জাতীয় ডেস্ক
দুই দিনের সরকারি সফরে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটনে অবস্থান করছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান। তিনি মার্কিন ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্পের আমন্ত্রণে ‘ফস্টারিং দ্য ফিউচার টুগেদার: গ্লোবাল কোয়ালিশন সামিট’ শীর্ষক সম্মেলনে অংশগ্রহণ করছেন। সম্মেলনটি শিশুদের কল্যাণ ও সম্ভাবনা উন্নয়নে উচ্চপর্যায়ের সংলাপের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম হিসেবে বিবেচিত।
মঙ্গলবার ও বুধবার (২৪ ও ২৫ মার্চ) অনুষ্ঠিত সম্মেলনে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের চল্লিশের অধিক ফার্স্ট লেডি এবং রাষ্ট্রনেতাদের সহধর্মিণী অংশগ্রহণ করেন। ডা. জুবাইদা রহমান চিকিৎসক হিসেবে প্রতিটি শিশুর জন্য সহজলভ্য ও মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি জানান। তিনি শিশুদের নিরাপদ পরিবেশে বেড়ে ওঠা, ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ডের মাধ্যমে জনগণের উন্নয়ন, এবং শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতের সমৃদ্ধি আনার গুরুত্ব তুলে ধরেন।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যুক্তরাষ্ট্রের ফার্স্ট লেডি সামিটের কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করেন। ডা. জুবাইদা রহমান উদ্বোধনী সেশনে বৈশ্বিক অংশীদারদের সঙ্গে শিশুদের উন্নয়ন বিষয়ে অঙ্গীকারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক ও সহনশীল সমাজ গড়ে তোলার জন্য আন্তর্জাতিক সহযোগিতা জোরদারের আহ্বান জানান।
ডা. জুবাইদা রহমানের সফরসঙ্গী হিসেবে অনুষ্ঠানে অংশ নেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মার্কেটিং বিভাগের অধ্যাপক ড. মোর্শেদ হাসান খান, বিশিষ্ট অর্থোপেডিক সার্জন ডা. শাহ মুহাম্মদ আমান উল্লাহ এবং ব্যারিস্টার মেহনাজ মান্নান। সম্মেলনের পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষস্থানীয় ১১টি প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের অংশগ্রহণে একটি প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে শিশুদের শিক্ষার উন্নয়নে বিভিন্ন উদ্ভাবনী প্রযুক্তি উপস্থাপন করা হয়। ডা. জুবাইদা রহমান এবং তার প্রতিনিধিদল প্রদর্শনী পরিদর্শন করেন।
সেমিনার ও কার্যক্রমে তিনি উল্লেখ করেন, প্রতিটি দেশের ভবিষ্যৎ নির্ভর করে শিশুদের যত্ন, শিক্ষা এবং মূল্যবোধের ওপর। বাংলাদেশের উদাহরণ হিসেবে তিনি ফ্যামিলি কার্ড ও ফার্মার্স কার্ডের মাধ্যমে পরিবারের আর্থিক ক্ষমতায়ন এবং শিশুদের নিরাপদ পরিবেশে বেড়ে ওঠার কার্যক্রম তুলে ধরেন। একজন চিকিৎসক হিসেবে, তিনি জীবনের প্রাথমিক পর্যায় থেকে প্রতিরোধমূলক স্বাস্থ্যসেবার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন।
শিক্ষা খাতে অন্তর্ভুক্তিমূলক ও ভবিষ্যৎমুখী পদক্ষেপের মধ্যে তিনি ‘জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশন-জেডআরএফ’ এবং ‘সুরভী’র সঙ্গে কাজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার দায়িত্বশীল ব্যবহার শিক্ষাব্যবস্থাকে রূপান্তরিত করতে পারে। বাংলাদেশে সরকার শিক্ষকদের ট্যাবলেট সরবরাহ, ডিজিটাল পাঠ্যক্রম এবং উদ্ভাবনী শিক্ষণ উপকরণ প্রবর্তন করছে। এছাড়া শ্রেণিকক্ষে মাল্টিমিডিয়া বিষয়বস্তু অন্তর্ভুক্ত করার মাধ্যমে সৃজনশীলতা ও দলবদ্ধ কাজকে উৎসাহিত করা হচ্ছে।
ডা. জুবাইদা রহমান শিক্ষাপ্রযুক্তি (এডটেক) শহুরে ও গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর মধ্যে বৈষম্য কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে বলে মন্তব্য করেন। তিনি নিরাপদ ও নৈতিক প্রযুক্তি ব্যবহারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন, যাতে শিশুরা সহায়ক পরিবেশে বিকশিত হয়।
নারী ক্ষমতায়নের ক্ষেত্রে তিনি বাংলাদেশের ঐতিহ্য উল্লেখ করেন। প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সময় থেকে নারী অধিকার ও শিক্ষার প্রসার হয়েছে। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সরকারি খাতের ভিত্তি নারী কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করেছে। তিনি বলেন, নারী ক্ষমতায়ন পরিবারের শক্তিশালীকরণ এবং শিশুদের সমৃদ্ধি নিশ্চিত করে।
ডা. জুবাইদা রহমান ফার্স্ট লেডিকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, জ্ঞান বিনিময় ও সহযোগিতার মাধ্যমে দেশগুলো এবং শিশুদের ভবিষ্যৎ শক্তিশালী হয়। তিনি বিশ্বব্যাপী অংশীদারদের সঙ্গে কাজ করে নিরাপদ ডিজিটাল পরিসর সম্প্রসারণ, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, অভিভাবকদের ক্ষমতায়ন এবং শিক্ষার মান উন্নয়নের গুরুত্বের ওপর জোর দেন।
সমাপনী অধিবেশনে তিনি অংশগ্রহণ করবেন, যেখানে শিশু কল্যাণ ও শিক্ষার উন্নয়নে বৈশ্বিক অঙ্গীকার ও সহযোগিতার ওপর আলোচনার মাধ্যমে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য সমন্বিত পদক্ষেপ গ্রহণের দিকে দৃষ্টি নিবদ্ধ করা হবে।


