অর্থ বাণিজ্য ডেস্ক
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়কে বিদেশগামী শিক্ষার্থীদের জন্য ১০ লাখ টাকা করে ঋণ প্রদানের ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন। এই নির্দেশনা প্রধানমন্ত্রী কর্তৃক সরকারের উচ্চ পর্যায়ের বৈঠকের পর দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে সরকারের প্রধানের সঙ্গে বৈঠকের পর প্রবাসী কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর সাংবাদিকদের জানান।
প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর বলেন, প্রধানমন্ত্রী কোরিয়া, জাপান, চায়না, জার্মানি প্রভৃতি দেশে শিক্ষার্থীদের পাঠানোর ক্ষেত্রে ব্যাংক গ্যারান্টি বা ব্যাংক সলভেন্সি হিসেবে প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংকের মাধ্যমে ১০ লাখ টাকার ঋণ প্রদানের নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি জানান, প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংককে এই ঋণ প্রদানের জন্য বিশেষভাবে নির্ধারিত করা হয়েছে।
প্রতিমন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন, দেশ থেকে বিদেশে শ্রমবাজারে অংশগ্রহণকারীদের জন্য বিভিন্ন দেশের পরিস্থিতি মূল্যায়ন করা হচ্ছে। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধে বাংলাদেশের শ্রমিক ও শিক্ষার্থীদের সম্ভাব্য প্রভাব এবং সংকট নিয়েও আলোচনা হয়েছে। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী ভাষা শিক্ষার গুরুত্ব সবসময় উল্লেখ করেছেন, যা শিক্ষার্থীদের ভালো বেতন ও সুযোগের ক্ষেত্রে সহায়ক হবে। জাপানে এক লাখ শিক্ষার্থী পাঠানোর জন্য ইতিমধ্যেই একটি এমওইউ হয়েছে। এছাড়া ইউরোপের বিভিন্ন দেশের ভিসার জন্য শিক্ষার্থীদের ইন্ডিয়ায় যেতে হয়; এ ধরনের অসুবিধা দূরীকরণে প্রধানমন্ত্রী পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে নির্দেশ দিয়েছেন যেন বাংলাদেশে সংশ্লিষ্ট দেশের কনস্যুলার সেবা নিশ্চিত করা হয়।
একই সময়ে, রাজধানীর যানজট নিরসনে প্রধানমন্ত্রী কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন। সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ‘ঢাকা শহরের যানজট নিরসন ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা আধুনিকায়ন’ সংক্রান্ত সভায় এই নির্দেশ দেওয়া হয়। বৈঠকে ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার আধুনিকায়ন, অটোরিকশা নিয়ন্ত্রণ, ফুটপাত দখলমুক্ত করা এবং স্থানীয় প্রযুক্তি ব্যবহার করে দ্রুত সমাধান প্রদানের বিষয়গুলো গুরুত্বের সঙ্গে আলোচনা করা হয়।
সভায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, সড়ক পরিবহন, সেতু, রেলপথ ও নৌপরিবহন মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম, রেল প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ হাবিব, শ্রমিক নেতা শামছুর রহমান শিমুল বিশ্বাস, ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন (ডিএসসিসি) প্রশাসক আবদুস সালাম, ঢাকা উত্তরের প্রশাসক শফিকুল ইসলাম মিল্টন, রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক) চেয়ারম্যান রিয়াজুল ইসলাম রিজু, বিআরটিসি চেয়ারম্যান আবদুল লতিফ মোল্লা, পুলিশের মহাপরিদর্শক আলী হোসেন ফকিরসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
সভার শেষে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, দেশীয় প্রযুক্তি ব্যবহার করে নগরের ১২০টি ট্রাফিক সিগন্যাল অটোমেশনের আওতায় আনা হবে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, এই উদ্যোগের মাধ্যমে এপ্রিলের শেষ নাগাদ নগরবাসী যানজট নিয়ন্ত্রণে কিছুটা সুফল পাবেন। ডিএসসিসি প্রশাসক জানান, আগামী এক মাসের মধ্যে বিভিন্ন উদ্যোগ সমন্বয় করে যানজট কমানোর চেষ্টা করা হবে। অটোরিকশা নিয়ন্ত্রণ এবং চালকদের বিকল্প কাজের ব্যবস্থা সংক্রান্ত আলোচনা ধাপে ধাপে বাস্তবায়িত হবে।
ঢাকা উত্তর সিটির প্রশাসক শফিকুল ইসলাম মিল্টন বলেন, প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তিন ঘণ্টার বৈঠকে ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার গুরুত্বপূর্ণ দিকগুলো আলোচনা করা হয়েছে এবং সময় নির্ধারণ করে পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
সূত্র : বাংলাদেশ প্রতিদিন


