ক্রীড়া ডেস্ক
বিশ্বকাপ ফুটবলের শুরু হতে আর মাত্র ৭৮ দিন বাকি, এবং তার আগে দলগুলো তাদের প্রস্তুতি চূড়ান্ত করার জন্য মাঠে নামছে। যুক্তরাষ্ট্রের বোস্টনে আজ রাতে অনুষ্ঠিতব্য প্রস্তুতি ম্যাচে মুখোমুখি হচ্ছে ব্রাজিল ও ফ্রান্স, যা ফুটবল সমর্থকদের মধ্যে বিশেষ উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে।
ব্রাজিল ও ফ্রান্সের মধ্যে এটি ১১ বছর পর সরাসরি মুখোমুখি লড়াই। সর্বশেষবার এই দুই দল মুখোমুখি হয়েছিল ২০১২ সালের আন্তর্জাতিক ম্যাচে, যেখানে ব্রাজিল জয়ী হয়েছিল। তবে অনেকের মনে এখনও তাজা রয়েছে ২০০৬ সালের বিশ্বকাপ কোয়ার্টার ফাইনাল, যেখানে জিনেদিন জিদানের দারুণ পারফরম্যান্সে ফ্রান্স ১-০ গোলে ব্রাজিলকে হারিয়েছিল।
ব্রাজিলের পরিস্থিতি সাম্প্রতিক সময়ে কিছুটা চ্যালেঞ্জিং ছিল। বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে ১৮ ম্যাচের মধ্যে ছয়টিতে পরাজিত হয়ে তারা পঞ্চম স্থানে থেকে মূল পর্বের টিকিট নিশ্চিত করেছিল। তবে দলটির কোচ কার্লো আনচেলোত্তির দায়িত্বগ্রহণের পর শঙ্কার মেঘ কেটে গেছে এবং নতুন আশার আলো দেখা দিয়েছে। ২০০২ সালের পর আবারও ‘হেক্সা’ শিরোপা জয়ের লক্ষ্য নিয়ে দলটি প্রস্তুতি নিচ্ছে।
দলে অভিজ্ঞ খেলোয়াড় নেইমার এখনও আনচেলোত্তির দলে স্থায়ী জায়গা তৈরি করতে পারেননি, তবে সমর্থকদের আশা, তিনি বিশ্বকাপে খেলবেন। নেইমারের অনুপস্থিতিতে দলের মূল কৌশলগত খেলোয়াড় হিসেবে দায়িত্বে রয়েছেন ভিনিসিয়ুস জুনিয়র এবং রাফিনিয়া। তবে ফ্রান্সের বিপক্ষে চোটের কারণে দলে নেই অভিজ্ঞ গোলরক্ষক আলিসন বেকার এবং ডিফেন্ডার গ্যাব্রিয়েল মাগালেস।
ফ্রান্সের দৃষ্টি পুরোপুরি কিলিয়ান এমবাপ্পের ওপর নিবদ্ধ। রিয়াল মাদ্রিদের ফরোয়ার্ড চোট কাটিয়ে জাতীয় দলে ফিরেছেন এবং বিশ্বকাপের জন্য প্রস্তুত রয়েছেন। এটাই ফরাসি কোচ দিদিয়ের দেশমের শেষ বিশ্বকাপ, এবং তিনি তার শেষ আন্তর্জাতিক আসরটি সফল করতে চাইবেন।
আজকের প্রস্তুতি ম্যাচটি মূল বিশ্বকাপ লড়াইয়ের আগে উভয় দলের জন্য শক্তি ও কৌশলের পরীক্ষার ভূমিকা রাখবে। সমর্থকরা বিশেষভাবে আগ্রহী যে কে কতটা প্রস্তুত এবং আসন্ন বিশ্বকাপে কেমন পারফরম্যান্স দেখাতে সক্ষম হবে তা দেখা। ম্যাচটি দুই দলের কৌশলগত সমন্বয়, খেলোয়াড়দের ফর্ম এবং দলগত প্রস্তুতির একটি গুরুত্বপূর্ণ সূচক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
এই প্রস্তুতি ম্যাচ থেকে পাওয়া ফলাফল ও পারফরম্যান্স বিশ্লেষণ বিশ্বকাপ শুরুর আগে উভয় দলের কৌশল এবং প্লেয়ার নির্বাচনে প্রভাব ফেলবে। ফুটবল বিশ্লেষকরা আশা করছেন, ম্যাচটি সমর্থকদের জন্য একটি স্বচ্ছ ধারণা দিবে যে, কোন দল আন্তর্জাতিক আসরে তাদের সেরাটা প্রদর্শন করতে প্রস্তুত।


