ঢাকায় মধ্যপ্রাচ্য সংকটের প্রভাবে ৭৭৫ ফ্লাইট বাতিল

ঢাকায় মধ্যপ্রাচ্য সংকটের প্রভাবে ৭৭৫ ফ্লাইট বাতিল

জাতীয় ডেস্ক

মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতির প্রভাবে টানা প্রায় এক মাসে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ৭৭৫টি ফ্লাইট বাতিল হয়েছে। ইরান, ইরাক, কুয়েত, সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন, কাতার ও জর্ডানের আকাশসীমা বন্ধ রাখায় এই পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে।

ফ্লাইট ব্যবস্থাপনা সূত্র জানায়, ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ২৫ মার্চ পর্যন্ত প্রতিদিন উল্লেখযোগ্য সংখ্যক ফ্লাইট বাতিল হয়েছে। এই সময়ের মধ্যে ২ মার্চ সর্বাধিক ৪৬টি, ১ মার্চ ৪০টি এবং ৩ মার্চ ৩৯টি ফ্লাইট বাতিল হয়। পরে ধীরে ধীরে বাতিলের সংখ্যা কমলেও প্রতিদিন গড়ে ২০ থেকে ৩০টি ফ্লাইট বাতিলের ধারা অব্যাহত থাকে।

২৬ মার্চও বিভিন্ন এয়ারলাইনসের ২২টি ফ্লাইট বাতিল হয়। এদের মধ্যে রয়েছে কুয়েত এয়ারওয়েজ, এয়ার অ্যারাবিয়া, গালফ এয়ার, কাতার এয়ারওয়েজ, এমিরেটস ও জাজিরা এয়ারওয়েজ। এতে মোট বাতিল ফ্লাইটের সংখ্যা ৭৭৫টিতে পৌঁছেছে।

যাইহোক, ফ্লাইট বাতিলের পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যগামী কিছু রুটে সীমিত পরিসরে ফ্লাইট পরিচালনাও অব্যাহত রাখা হয়েছে। বিশেষ করে ওমানের মাস্কাট, সৌদি আরব এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতগামী ফ্লাইটগুলো ধীরে ধীরে বেড়ে আসছে। ফ্লাইট ব্যবস্থাপনার তথ্য অনুযায়ী, ২৮ ফেব্রুয়ারি মাত্র ৬টি ফ্লাইট পরিচালিত হয়েছিল। মার্চের মাঝামাঝি সময়ে দৈনিক ফ্লাইট সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পায়। ১৫ মার্চ সর্বোচ্চ ৪৯টি এবং ২৪ মার্চ ৫০টি ফ্লাইট পরিচালিত হয়। ২৬ মার্চের জন্যও ৫০টি ফ্লাইট পরিচালনার পরিকল্পনা রয়েছে। এর মধ্যে মাস্কাটগামী ৮টি, সৌদি আরবগামী ২২টি এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতগামী ২০টি ফ্লাইট রয়েছে। সংযুক্ত আরব আমিরাতের মধ্যে দুবাই, আবুধাবি ও শারজাহ তিনটি গন্তব্যে সবচেয়ে বেশি ফ্লাইট পরিচালিত হচ্ছে।

বিমান চলাচল সংশ্লিষ্টরা জানান, আকাশসীমা সংকটের মধ্যেও শ্রমবাজার ও প্রবাসী যাত্রীদের চাহিদা বিবেচনায় বিকল্প রুট ও সীমিত পরিসরে ফ্লাইট চালু রাখা হয়েছে। বিশেষ করে সৌদি আরব ও ওমান রুটে কর্মী পরিবহন এবং সংযুক্ত আরব আমিরাত রুটে যাত্রী চাহিদার কারণে ধাপে ধাপে ফ্লাইট সংখ্যা বাড়ানো হচ্ছে।

ফ্লাইট বাতিল এবং সীমিত পরিচালনার কারণে ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ২৬ মার্চ পর্যন্ত মোট পরিচালিত ও পরিকল্পিত ফ্লাইটের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ১৫টি। তবে বিপুলসংখ্যক ফ্লাইট বাতিল হওয়ায় যাত্রীদের ভোগান্তি এখনও পুরোপুরি দূর হয়নি। বিমান চলাচল সংশ্লিষ্টরা বলছেন, মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত ফ্লাইট সূচিতে অনিশ্চয়তা থাকবে।

জাতীয় শীর্ষ সংবাদ