যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধবিরতি প্রস্তাব ইরানের প্রত্যাখ্যান, আলোচনায় অগ্রগতি নেই

যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধবিরতি প্রস্তাব ইরানের প্রত্যাখ্যান, আলোচনায় অগ্রগতি নেই

অন্তর্জাতিক ডেস্ক

যুক্তরাষ্ট্র সংঘাত কমানোর লক্ষ্য নিয়ে ইরানের কাছে যুদ্ধবিরতির একটি প্রস্তাব পাঠিয়লেও তা এখনও বাস্তব অগ্রগতি অর্জন করতে পারেনি। সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর শর্ত ও দাবিকে কেন্দ্র করে ব্যাপক মতপার্থক্য তৈরি হয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, ইরান শান্তি আলোচনায় আগ্রহী হলেও প্রকাশ্যে তা স্বীকার করতে ভয় পাচ্ছে।

বুধবার কংগ্রেসের রিপাবলিকান সদস্যদের সঙ্গে এক নৈশভোজে ট্রাম্প বলেন, ইরানি আলোচকরা আশঙ্কা করছেন, নিজেদের পক্ষের লোকজনই তাদের ক্ষতি করতে পারে। তিনি বলেন, “ইরানি আলোচকরা নিজেদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন। এ কারণেই তেহরান আমাদের যুদ্ধবিরতি প্রস্তাব গ্রহণ করেনি।” তবে ট্রাম্প এও মন্তব্য করেন, “তারা আলোচনা করছে এবং চুক্তি করতে আগ্রহী, কিন্তু প্রকাশ্যে তা বলতে ভয় পাচ্ছে।”

এদিকে, ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, দেশটির পক্ষ থেকে কোনো আলোচনার ইচ্ছা নেই। আরাগচি বলেছেন, মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে বার্তা আদান-প্রদানের অর্থ যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা নয়। তিনি আরও বলেন, “তাদের বার্তায় কিছু ধারণা তুলে ধরা হয়েছে যা শীর্ষ কর্তৃপক্ষের কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। প্রয়োজনে আমরা আমাদের অবস্থান ঘোষণা করব।”

হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প পাকিস্তানের মাধ্যমে ইরানকে ১৫-দফা প্রস্তাব পাঠিয়েছেন। এতে ইরানের উচ্চ-সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুদ অপসারণ, ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ বন্ধ, ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি নিয়ন্ত্রণ এবং আঞ্চলিক মিত্রদের জন্য অর্থায়ন বন্ধ করার আহ্বান জানানো হয়েছে। তবে হোয়াইট হাউস প্রস্তাবের বিস্তারিত প্রকাশ করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে এবং সম্ভাব্য হামলা বাড়ানোর হুমকিও দিয়েছে।

হোয়াইট হাউসের প্রেসসচিব ক্যারোলিন লেভিট বলেন, “ইরান যদি বুঝতে ব্যর্থ হয় যে তারা সামরিকভাবে পরাজিত হয়েছে এবং ভবিষ্যতেও পরাজয় ভোগ করবে, তাহলে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প নিশ্চিত করবেন যে, তাদের আরও কঠোর আঘাত দেওয়া হবে।”

মার্কিন প্রেসিডেন্টের মন্তব্যের প্রেক্ষিতে ট্রাম্প আরও বলেন, “চতুর্থ সপ্তাহে এই সংঘাত চলছে, যা ইরানের জন্য ধ্বংসাত্মক প্রভাব সৃষ্টি করছে। তবে তেহরান এখনও গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ ধরে রেখেছে।” তিনি যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ বিরোধীদেরও সমালোচনা করেছেন এবং দাবি করেছেন যে, ডেমোক্র্যাটরা সামরিক অভিযানে যুক্তরাষ্ট্রের অর্জিত সাফল্য থেকে দৃষ্টি সরানোর চেষ্টা করছে।

একজন ঊর্ধ্বতন ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ইরান ১৫-দফা প্রস্তাবে রাজি হবে কি না তা নিয়ে ইসরায়েল সন্দিহান। মার্কিন আলোচকরা শর্তগুলোতে ছাড় দিতে পারে বলে তারা উদ্বিগ্ন। একই সঙ্গে ইসরায়েল চায় যে, যেকোনো চুক্তিতে আগাম হামলা চালানোর বিকল্প সংরক্ষিত থাকবে।

ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের বরাত দিয়ে জানা গেছে, দেশটি মার্কিন প্রস্তাবটি পর্যালোচনা করেছে, কিন্তু মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত সমাপ্তির জন্য সরাসরি আলোচনা করার কোনো ইচ্ছা তাদের নেই।

এভাবে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবনা থাকা সত্ত্বেও ইরান এবং মার্কিন প্রশাসনের মধ্যে মূল দ্বন্দ্ব ও নিরাপত্তা সংশয় অব্যাহত রয়েছে। পরিস্থিতি নির্দেশ করছে যে, মধ্যপ্রাচ্যে এই সংঘাত দ্রুত সমাধান পাওয়ার সম্ভাবনা নেই এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য জটিল পরিস্থিতি দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে।

আন্তর্জাতিক শীর্ষ সংবাদ