দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে বাসডুবি: দুটি তদন্ত কমিটি গঠন, উদ্ধার অভিযান অব্যাহত

দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে বাসডুবি: দুটি তদন্ত কমিটি গঠন, উদ্ধার অভিযান অব্যাহত

বাংলাদেশ ডেস্ক

রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে পদ্মা নদীতে যাত্রীবাহী একটি বাস ডুবে যাওয়ার ঘটনায় সরকার দুটি পৃথক তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। বুধবার (২৫ মার্চ) দিবাগত রাত ১টার পর ঘটনাস্থলে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় ও সেতু বিভাগের প্রতিমন্ত্রী রাজিব আহসান এ তথ্য জানান। দুর্ঘটনার পরপরই উদ্ধার কার্যক্রম শুরু হয় এবং রাতভর অভিযান অব্যাহত রাখার কথা জানানো হয়েছে।

প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, কুষ্টিয়ার কুমারখালী থেকে ছেড়ে আসা ‘সৌহার্দ্য পরিবহন’-এর একটি যাত্রীবাহী বাস বিকেল আনুমানিক ৫টা ১৫ মিনিটের দিকে দৌলতদিয়া ফেরিঘাটের একটি পন্টুনে ওঠার সময় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পদ্মা নদীতে পড়ে যায়। দুর্ঘটনার খবর পাওয়ার প্রায় ২৫ মিনিটের মধ্যে, অর্থাৎ বিকেল ৫টা ৪০ মিনিটের দিকে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ)-এর উদ্ধারকারী জাহাজ ‘হামজা’ এবং ডুবুরি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করে।

উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনায় প্রতিকূল আবহাওয়া ও ঝড়ো পরিস্থিতি কিছুটা প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করলেও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সমন্বিত প্রচেষ্টায় বাসটি নদী থেকে উত্তোলন করা সম্ভব হয়েছে বলে জানানো হয়। তবে বাসে থাকা যাত্রীদের সংখ্যা, হতাহতের পরিমাণ এবং নিখোঁজ ব্যক্তিদের বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।

দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধান এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা প্রতিরোধে করণীয় নির্ধারণের লক্ষ্যে দুটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। এর মধ্যে রাজবাড়ীর অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে, যা তিন কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিল করবে। পাশাপাশি নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মহিদুল ইসলামের নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের আরেকটি তদন্ত কমিটিকেও একই সময়সীমার মধ্যে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

প্রতিমন্ত্রী জানান, দুর্ঘটনার সুনির্দিষ্ট কারণ নির্ধারণে উভয় কমিটিই পৃথকভাবে তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনা করবে। তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ও নীতিগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

এদিকে উদ্ধার অভিযান এখনো চলমান রয়েছে। বিআইডব্লিউটিএ, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স এবং বাংলাদেশ কোস্টগার্ডের সমন্বয়ে রাতভর তল্লাশি ও উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, পরদিন দিনের আলোয় আরও বিস্তৃত এলাকায় অনুসন্ধান কার্যক্রম জোরদার করা হবে, যাতে সম্ভাব্য নিখোঁজদের সন্ধান পাওয়া যায়।

নিখোঁজ ব্যক্তিদের একটি তালিকা প্রস্তুতের কাজ চলছে এবং তা পরবর্তী সময়ে প্রকাশ করা হতে পারে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র। একই সঙ্গে দুর্ঘটনাস্থলে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে এবং পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত রয়েছেন।

দৌলতদিয়া ফেরিঘাট দেশের অন্যতম ব্যস্ত নৌপথ হিসেবে পরিচিত, যেখানে প্রতিদিন বিপুল সংখ্যক যানবাহন ও যাত্রী পারাপার হয়ে থাকে। এ ধরনের দুর্ঘটনা নৌপথ ব্যবস্থাপনার নিরাপত্তা, যানবাহন নিয়ন্ত্রণ এবং ঘাট অবকাঠামোর সক্ষমতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্নের সৃষ্টি করেছে। তদন্ত প্রতিবেদনের মাধ্যমে এসব বিষয় পর্যালোচনা করে ভবিষ্যতে ঝুঁকি কমাতে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা প্রকাশ করেছেন।

জাতীয় শীর্ষ সংবাদ