বাংলাদেশ ডেস্ক
রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ৩ নম্বর ফেরিঘাট এলাকায় বাসডুবির ঘটনায় উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে এবং এ পর্যন্ত ২৬ জনের মরদেহ উদ্ধার করে স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) বিকেলে ঘটনাস্থল পরিদর্শনে গিয়ে সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, উদ্ধার কার্যক্রম এখনও চলমান রয়েছে এবং পরবর্তী কয়েক দিন পর্যন্ত অভিযান অব্যাহত থাকতে পারে।
প্রতিমন্ত্রী জানান, দুর্ঘটনার পরপরই সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো সমন্বিতভাবে উদ্ধার কার্যক্রম শুরু করে। বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ), বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন করপোরেশন (বিআইডব্লিউটিসি), ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স, কোস্ট গার্ড, জেলা প্রশাসন এবং জেলা পুলিশের সদস্যরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত থেকে উদ্ধার তৎপরতায় অংশ নেন। এছাড়া স্থানীয় জনগণ ও বিভিন্ন সংগঠনের প্রতিনিধিরাও সহায়তা প্রদান করেন। সম্মিলিত প্রচেষ্টার ফলে উদ্ধার কার্যক্রম দ্রুত অগ্রসর হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
ঘটনার প্রেক্ষাপটে প্রতিমন্ত্রী বলেন, দৌলতদিয়ায় সংঘটিত এ ধরনের দুর্ঘটনা অত্যন্ত মর্মান্তিক এবং তা প্রতিরোধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ জরুরি। তিনি জানান, নদীপথে যাতায়াত ও ঘাট ব্যবস্থাপনায় বিদ্যমান সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে তা সমাধানে সরকার কাজ করছে। বিশেষ করে ঘাট ব্যবস্থাপনাকে আরও আধুনিক ও নিরাপদ করার লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ মাঠপর্যায়ে পরিদর্শন ও মূল্যায়ন কার্যক্রম পরিচালনা করছে।
তিনি আরও বলেন, দীর্ঘদিন ধরে কিছু কাঠামোগত ও ব্যবস্থাপনাগত সীমাবদ্ধতা বিদ্যমান রয়েছে, যা উন্নয়নের মাধ্যমে দূর করা প্রয়োজন। নদীভাঙন প্রতিরোধ, নৌযান চলাচলের নিরাপত্তা এবং ঘাট এলাকার অবকাঠামো উন্নয়নে পরিকল্পিত উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এ লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট সংস্থার কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলসহ আশপাশের এলাকা পরিদর্শন করছেন এবং ভবিষ্যতে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য তথ্য সংগ্রহ করছেন।
উদ্ধার কার্যক্রম সম্পর্কে প্রতিমন্ত্রী বলেন, নদীতে ডুবে যাওয়া যানবাহন ও নিখোঁজ ব্যক্তিদের সন্ধানে অনুসন্ধান চালিয়ে যাওয়া হচ্ছে। অতীতে এমন ঘটনায় কয়েক দিন পরও মরদেহ উদ্ধার হওয়ার নজির রয়েছে। এ কারণে উদ্ধার অভিযান শেষ ঘোষণা না দেওয়া পর্যন্ত অনুসন্ধান কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, দ্রুত সময়ের মধ্যে নিখোঁজদের বিষয়ে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যাবে।
দুর্ঘটনার কারণ সম্পর্কে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু না জানালেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বিষয়টি তদন্ত করছে বলে জানা গেছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, ফেরিঘাট এলাকায় যানবাহন ওঠানামার সময় কোনো ত্রুটি বা অসতর্কতার কারণে এ দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। তদন্ত শেষে প্রকৃত কারণ নির্ধারণ করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দৌলতদিয়া ফেরিঘাট দেশের অন্যতম ব্যস্ত নৌপথের অংশ, যেখানে প্রতিদিন অসংখ্য যাত্রী ও যানবাহন পারাপার হয়। এ কারণে এখানে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা এবং সুশৃঙ্খল ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
ঘটনাস্থল পরিদর্শনের সময় নৌ পুলিশ, বিআইডব্লিউটিএ ও বিআইডব্লিউটিসির কর্মকর্তারা, গোয়ালন্দ ঘাট থানার পুলিশ সদস্য, ফায়ার সার্ভিসের কর্মী এবং স্থানীয় প্রশাসনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। তারা উদ্ধার কার্যক্রমের অগ্রগতি সম্পর্কে প্রতিমন্ত্রীকে অবহিত করেন এবং ভবিষ্যৎ করণীয় বিষয়ে আলোচনা করেন।
এ ঘটনায় শোকাহত পরিবারগুলোর প্রতি সমবেদনা জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তায় সরকার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে এ ধরনের দুর্ঘটনা প্রতিরোধে সমন্বিত উদ্যোগ জোরদার করা হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।


