জ্বালানি তেলের পর্যাপ্ত মজুদ নিশ্চিত করতে বিশেষ ব্যবস্থা নিচ্ছে সরকার

জ্বালানি তেলের পর্যাপ্ত মজুদ নিশ্চিত করতে বিশেষ ব্যবস্থা নিচ্ছে সরকার

অর্থ বাণিজ্য ডেস্ক

দেশে বর্তমানে জ্বালানি তেলের এক মাসের মজুদ রয়েছে এবং মজুদ আরও বাড়াতে বিভিন্ন উৎস থেকে তেল ক্রয় করা হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে গতকাল সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত জ্বালানি তেল সংক্রান্ত বিশেষ সভা ও মন্ত্রিসভার বৈঠকের পর মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানিয়েছেন।

জ্বালানি তেলের বর্তমান মজুদ এবং সরবরাহ পরিস্থিতি বিষয়ে সচিব জানান, “আগে সাধারণত ১৫ দিনের মজুদ থাকত। বর্তমানে এক মাসের মজুদ রয়েছে। জনগণের মধ্যে কিছু ‘প্যানিক বায়িং’ দেখা দিয়েছে, তবে এটি সময়ের সঙ্গে কেটে যাবে। সরকার এই মজুদ আরও বাড়ানোর উদ্যোগ নিচ্ছে যাতে ভবিষ্যতে পর্যাপ্ত সরবরাহ নিশ্চিত করা যায়। বিশেষত বৈশ্বিক অস্থিরতার কারণে জ্বালানি ও সারের ক্ষেত্রে সম্ভাব্য প্রভাব মোকাবিলায় এটি জরুরি।”

সভায় প্রধানমন্ত্রী জ্বালানি পরিস্থিতি মোকাবেলায় করণীয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। এ সময় বর্তমান বিশ্ববাজারে মার্কিন-ইসরায়েল-ইরান যুদ্ধের প্রেক্ষাপট ও তার প্রভাবের বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে আলোচিত হয়। আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের অস্থিরতার কারণে বাংলাদেশে সরবরাহ এবং মূল্য পরিস্থিতি প্রভাবিত হচ্ছে, যা সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাত্রায় ইতোমধ্যে প্রভাব ফেলতে শুরু করেছে।

প্রধানমন্ত্রী সচিবালয়ে আগমনের পর তাঁর কিছু দাপ্তরিক কাজ সম্পন্ন করেন এবং মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে স্মারক ডাকটিকিট উন্মোচন করেন। পরে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের নিজ দপ্তরে তিনি জ্বালানি তেলের বাজার স্থিতিশীলতা ও মজুদ বৃদ্ধি সংক্রান্ত বিশেষ সভায় সভাপতিত্ব করেন।

একই দিনে মন্ত্রিপরিষদ সভায় অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত পাঁচটি অধ্যাদেশ আইন হিসেবে প্রণীত করার অনুমোদন দেওয়া হয়। মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি জানান, “অন্তর্বর্তী সরকার যে পাঁচটি অধ্যাদেশ জারি করেছিল, তা জাতীয় সংসদে উত্থাপন করে আইন হিসেবে প্রণীত করা হবে। এর মধ্যে রাজস্ব আদায়, মূল্য সংযোজন কর ও সম্পূরক শুল্ক, বিভিন্ন পণ্যে আবগারি শুল্ক প্রভৃতি বিষয় অন্তর্ভুক্ত।”

এছাড়া, চলতি ও গত অর্থবছরের সংশোধিত অর্থ আইন এবং বাজেট সংশোধন সংক্রান্ত অধ্যাদেশও আইনের আওতায় আনার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। সচিব জানান, “এই অধ্যাদেশগুলোর কার্যকর প্রণয়নের জন্য প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ও আইনগত কার্যক্রম শীঘ্রই সম্পন্ন করা হবে। জাতীয় সংসদে এগুলো আইন হিসেবে অনুমোদনের পর কার্যকর হবে।”

সরকারের এই উদ্যোগের ফলে দেশের জ্বালানি তেলের মজুদ বৃদ্ধির পাশাপাশি বাজারে স্থিতিশীলতা নিশ্চিত হওয়ার প্রত্যাশা করা হচ্ছে। পাশাপাশি, আন্তর্জাতিক বাজারের অস্থিরতা মোকাবিলায় স্থানীয় পর্যায়ে প্রস্তুতি বৃদ্ধি পাবে এবং সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনে জ্বালানি সংকটের প্রভাব কমানো সম্ভব হবে।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি বলেন, “বর্তমান এক মাসের মজুদ দেশের অস্থির পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য যথেষ্ট হলেও ভবিষ্যতে জ্বালানি সরবরাহ আরও স্থিতিশীল রাখতে সরকার বিভিন্ন উৎস থেকে তেল ক্রয়ের ব্যবস্থা করছে। এতে যেকোনো সম্ভাব্য বৈশ্বিক অস্থিরতা মোকাবিলায় প্রস্তুতি থাকবে।”

সরকারের এই পদক্ষেপগুলো দেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখার পাশাপাশি জনগণের জীবনযাত্রায় জ্বালানি তেলের পর্যাপ্ত সরবরাহ নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

জাতীয় শীর্ষ সংবাদ