পলাশবাড়ী থানায় হামলা: জামায়াত নেতা মিজান গ্রেপ্তার, মামলায় আসামি ২১ জন

পলাশবাড়ী থানায় হামলা: জামায়াত নেতা মিজান গ্রেপ্তার, মামলায় আসামি ২১ জন

সারাদেশ ডেস্ক

গাইবান্ধার পলাশবাড়ী থানায় ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি)সহ পুলিশ সদস্যদের ওপর হামলার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় মিজানুর রহমান মিজান (৩৫) নামে এক জামায়াত নেতাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শুক্রবার (২৭ মার্চ) ভোররাতে থানা পুলিশ ও ডিবি পুলিশের যৌথ অভিযানে উপজেলার গৃধারীপুর গ্রামে নিজ বাড়ি থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। বিষয়টি দুপুরে নিশ্চিত করেন পলাশবাড়ী থানার ওসি খান সারোয়ারে আলম।

পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তারকৃত মিজানুর রহমান মিজান পলাশবাড়ী উপজেলা জামায়াতের পেশাজীবী বিভাগের সেক্রেটারি। তিনি পূর্বে পলাশবাড়ী পৌর জামায়াতের আমির এবং উপজেলা ছাত্রশিবিরের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছেন। মামলায় তাকে অজ্ঞাতনামা আসামি হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

মামলার বিবরণ অনুযায়ী, গত ২৫ মার্চ রাত আনুমানিক ১০টার দিকে পলাশবাড়ী উপজেলা জামায়াতের যুব বিভাগের বায়তুল মাল সম্পাদক মাহমুদুল হাসান পলাশ কয়েকজন যুবককে সঙ্গে নিয়ে একটি লিখিত অভিযোগ নিয়ে থানায় যান। এ সময় ওসির সঙ্গে কথোপকথনের একপর্যায়ে উভয় পক্ষের মধ্যে তর্কবিতর্কের সৃষ্টি হয়। পুলিশ দাবি করেছে, অভিযোগ নিয়ে আসা ব্যক্তিরা একটি চলমান ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ করার বিষয়ে ওসির ওপর চাপ প্রয়োগ করেন। এ বিষয়ে ওসি সম্মত না হলে পরিস্থিতি উত্তেজিত হয়ে ওঠে।

একপর্যায়ে অভিযোগকারী পক্ষের লোকজন ওসির ওপর চড়াও হন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এতে ওসিসহ উপস্থিত পুলিশ সদস্যদের মারধর করা হয়। পুলিশ সদস্যরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করলে তাদের ওপরও হামলা চালানো হয়। এ ঘটনায় এক নারী কনস্টেবলসহ মোট নয়জন পুলিশ সদস্য আহত হন।

ঘটনার পরদিন ২৬ মার্চ আহত সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) রুহুল আমিন বাদী হয়ে পলাশবাড়ী থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলায় নয়জনের নাম উল্লেখ করে এবং আরও ১২ থেকে ১৩ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়।

মামলার প্রধান আসামি করা হয়েছে মাহমুদুল হাসান পলাশকে (৩৫)। এছাড়া নামীয় আসামিদের মধ্যে রয়েছেন মাহফুজ রহমান সিনহা (২৮), তৌহিদুল ইসলাম কানন (৩৩), মেহেদী হাসান (৩৫), সাদ্দাম হোসেন (৩০) ও শাওন (৩৫)। একই সঙ্গে গোলজার রহমান (৩২), সবুজ মিয়া (৩২) ও আব্দুল মালেককে (৩৭) মামলার আসামি করা হয়েছে।

ঘটনার দিনই ঘটনাস্থল থেকে তৌহিদুল ইসলাম নামে একজনকে আটক করা হয়। পরে তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। এই মামলায় এ পর্যন্ত দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যান্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।

স্থানীয় প্রশাসনের সূত্রে জানা গেছে, থানায় হামলার মতো ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির ওপর প্রভাব পড়তে পারে। তাই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করছে। ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত শেষে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

শীর্ষ সংবাদ সারাদেশ