জাতীয় ডেস্ক
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সংসদ সদস্য ড. আবদুল মঈন খান বলেছেন, দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে বিজয় অর্জিত হলে বিএনপি দ্রুত সময়ের মধ্যে মুক্তিযুদ্ধের মূল আদর্শ বাস্তবায়নে কাজ করবে। বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) নরসিংদীর পলাশ উপজেলায় ৫৫তম স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
সভায় বক্তব্য দিতে গিয়ে ড. মঈন খান বলেন, বিএনপি প্রতিষ্ঠার পর থেকে স্বাধীনতার চেতনা, জাতীয়তাবাদ এবং রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব রক্ষাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে আসছে। তিনি দাবি করেন, দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে বিভিন্ন সময় গণতন্ত্র রক্ষায় দলটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে এবং ভবিষ্যতেও সেই অবস্থান অব্যাহত রাখবে।
তিনি বলেন, স্বাধীনতার পাঁচ দশকের বেশি সময় অতিক্রান্ত হলেও মুক্তিযুদ্ধের ঘোষিত আদর্শ—সাম্য, মানবিক মর্যাদা এবং সামাজিক ন্যায়বিচার—পুরোপুরি বাস্তবায়িত হয়নি। সমাজে বিদ্যমান বৈষম্য দূরীকরণে কার্যকর উদ্যোগের প্রয়োজন রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। তার মতে, বৈষম্যমুক্ত ও অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ প্রতিষ্ঠা এখনও একটি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে রয়ে গেছে।
ড. মঈন খান দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের বিভিন্ন পর্যায় তুলে ধরে বলেন, স্বাধীনতার পরবর্তী সময়ে একদলীয় শাসনব্যবস্থা এবং পরবর্তী সামরিক শাসনের ফলে গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলো দুর্বল হয়ে পড়ে। এসব অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে গণতান্ত্রিক কাঠামোকে শক্তিশালী করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে রাষ্ট্র পরিচালনার ক্ষেত্রে নানা সীমাবদ্ধতা ও চ্যালেঞ্জ দেখা দিয়েছে, যার প্রভাবে নাগরিক অধিকার ও সুশাসনের প্রশ্নে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া শক্তিশালী না হলে উন্নয়ন টেকসই হয় না এবং নাগরিকদের অংশগ্রহণও সীমিত হয়ে পড়ে।
বক্তব্যে তিনি দেশে বিদ্যমান অর্থনৈতিক ও সামাজিক বৈষম্যের বিষয়টিও তুলে ধরেন। ধনী-গরিবের ব্যবধান, আঞ্চলিক বৈষম্য এবং নারী-পুরুষের মধ্যে অসমতার বিষয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, পাহাড়ি, উপকূলীয় ও প্রত্যন্ত অঞ্চলের জনগণ এখনও পর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত। এসব বৈষম্য দূর করতে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা ও কার্যকর নীতি প্রণয়নের প্রয়োজন রয়েছে বলে তিনি মত দেন।
আলোচনা সভায় বিএনপি ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের স্থানীয় নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এ ধরনের কর্মসূচিতে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস ও তাৎপর্য তুলে ধরা হয় এবং দেশের বর্তমান ও ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট নিয়েও আলোচনা হয়।
স্বাধীনতার ৫৫ বছর পূর্তিতে দেশের রাজনৈতিক দলগুলো মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ পুনর্ব্যক্ত করছে। এ প্রেক্ষাপটে বিভিন্ন রাজনৈতিক বক্তব্যে রাষ্ট্র পরিচালনা, গণতন্ত্রের চর্চা এবং সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার বিষয়গুলো গুরুত্ব পাচ্ছে, যা ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে প্রভাব ফেলতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।


