মধ্যপ্রাচ্যে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার তীব্রতা বৃদ্ধি

মধ্যপ্রাচ্যে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার তীব্রতা বৃদ্ধি

অন্তর্জাতিক ডেস্ক

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাত নতুন মাত্রায় পৌঁছেছে। একের পর এক ড্রোন ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় সৌদি আরব, কুয়েত, ইসরায়েল এবং অন্যান্য দেশ চাপের মুখে পড়েছে। সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে দেখা গেছে, বিভিন্ন দেশের সেনা বাহিনী লক্ষ্যভিত্তিক প্রতিক্রিয়ার মাধ্যমে হামলার প্রভাব কমাতে চেষ্টা করছে।

সৌদি আরবের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানায়, দেশের পূর্বাঞ্চলে একাধিক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং কয়েক ডজন ড্রোন ধ্বংস করা হয়েছে। মন্ত্রণালয় ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ধ্বংসের ধাপসমূহের তথ্য প্রকাশ করলেও হামলার উৎস বা কোন ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে তা বিস্তারিতভাবে জানায়নি। নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই হামলার কারণে দেশটির প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার সক্ষমতা যাচাইয়ের একটি পরীক্ষা হচ্ছে।

কুয়েতেও একাধিক ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঘটনা ঘটেছে। দেশটির সেনাবাহিনী নাগরিকদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে। কুয়েত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের একটি জ্বালানি ট্যাংকে আগুন লেগেছে, যা চলমান সংঘাতে ওই বিমানবন্দরে তৃতীয়বারের মতো হামলার ঘটনা। কুয়েত ন্যাশনাল গার্ড জানিয়েছে, তারা অন্তত পাঁচটি ড্রোন ভূপাতিত করেছে এবং রাতের বেলা ১২ থেকে ১৩ বার সতর্কতা সাইরেন বাজানো হয়েছে, যা দেশে সর্বোচ্চ সতর্কতার স্তর হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

জর্ডানের রাজধানী আম্মানের দক্ষিণে ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষ পড়ার ঘটনা ঘটেছে। তবে এই ঘটনায় বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এটি একটি স্পর্শকাতর সংকেত যা প্রতিবেশী দেশগুলোর নিরাপত্তা ব্যবস্থার জন্য সতর্কবার্তা হিসেবে কাজ করছে।

ইসরায়েলের উত্তরে লেবানন থেকে ছোড়া প্রজেক্টাইলের পর কিরিয়াত শমোনা এলাকায় সাইরেন বাজে ওঠে। এতে একটি নির্মাণাধীন ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হলেও হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। এর আগে ইরান ও হিজবুল্লাহর হামলায় উত্তর ইসরায়েলে একজন নিহত এবং তেলআবিবের আশেপাশে কয়েকজন আহত হয়েছেন। ইরান থেকে ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্রের সতর্কতায় মধ্য ইসরায়েলজুড়ে সাইরেন বাজানো হয়। সাম্প্রতিক এই ঘটনার কারণে অঞ্চলটির নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও অস্থির হয়ে উঠেছে।

বাহরাইনেও হামলার সতর্কতা জারি করা হয়েছে। দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় নাগরিকদের দ্রুত নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা বলছেন, এই সতর্কতা মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাতের পরিধি ও প্রকৃতি সম্পর্কে দেশের নাগরিকদের সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে নেওয়া হয়েছে।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান এই ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পরিসর বৃদ্ধি পাওয়ায় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের নজর এই অঞ্চলের স্থিতিশীলতা ও নিরাপত্তার দিকে আরও ঘনিষ্ঠভাবে নজরদারি বাড়াতে বাধ্য হচ্ছে। সামরিক প্রতিক্রিয়া, সীমান্ত নিরাপত্তা এবং নাগরিক সতর্কতা বৃদ্ধির মাধ্যমে দেশগুলো সংঘাতের প্রভাব মোকাবিলার চেষ্টা করছে।

আন্তর্জাতিক শীর্ষ সংবাদ