বাংলাদেশ ডেস্ক
জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন বীর বিক্রমের সহধর্মিণী মিসেস দিলারা হাফিজ গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। শুক্রবার (২৭ মার্চ) সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, তার শারীরিক অবস্থা সংকটাপন্ন হওয়ায় বর্তমানে তাকে ভেন্টিলেশন সাপোর্টে রাখা হয়েছে। উন্নত চিকিৎসার লক্ষ্যে সম্প্রতি তাকে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে সিঙ্গাপুরে নেওয়া হয়।
জানা গেছে, মিসেস দিলারা হাফিজ দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন শারীরিক জটিলতায় ভুগছিলেন। তার অবস্থার অবনতি ঘটলে প্রথমে ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) চিকিৎসা নেওয়া হয়। সেখানে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে তার চিকিৎসা চললেও আশানুরূপ উন্নতি না হওয়ায় চিকিৎসকদের পরামর্শে তাকে বিদেশে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। পরবর্তীতে ঈদুল ফিতরের দিন দুপুরে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সের মাধ্যমে তাকে সিঙ্গাপুরে স্থানান্তর করা হয়।
সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তির পর তার শারীরিক অবস্থার আরও অবনতি হওয়ায় নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয় এবং পরবর্তীতে ভেন্টিলেশন সাপোর্ট দেওয়া হয়। চিকিৎসকরা তার শারীরিক অবস্থার সার্বিক উন্নয়নে নিবিড়ভাবে কাজ করছেন বলে জানা গেছে। হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, আগামীকাল (শনিবার) সকালে একটি মেডিকেল বোর্ডের বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে, যেখানে তার বর্তমান শারীরিক অবস্থার সর্বশেষ মূল্যায়ন করা হবে এবং পরবর্তী চিকিৎসা পরিকল্পনা নির্ধারণ করা হতে পারে।
চিকিৎসা সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, ভেন্টিলেশনে থাকা রোগীদের ক্ষেত্রে পরিস্থিতি অত্যন্ত সংবেদনশীল থাকে এবং প্রতিনিয়ত শারীরিক অবস্থার পরিবর্তন পর্যবেক্ষণ করা হয়। এ ধরনের অবস্থায় চিকিৎসক দল রোগীর শ্বাস-প্রশ্বাস, রক্তচাপসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ শারীরবৃত্তীয় সূচক নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করে থাকে। ফলে মেডিকেল বোর্ডের সিদ্ধান্তের ওপরই পরবর্তী চিকিৎসা কার্যক্রম নির্ভর করবে।
এদিকে একই হাসপাতালে পৃথকভাবে চিকিৎসাধীন রয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস। তিনি বর্তমানে করোনারি কেয়ার ইউনিটে (সিসিইউ) চিকিৎসা নিচ্ছেন বলে জানা গেছে। চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে তার শারীরিক অবস্থার উন্নতি হয়েছে এবং আগের তুলনায় তিনি অনেকটাই স্থিতিশীল রয়েছেন। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী আগামী কয়েক দিনের মধ্যে তাকে সিসিইউ থেকে কেবিনে স্থানান্তর করা হতে পারে।
স্বাস্থ্যসেবায় উন্নত প্রযুক্তি ও বিশেষায়িত চিকিৎসা সুবিধার কারণে গুরুতর রোগীদের বিদেশে নেওয়ার প্রবণতা বাংলাদেশে নতুন নয়। বিশেষ করে জটিল রোগের ক্ষেত্রে সিঙ্গাপুরসহ বিভিন্ন দেশের আধুনিক হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসা গ্রহণের নজির রয়েছে। এ ধরনের সিদ্ধান্ত সাধারণত রোগীর অবস্থার গুরুত্ব এবং দেশীয় চিকিৎসায় সম্ভাব্য সীমাবদ্ধতা বিবেচনা করেই নেওয়া হয়।
মিসেস দিলারা হাফিজের শারীরিক অবস্থার সর্বশেষ অগ্রগতি জানতে সংশ্লিষ্ট মহল ও পরিবারের সদস্যরা চিকিৎসকদের পরবর্তী ব্রিফিংয়ের অপেক্ষায় রয়েছেন। চিকিৎসা বোর্ডের পরবর্তী সিদ্ধান্তের ওপর তার চিকিৎসার দিকনির্দেশনা নির্ভর করবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।


