চট্টগ্রাম শাহ আমানত বিমানবন্দরে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের প্রভাব, ফ্লাইট বাতিলের ফলে বিপর্যস্ত প্রবাসীরা

চট্টগ্রাম শাহ আমানত বিমানবন্দরে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের প্রভাব, ফ্লাইট বাতিলের ফলে বিপর্যস্ত প্রবাসীরা

সারাদেশ ডেস্ক

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সামরিক সংঘাতের প্রভাবে চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আন্তর্জাতিক ফ্লাইট সেবা ব্যাপকভাবে ব্যাহত হয়েছে, যা হাজার হাজার প্রবাসীর রুটি-রুজির পাশাপাশি ভ্রমণ নিরাপত্তাকেও অনিশ্চিত করে তুলেছে। বিমানবন্দরের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ২৫ মার্চ পর্যন্ত মোট ১৮৬টি আন্তর্জাতিক ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে।

বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের বরাত দিয়ে জানা গেছে, গত ২৬ দিনে ফ্লাইট বাতিলের তালিকায় যোগ হয়েছে আরও ৭টি ফ্লাইট। বাতিল হওয়া ফ্লাইটগুলোর মধ্যে রয়েছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস, ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনস এবং এয়ার আরাবিয়ার বিভিন্ন রুট। শাহ আমানত বিমানবন্দরের জনসংযোগ কর্মকর্তা প্রকৌশলী মোহাম্মদ ইব্রাহীম খলিল জানান, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতি তীব্র হওয়ায় আন্তর্জাতিক রুটে ফ্লাইট চলাচল পুনরায় স্থবির হয়ে পড়েছে।

ফ্লাইট বাতিলের কারণে প্রবাসীরা কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছেন। ফেনীর প্রবাসী সলিমুল্লাহ জানান, শারজাহগামী তার ফ্লাইট বাতিল হওয়ায় ভিসার মেয়াদ বৃদ্ধির জন্য নেয়া ঋণমুক্তি ও ধারের টাকা সব ফেলে গিয়েছে। তিনি বলেন, ‘আজ না পৌঁছালে আমার জায়গায় অন্য যাত্রীকে নেওয়া হবে। আমার পরিবারও এখন অনিশ্চিত অবস্থায় রয়েছে।’ রাউজানের প্রবাসী আরফাতের আবুধাবি রুটের ফ্লাইটও বাতিল হয়েছে। তিনি জানান, ‘তিনবার ফ্লাইটের তারিখ পরিবর্তন হয়েছে। এয়ারলাইন্স জানাচ্ছে পরিস্থিতির ওপর তাদের নিয়ন্ত্রণ নেই, কিন্তু আমাদের আর্থিক ক্ষতি বাড়ছে। চাকরি হারানোর আশঙ্কা আমাদের ভীত করছে।’

শারজাহ, দুবাই এবং আবুধাবি রুটের ফ্লাইটগুলো প্রায় পুরোপুরি স্থবির হওয়ায় চট্টগ্রামের প্রবাসীরা সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়েছেন। অনেকের ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পথে, কেউ কেউ জরুরি প্রয়োজনে দেশে ফিরতে পারছেন না। বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ জানাচ্ছেন, কিছু ফ্লাইট সচল থাকলেও তা প্রয়োজনের তুলনায় নগণ্য।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, আন্তর্জাতিক ফ্লাইট স্থবিরতার ফলে প্রবাসী শ্রমিকদের আর্থিক ও সামাজিক নিরাপত্তা ঝুঁকির মুখে পড়ছে। এই সংকট দীর্ঘায়িত হলে দেশের রেমিট্যান্স প্রবাহেও প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে, যা অভ্যন্তরীণ অর্থনীতির জন্যও চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে।

বিমানবন্দরের লাউঞ্জগুলোতে প্রবাসীরা দীর্ঘ সময় ধরে অপেক্ষা করছেন, যেখানে অনিশ্চয়তা ও হতাশার পরিবেশ বিরাজ করছে। ১৮৬টি বাতিল ফ্লাইট শুধুমাত্র বিমান পরিচালনার সমস্যা নয়; এর সঙ্গে জড়িত রয়েছে অসংখ্য পরিবার ও প্রবাসীর জীবনযাত্রার অব্যবস্থা এবং মানসিক চাপ।

চট্টগ্রাম শাহ আমানত বিমানবন্দর সূত্রে জানা যায়, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতি অব্যাহত থাকায় ফ্লাইট চলাচলের স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসার সুনির্দিষ্ট সময় এখন পর্যন্ত নির্ধারণ করা সম্ভব নয়। কর্তৃপক্ষ প্রবাসীদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখার পাশাপাশি বিকল্প ব্যবস্থা নেওয়ার চেষ্টা করছে, তবে পরিস্থিতির দ্রুত উন্নতি না হলে প্রবাসীদের আর্থিক ও মানসিক ক্ষতি অব্যাহত থাকার আশঙ্কা রয়েছে।

জাতীয় শীর্ষ সংবাদ