অর্থ বাণিজ্য ডেস্ক
দেশের স্বর্ণ বাজারে আবারও দাম কমেছে। বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) বুধবার (২৫ মার্চ) জানিয়েছে, দেশের স্বর্ণের বাজারে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) দাম কমানো হয়েছে ৫ হাজার ৪৮২ টাকা, যা নতুন করে ভরিপ্রতি ২ লাখ ৪১ হাজার ৪৪৫ টাকায় নির্ধারিত হয়েছে। নতুন এই দাম আজ সকাল ১০টা থেকে কার্যকর হয়েছে।
নতুন দর অনুযায়ী, ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৩০ হাজার ৪৮১ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি দাম ১ লাখ ৯৭ হাজার ৫৩০ টাকা। এছাড়াও, সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণের দাম ভরিতে ৫ হাজার ১৩২ টাকা কমিয়ে ১ লাখ ৬০ হাজার ৯০৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
এমন পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার আগে, গত ১৯ মার্চ দু’দফায় ভালো মানের স্বর্ণের দাম কমানো হয়েছিল মোট ১৫ হাজার ৩৩৮ টাকা। এই এক সপ্তাহের ব্যবধানে দাম আরও কিছুটা কমানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যা বাজারে ক্রেতা ও জুয়েলারিদের জন্য উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলতে পারে।
রূপার বাজারে কোনো পরিবর্তন ঘটেনি। ২২ ক্যারেটের রূপার প্রতি ভরি দাম ৫ হাজার ৩৬৫ টাকা, ২১ ক্যারেটের রূপার প্রতি ভরি ৫ হাজার ১৩২ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ৪ হাজার ৪৩২ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি ৩ হাজার ৩২৪ টাকায় বেচাকেনা হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের মূল্য, বৈদেশিক মুদ্রার মান, এবং দেশীয় চাহিদা-সাপ্লাই পরিস্থিতি এই ধরনের দাম পরিবর্তনের প্রধান কারণ। বিশেষ করে আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের মূল্য কমার ফলে দেশের বাজারেও দাম কমে যাওয়া স্বাভাবিক। এছাড়া, বিশেষ উৎসব বা ক্রেতার চাহিদা হ্রাসের সময়ও স্বর্ণের দাম সাময়িকভাবে পতিত হতে পারে।
বাংলাদেশে স্বর্ণের ক্রেতারা সাধারণত বাজারের এই ওঠাপড়ার ওপর নজর রাখেন এবং বিনিয়োগের সময় এই পরিবর্তনগুলোর ওপর ভিত্তি করে সিদ্ধান্ত নেন। জুয়েলারিদের মতে, ক্রেতারা দাম কমার সময় বিনিয়োগের সুযোগ হিসেবে স্বর্ণ কেনার দিকে বেশি মনোযোগ দেন।
বাজুসের সাম্প্রতিক প্রকাশিত নতুন দর অনুযায়ী, দেশের স্বর্ণ ব্যবসায়ীরা এখন বিক্রয় ও ক্রয়ের জন্য নতুন হিসাব অনুযায়ী কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। বাজার বিশ্লেষকরা মনে করেন, স্বর্ণের এই ধারা আগামী কয়েক সপ্তাহে আন্তর্জাতিক বাজার ও দেশীয় চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে চলতে পারে।


