড. মোর্শেদ হাসান খান, যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত তারেক মো. আরিফুল ইসলাম, প্রধানমন্ত্রীর সিনিয়র চিকিৎসা কর্মকর্তা ডা. শাহ মুহাম্মদ আমান উল্লাহ, নারী উদ্যোক্তা মেহনাজ মান্নান এবং যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশ দূতাবাসের ডেপুটি চিফ অব মিশন ডি. এম. সালাহউদ্দিন মাহমুদ।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এ ধরনের আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্মে অংশগ্রহণ এবং বৈঠকসমূহের মাধ্যমে শিশু ও পরিবারকল্যাণে বৈশ্বিক সহযোগিতা জোরদার হওয়ার পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট খাতে নীতি-সমন্বয়ের সুযোগ সৃষ্টি হতে পারে, যা উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য বিশেষ তাৎপর্য বহন করে।


